Dhaka ১০:৫৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬, ১৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

টিকটক করায় কিশোরী মেয়েকে খুন করলেন বাবা

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ১১:৩০:৪১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৫
  • / 161

পাকিস্তানের কোয়েটায় সম্প্রতি এক মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। সেখানে এক বাবা টিকটক ভিডিও নিয়ে আপত্তির কারণে তার কিশোরী মেয়েকে গুলি করে হত্যা করেছেন। হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তারও হন তিনি। তার নাম আনোয়ার উল-হক।

মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়া এই বাবা হত্যার কথা স্বীকার করে বলেছেন, তার মেয়ের টিকটক ভিডিও তার কাছে ‘আপত্তিকর’ মনে হয়েছে।

টিকটক ভিডিও বানানোর কারণে পরিবারে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। আনোয়ার উল-হক প্রাথমিকভাবে এটি অন্য কারও কাজ বলে দাবি করেছিলেন, তবে পরে তিনি নিজেই হত্যার দায় স্বীকার করেন।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র থেকে পরিবারকে পাকিস্তানে ফিরিয়ে আনার পরই আনোয়ার এ হত্যাকাণ্ড ঘটান বলে বিবিসি-কে জানিয়েছে পুলিশ।

বাবার অভিযোগ, টিকটকে ভিডিও পোস্ট করার কারণে তার মেয়ে হীরা আনোয়ারকে হত্যা করেছেন তিনি।

পুলিশের এক মুখপাত্র বলেছেন, ১৩ থেকে ১৪ বছর বয়সী হীরার পোশাক,জীবনযাপন, চলাফেরা নিয়ে পরিবারের আপত্তি ছিল। হীরার পরিবার প্রায় ২৫ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বাস করত।

হীরা তার পরিবারের সঙ্গে পাকিস্তানে ফিরে আসার আগে থেকেই টিকটকে বিভিন্ন ভিডিও বানাতেন।

তদন্তকারীরা বলছেন, হীরার ফোন তাদের হাতে এসেছে তবে সেটি লক করা। পুলিশ জানিয়েছে, হীরা হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে অভিযুক্ত আনোয়ারের শ্যালককেও আটক করা হয়েছে।

পুলিশ বলছে, তারা নানা দিক থেকে হত্যার ঘটনাটি খতিয়ে দেখছেন। ঘটনাটি পরিবারের সম্মান রক্ষার্থে হত্যা কিনা সে সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাকিস্তানে ‘অনার কিলিং’ বা ‘সম্মান রক্ষার নামে হত্যা’ খুবই সাধারণ ঘটনা।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর হিসাবমতে, পাকিস্তানে প্রতি বছর বহু নারী ‘অনার কিলিং’ (পরিবারের সম্মান রক্ষার্থে খুন)-এর শিকার হন। সাধারণত আত্মীয়রা এ হত্যাকাণ্ড ঘটায়।

হীরা হত্যার ঘটনাটি সম্মান রক্ষার্থে হত্যা হয়ে থাকলে এবং এ ঘটনায় জড়িতরা দোষী সাব্যস্ত হলে তাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে।

২০১৬ সালে পাকিস্তান সরকার আইন পরিবর্তন করে এই ধরনের হত্যাকাণ্ডে দোষী সাব্যস্তদের জন্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের ব্যবস্থা করেছে। এর আগে ‘পরিবারের সম্মান রক্ষার্থে’ কাউকে খুন করলে পরিবার দোষীকে ক্ষমা করে দিলে তারা শাস্তি এড়াতে পারতেন।

২০২৩ সালে ইতালির একটি আদালত তাদের ১৮ বছর বয়সী মেয়েকে হত্যার অভিযোগে এক পাকিস্তানি দম্পতিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

টিকটক করায় কিশোরী মেয়েকে খুন করলেন বাবা

প্রকাশের সময় : ১১:৩০:৪১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৫

পাকিস্তানের কোয়েটায় সম্প্রতি এক মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। সেখানে এক বাবা টিকটক ভিডিও নিয়ে আপত্তির কারণে তার কিশোরী মেয়েকে গুলি করে হত্যা করেছেন। হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তারও হন তিনি। তার নাম আনোয়ার উল-হক।

মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়া এই বাবা হত্যার কথা স্বীকার করে বলেছেন, তার মেয়ের টিকটক ভিডিও তার কাছে ‘আপত্তিকর’ মনে হয়েছে।

টিকটক ভিডিও বানানোর কারণে পরিবারে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। আনোয়ার উল-হক প্রাথমিকভাবে এটি অন্য কারও কাজ বলে দাবি করেছিলেন, তবে পরে তিনি নিজেই হত্যার দায় স্বীকার করেন।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র থেকে পরিবারকে পাকিস্তানে ফিরিয়ে আনার পরই আনোয়ার এ হত্যাকাণ্ড ঘটান বলে বিবিসি-কে জানিয়েছে পুলিশ।

বাবার অভিযোগ, টিকটকে ভিডিও পোস্ট করার কারণে তার মেয়ে হীরা আনোয়ারকে হত্যা করেছেন তিনি।

পুলিশের এক মুখপাত্র বলেছেন, ১৩ থেকে ১৪ বছর বয়সী হীরার পোশাক,জীবনযাপন, চলাফেরা নিয়ে পরিবারের আপত্তি ছিল। হীরার পরিবার প্রায় ২৫ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বাস করত।

হীরা তার পরিবারের সঙ্গে পাকিস্তানে ফিরে আসার আগে থেকেই টিকটকে বিভিন্ন ভিডিও বানাতেন।

তদন্তকারীরা বলছেন, হীরার ফোন তাদের হাতে এসেছে তবে সেটি লক করা। পুলিশ জানিয়েছে, হীরা হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে অভিযুক্ত আনোয়ারের শ্যালককেও আটক করা হয়েছে।

পুলিশ বলছে, তারা নানা দিক থেকে হত্যার ঘটনাটি খতিয়ে দেখছেন। ঘটনাটি পরিবারের সম্মান রক্ষার্থে হত্যা কিনা সে সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাকিস্তানে ‘অনার কিলিং’ বা ‘সম্মান রক্ষার নামে হত্যা’ খুবই সাধারণ ঘটনা।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর হিসাবমতে, পাকিস্তানে প্রতি বছর বহু নারী ‘অনার কিলিং’ (পরিবারের সম্মান রক্ষার্থে খুন)-এর শিকার হন। সাধারণত আত্মীয়রা এ হত্যাকাণ্ড ঘটায়।

হীরা হত্যার ঘটনাটি সম্মান রক্ষার্থে হত্যা হয়ে থাকলে এবং এ ঘটনায় জড়িতরা দোষী সাব্যস্ত হলে তাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে।

২০১৬ সালে পাকিস্তান সরকার আইন পরিবর্তন করে এই ধরনের হত্যাকাণ্ডে দোষী সাব্যস্তদের জন্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের ব্যবস্থা করেছে। এর আগে ‘পরিবারের সম্মান রক্ষার্থে’ কাউকে খুন করলে পরিবার দোষীকে ক্ষমা করে দিলে তারা শাস্তি এড়াতে পারতেন।

২০২৩ সালে ইতালির একটি আদালত তাদের ১৮ বছর বয়সী মেয়েকে হত্যার অভিযোগে এক পাকিস্তানি দম্পতিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়।