মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সত্যানুসন্ধান মোদের অঙ্গীকার Jonotar Adalot
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
ধ্বংসস্তূপ থেকে স্বাস্থ্যখাতের অগ্রযাত্রা শুরু করেছে সরকার: রাষ্ট্রপতি আসামে হোটেলের ইজারা নিয়ে বিরোধ, ৫ জনকে গুলি করে হত্যা নওগাঁ সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ৮৯ বোতল ভারতীয় ফায়ারডিল জব্দ ৪৪ বছর পর ফিরছে গ্রাম সরকার, গুরুত্ব পাবেন বিএনপির ত্যাগীরা টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে ১০ মৃত্যুতেও জামিনযোগ্য ধারায় মামলা, ওসিকে তলব ২২ বছরে ‘ক্রসফায়ার’ ও ‘কথিত বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ২৯৫৭ জাপান-বাংলাদেশ বন্ধুত্ব হবে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির চালিকাশক্তি: প্রধানমন্ত্রী দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থান সম্প্রসারণে কাজ করছে সরকার: জনপ্রশাসন উপদেষ্টা মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নাম বদলে ‘নারী ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়’ আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে সিপিবি কার্যালয়ে হামলা

আসামে হোটেলের ইজারা নিয়ে বিরোধ, ৫ জনকে গুলি করে হত্যা

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ১২:০২:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
  • / 8

 

ভারতের আসামের গুয়াহাটিতে একটি হোটেলের ইজারা নিয়ে বিরোধের জেরে এক নারীসহ পাঁচজনকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় আরও একজন গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে গুয়াহাটির ব্যস্ত জিএস রোডের ‘হোটেল বিলাস ইন’-এ এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

ঘটনার পরপরই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় ঘনকান্ত গগৈ নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গুলিচালনায় গ্রেফতার ব্যক্তির লাইসেন্সপ্রাপ্ত পিস্তল ব্যবহার করা হয়েছে। গুয়াহাটি পুলিশের কমিশনার পার্থসারথি মহন্ত জানিয়েছেন, হোটেল বিলাস ইন-এর ইজারা নিয়ে বিরোধের জের ধরে এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তবে বিরোধের প্রকৃত কারণ এবং হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

পুলিশ এখনো নিহতদের পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি। তবে বিভিন্ন সূত্রের দাবি, নিহতদের মধ্যে হোটেলটির মালিক হেলেনা ভরালি, তার ছেলে দেবর্ষি কাশ্যপ এবং তার দাদা ভূদেব ভরালি রয়েছেন। নিহতদের অধিকাংশই একই পরিবারের সদস্য বলে জানা গেছে। ফলে হোটেলের ইজারা নিয়ে বিরোধের পাশাপাশি পারিবারিক দ্বন্দ্বের বিষয়টিও তদন্তের আওতায় এনেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার রাত ৯টার দিকে হোটেলটির পাশের একটি সরু গলিতে গুলিচালনার ঘটনা ঘটে। গলিটি একটি স্বর্ণালংকারের বিপণির কাছাকাছি অবস্থিত। হঠাৎ গুলির শব্দে আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান ও তদন্ত শুরু করে।

প্রাথমিকভাবে ঘটনাস্থল থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে আহতদের অবস্থা ও পরবর্তী তথ্যের ভিত্তিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে পাঁচে দাঁড়ায়। মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য গুয়াহাটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ কমিশনার পার্থসারথি মহন্ত।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, হামলাকারী অন্তত সাত রাউন্ড গুলি ছুড়েছিলেন। প্রথমে একজনকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয় বলে দাবি করা হচ্ছে। তাঁকে রক্ষা করতে কিংবা হামলা থামাতে অন্যরা এগিয়ে এলে তাদেরও গুলি করা হয়ে থাকতে পারে। তবে কে প্রথম হামলার লক্ষ্য ছিলেন এবং ঠিক কী পরিস্থিতিতে অন্যরা গুলিবিদ্ধ হন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত ঘনকান্ত গগৈ প্রায় এক বছর আগে হোটেল বিলাস ইন ইজারা নিয়েছিলেন। সেই ইজারা নিয়ে কী ধরনের বিরোধ তৈরি হয়েছিল, বিরোধের সঙ্গে নিহতদের কার কী সম্পর্ক ছিল এবং ঘটনার আগে উভয় পক্ষের মধ্যে কোনো সংঘাত হয়েছিল কি না, তা জানার চেষ্টা চলছে।

গ্রেফতার ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য ও ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। পাশাপাশি গুলিচালনায় ব্যবহৃত অস্ত্র, ঘটনাস্থলের আলামত এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য যাচাই করা হচ্ছে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

আসামে হোটেলের ইজারা নিয়ে বিরোধ, ৫ জনকে গুলি করে হত্যা

প্রকাশের সময় : ১২:০২:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

 

ভারতের আসামের গুয়াহাটিতে একটি হোটেলের ইজারা নিয়ে বিরোধের জেরে এক নারীসহ পাঁচজনকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় আরও একজন গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে গুয়াহাটির ব্যস্ত জিএস রোডের ‘হোটেল বিলাস ইন’-এ এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

ঘটনার পরপরই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় ঘনকান্ত গগৈ নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গুলিচালনায় গ্রেফতার ব্যক্তির লাইসেন্সপ্রাপ্ত পিস্তল ব্যবহার করা হয়েছে। গুয়াহাটি পুলিশের কমিশনার পার্থসারথি মহন্ত জানিয়েছেন, হোটেল বিলাস ইন-এর ইজারা নিয়ে বিরোধের জের ধরে এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তবে বিরোধের প্রকৃত কারণ এবং হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

পুলিশ এখনো নিহতদের পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি। তবে বিভিন্ন সূত্রের দাবি, নিহতদের মধ্যে হোটেলটির মালিক হেলেনা ভরালি, তার ছেলে দেবর্ষি কাশ্যপ এবং তার দাদা ভূদেব ভরালি রয়েছেন। নিহতদের অধিকাংশই একই পরিবারের সদস্য বলে জানা গেছে। ফলে হোটেলের ইজারা নিয়ে বিরোধের পাশাপাশি পারিবারিক দ্বন্দ্বের বিষয়টিও তদন্তের আওতায় এনেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার রাত ৯টার দিকে হোটেলটির পাশের একটি সরু গলিতে গুলিচালনার ঘটনা ঘটে। গলিটি একটি স্বর্ণালংকারের বিপণির কাছাকাছি অবস্থিত। হঠাৎ গুলির শব্দে আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান ও তদন্ত শুরু করে।

প্রাথমিকভাবে ঘটনাস্থল থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে আহতদের অবস্থা ও পরবর্তী তথ্যের ভিত্তিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে পাঁচে দাঁড়ায়। মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য গুয়াহাটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ কমিশনার পার্থসারথি মহন্ত।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, হামলাকারী অন্তত সাত রাউন্ড গুলি ছুড়েছিলেন। প্রথমে একজনকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয় বলে দাবি করা হচ্ছে। তাঁকে রক্ষা করতে কিংবা হামলা থামাতে অন্যরা এগিয়ে এলে তাদেরও গুলি করা হয়ে থাকতে পারে। তবে কে প্রথম হামলার লক্ষ্য ছিলেন এবং ঠিক কী পরিস্থিতিতে অন্যরা গুলিবিদ্ধ হন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত ঘনকান্ত গগৈ প্রায় এক বছর আগে হোটেল বিলাস ইন ইজারা নিয়েছিলেন। সেই ইজারা নিয়ে কী ধরনের বিরোধ তৈরি হয়েছিল, বিরোধের সঙ্গে নিহতদের কার কী সম্পর্ক ছিল এবং ঘটনার আগে উভয় পক্ষের মধ্যে কোনো সংঘাত হয়েছিল কি না, তা জানার চেষ্টা চলছে।

গ্রেফতার ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য ও ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। পাশাপাশি গুলিচালনায় ব্যবহৃত অস্ত্র, ঘটনাস্থলের আলামত এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য যাচাই করা হচ্ছে।