মানুষের কাছে ভিক্ষা করে ছেলেকে হাফেজ-মাওলানা বানিয়েছি, এখন খোঁজ নেয় না: বাবা

- প্রকাশের সময় : ১২:৩০:০২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
- / 13

মানুষের কাছে সাহায্য চেয়ে অসুস্থ ছেলের চিকিৎসা করিয়েছেন। নানা কষ্ট সহ্য করে পড়ালেখা করিয়ে ছেলেকে বানিয়েছেন হাফেজ ও মাওলানা। অথচ ছেলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর এখন তাঁর খোঁজখবর নেন না, এমনকি চিকিৎসার জন্যও আর্থিক সহায়তা করেন না—এমন অভিযোগ করেছেন হাফেজ তাশরীফের বাবা।
সম্প্রতি কালের কণ্ঠের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ছেলের বিরুদ্ধে নিজের কষ্ট ও অভিমানের কথা তুলে ধরেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, ছোটবেলা থেকে ছেলেকে বড় করা, চিকিৎসা করানো এবং পড়ালেখা শেখানোর পেছনে তাঁকে অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। কিন্তু ছেলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরও তিনি প্রত্যাশিত সহযোগিতা পাচ্ছেন না।
হাফেজ তাশরীফের বাবা জানান, ছোটবেলায় তাঁর ছেলের প্রস্রাব বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। তখন ছেলের চিকিৎসার জন্য মানুষের কাছে সাহায্য চাইতে হয়েছে। ঢাকা, ময়মনসিংহ ও মির্জাপুরের বিভিন্ন হাসপাতালে দীর্ঘদিন ছেলের চিকিৎসা করিয়েছেন তিনি। ইমামতি করে যে সামান্য আয় হতো, তা দিয়ে সংসার চালানোর পাশাপাশি চিকিৎসার ব্যয় বহন করা সম্ভব ছিল না। এ কারণে অন্যের কাছে হাত পাততে হয়েছে তাঁকে।
তিনি বলেন, ‘অনেক কষ্ট করে তার চিকিৎসা করিয়েছি। আল্লাহ তাকে সুস্থ করেছেন। তাকে পড়ালেখা করিয়েছি, হাফেজ ও মাওলানা বানিয়েছি। অথচ এখন সে আমার খোঁজখবর নেয় না।’
নিজের অসুস্থতার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, একসময় চিকিৎসার খরচ জোগাতে ছেলের কাছে টাকা চেয়েছিলেন। তবে ছেলে জমি কেনার কথা বলে তাঁকে টাকা দিতে পারেনি বলে দাবি করেন তিনি। পরে গণমাধ্যমের সহায়তায় মানুষের কাছে সাহায্য চাইলে কিছু টাকা পান। সেই টাকা দিয়ে চিকিৎসা করালেও এখনো পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠেননি। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি।
ছেলের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারার অভিযোগও করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, বারবার ফোন করেও ছেলের সাড়া পান না। ছেলের ব্যক্তিগত সহকারী ওবায়দুল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগ করেও প্রতিশ্রুত অর্থ পাননি। একপর্যায়ে বারবার ফোন করায় তাঁরাও বিরক্ত হয়ে ফোন ধরা বন্ধ করে দেন বলে দাবি করেন তিনি।
আক্ষেপ করে তিনি বলেন, ‘তার অনেক টাকা আছে, বন্ধুবান্ধবেরও অভাব নেই। আগে কি তার এত বন্ধু ছিল? আমি কষ্ট করে তাকে পড়ালেখা করিয়েছি, বড় করেছি। অথচ এখন আমার জন্য কিছুই করে না।’
ছেলের কাছ থেকে মাসিক আর্থিক সহায়তা পাওয়ার বিষয়ে একটি সমঝোতার কথাও জানান তিনি। তাঁর দাবি, সম্প্রতি ভাটারা বাজার মসজিদে ইমামতির দায়িত্ব পালনের সময় ছেলে তাঁর কাছে ক্ষমা চায় এবং চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার কথা জানায়। এ সময় প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। সেই আশ্বাসে তিনি ইমামতির চাকরি ছেড়ে দেন। কিন্তু চাকরি ছাড়ার পরও ছেলে তাঁকে কোনো টাকা দেয়নি বলে অভিযোগ তাঁর।
কোরবানির ঈদের একটি ঘটনার কথাও উল্লেখ করেন হাফেজ তাশরীফের বাবা। তিনি জানান, ছেলে কোরবানি দেওয়ার কথা বললে তিনি এলাকার মানুষের মধ্যে মাংস বিতরণের পরামর্শ দেন। কিন্তু ছেলের বন্ধুবান্ধবদের মাংস দেওয়া হলেও তাঁকে এক টুকরো মাংসও দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
নিজের কষ্ট ও অভিমানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘যখন তোমার কেউ ছিল না, তখন ছিলাম আমি। এখন তোমার সব হয়েছে, আর আমি পর হয়ে গেছি। আমি কষ্টের মধ্যে আছি। আমার টাকা-পয়সা লাগত না, আল্লাহ চালাবেন। কিন্তু নিজের সন্তান যখন খোঁজখবর নেয় না, তখন কষ্ট লাগে।’
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে হাফেজ তাশরীফের বক্তব্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা প্রয়োজন।


















