Dhaka ০৪:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:

‘ব্রেকিং ব্যাড’ অভিনেতার আত্মহত্যা

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশের সময় : ০৩:১৮:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
  • / 6

পর্দায় প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে যিনি হয়ে উঠেছিলেন লাখো দর্শকের প্রিয়, সেই অভিনেতা আরজে মিটকে ঘিরে ছড়িয়ে পড়েছে শোকের খবর। জনপ্রিয় মার্কিন ধারাবাহিক ‘ব্রেকিং ব্যাড’-এ ওয়াল্টার হোয়াইট জুনিয়র চরিত্রে অভিনয় করে খ্যাতি পেয়েছিলেন এই অভিনেতা। ৩৪ বছর বয়সী এই অভিনেতার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন তার প্রতিনিধিরা।

হলিউডের টেলিভিশন অঙ্গনে পরিচিত মুখ আরজে মিটের মৃত্যুর খবর তার প্রতিনিধিরা নিশ্চিত করেছেন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ব্রাউনসভিলে তার মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুর কারণ হিসেবে আত্মহত্যার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

২০০৮ সালে প্রচার শুরু হওয়া ‘ব্রেকিং ব্যাড’ ধারাবাহিকে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পান মিটে। সিরিজটিতে তিনি ছিলেন ব্রায়ান ক্র্যানস্টনের অভিনীত ওয়াল্টার হোয়াইটের ছেলে। চরিত্রটির সরলতা, পারিবারিক টানাপোড়েন এবং ব্যক্তিগত লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে দর্শকের মনে জায়গা করে নিয়েছিলেন তিনি। ধারাবাহিকটির পাঁচটি মৌসুমেই অভিনয় করেন এই তারকা।

তবে অভিনয়ের বাইরেও মিটের জীবনের গল্প ছিল অনুপ্রেরণাদায়ক। পর্দায় যে শারীরিক অবস্থার মধ্য দিয়ে তার চরিত্রকে দেখা গেছে, বাস্তব জীবনেও সেই সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত ছিলেন তিনি। ছোটবেলায় শারীরিক জটিলতার মুখোমুখি হলেও নিজের সীমাবদ্ধতাকে স্বপ্নপূরণের পথে বাধা হতে দেননি। বরং ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাকেই অভিনয়ের শক্তিতে পরিণত করেছিলেন।

শুধু অভিনয় নয়, প্রতিবন্ধী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং বিনোদনজগতে তাদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়েও সরব ছিলেন মিটে। পর্দায় প্রতিবন্ধী চরিত্রের উপস্থাপন যেন বাস্তবসম্মত হয় এবং তাদের নিয়ে প্রচলিত নেতিবাচক ধারণা বদলায়, সে লক্ষ্যেই কাজ করেছেন তিনি। নিজের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে দেখিয়েছেন, শারীরিক প্রতিবন্ধকতা কারও প্রতিভা কিংবা সম্ভাবনার শেষ কথা নয়।

মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যের জ্যাকসনে জন্ম নেওয়া এই অভিনেতার শৈশবও ছিল নানা চ্যালেঞ্জে ভরা। জন্মের সময় মস্তিষ্কে ক্ষতি হওয়ায় শারীরিক জটিলতা দেখা দেয় তাঁর। তিন বছর বয়সে সেরিব্রাল পালসি শনাক্ত হওয়ার পর দত্তক পরিবারের কাছে বেড়ে ওঠেন তিনি। জীবনের প্রতিকূলতা পেরিয়ে অভিনয়জগতে নিজের অবস্থান তৈরি করেন মিটে।

‘ব্রেকিং ব্যাড’-এর সাফল্যের পর একাধিক চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন সিরিজে অভিনয় করেছেন তিনি। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে ‘সুইচড অ্যাট বার্থ’, ‘দ্য রিকল’, ‘দ্য ওক রুম’ এবং ‘দ্য গার্ডিয়ানস অব জাস্টিস’। বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে নিজের দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন এই অভিনেতা।

জনকল্যাণমূলক কাজেও যুক্ত ছিলেন মিটে। ইউনাইটেড সেরিব্রাল পালসি ও শ্রাইনার্স চিলড্রেনসের দূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি নিজের দাতব্য সংস্থা ‘মিটে ফাউন্ডেশন’-এর মাধ্যমে বিভিন্ন উদ্যোগে অংশ নেন। প্রতিবন্ধী মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং তাদের জন্য আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ তৈরিই ছিল তাঁর কাজের অন্যতম উদ্দেশে।

মৃত্যুর আগেও নতুন চলচ্চিত্র ‘টকিং টু স্ট্রেঞ্জার্স’-এর প্রচার নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন মিটে। ছবিটিতে সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত এক ব্যক্তির চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে ছবিটির প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি অক্টোবরের শুরুতে নিউ মেক্সিকোর আলবুকার্কে একটি অনুষ্ঠানেও দেখা যায় তাকে।

ব্যক্তিগত জীবনেও নতুন স্বপ্ন বুনছিলেন এই অভিনেতা। দীর্ঘদিনের প্রেমিকা কেনেডি সুয়ারেজের সঙ্গে ২০২৫ সালে বাগদান হয় তার। ২০১৮ সালে শুরু হয়েছিল তাদের সম্পর্ক।

সূত্র: ভ্যারাইটি

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

‘ব্রেকিং ব্যাড’ অভিনেতার আত্মহত্যা

প্রকাশের সময় : ০৩:১৮:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

পর্দায় প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে যিনি হয়ে উঠেছিলেন লাখো দর্শকের প্রিয়, সেই অভিনেতা আরজে মিটকে ঘিরে ছড়িয়ে পড়েছে শোকের খবর। জনপ্রিয় মার্কিন ধারাবাহিক ‘ব্রেকিং ব্যাড’-এ ওয়াল্টার হোয়াইট জুনিয়র চরিত্রে অভিনয় করে খ্যাতি পেয়েছিলেন এই অভিনেতা। ৩৪ বছর বয়সী এই অভিনেতার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন তার প্রতিনিধিরা।

হলিউডের টেলিভিশন অঙ্গনে পরিচিত মুখ আরজে মিটের মৃত্যুর খবর তার প্রতিনিধিরা নিশ্চিত করেছেন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ব্রাউনসভিলে তার মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুর কারণ হিসেবে আত্মহত্যার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

২০০৮ সালে প্রচার শুরু হওয়া ‘ব্রেকিং ব্যাড’ ধারাবাহিকে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পান মিটে। সিরিজটিতে তিনি ছিলেন ব্রায়ান ক্র্যানস্টনের অভিনীত ওয়াল্টার হোয়াইটের ছেলে। চরিত্রটির সরলতা, পারিবারিক টানাপোড়েন এবং ব্যক্তিগত লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে দর্শকের মনে জায়গা করে নিয়েছিলেন তিনি। ধারাবাহিকটির পাঁচটি মৌসুমেই অভিনয় করেন এই তারকা।

তবে অভিনয়ের বাইরেও মিটের জীবনের গল্প ছিল অনুপ্রেরণাদায়ক। পর্দায় যে শারীরিক অবস্থার মধ্য দিয়ে তার চরিত্রকে দেখা গেছে, বাস্তব জীবনেও সেই সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত ছিলেন তিনি। ছোটবেলায় শারীরিক জটিলতার মুখোমুখি হলেও নিজের সীমাবদ্ধতাকে স্বপ্নপূরণের পথে বাধা হতে দেননি। বরং ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাকেই অভিনয়ের শক্তিতে পরিণত করেছিলেন।

শুধু অভিনয় নয়, প্রতিবন্ধী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং বিনোদনজগতে তাদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়েও সরব ছিলেন মিটে। পর্দায় প্রতিবন্ধী চরিত্রের উপস্থাপন যেন বাস্তবসম্মত হয় এবং তাদের নিয়ে প্রচলিত নেতিবাচক ধারণা বদলায়, সে লক্ষ্যেই কাজ করেছেন তিনি। নিজের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে দেখিয়েছেন, শারীরিক প্রতিবন্ধকতা কারও প্রতিভা কিংবা সম্ভাবনার শেষ কথা নয়।

মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যের জ্যাকসনে জন্ম নেওয়া এই অভিনেতার শৈশবও ছিল নানা চ্যালেঞ্জে ভরা। জন্মের সময় মস্তিষ্কে ক্ষতি হওয়ায় শারীরিক জটিলতা দেখা দেয় তাঁর। তিন বছর বয়সে সেরিব্রাল পালসি শনাক্ত হওয়ার পর দত্তক পরিবারের কাছে বেড়ে ওঠেন তিনি। জীবনের প্রতিকূলতা পেরিয়ে অভিনয়জগতে নিজের অবস্থান তৈরি করেন মিটে।

‘ব্রেকিং ব্যাড’-এর সাফল্যের পর একাধিক চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন সিরিজে অভিনয় করেছেন তিনি। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে ‘সুইচড অ্যাট বার্থ’, ‘দ্য রিকল’, ‘দ্য ওক রুম’ এবং ‘দ্য গার্ডিয়ানস অব জাস্টিস’। বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে নিজের দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন এই অভিনেতা।

জনকল্যাণমূলক কাজেও যুক্ত ছিলেন মিটে। ইউনাইটেড সেরিব্রাল পালসি ও শ্রাইনার্স চিলড্রেনসের দূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি নিজের দাতব্য সংস্থা ‘মিটে ফাউন্ডেশন’-এর মাধ্যমে বিভিন্ন উদ্যোগে অংশ নেন। প্রতিবন্ধী মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং তাদের জন্য আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ তৈরিই ছিল তাঁর কাজের অন্যতম উদ্দেশে।

মৃত্যুর আগেও নতুন চলচ্চিত্র ‘টকিং টু স্ট্রেঞ্জার্স’-এর প্রচার নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন মিটে। ছবিটিতে সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত এক ব্যক্তির চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে ছবিটির প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি অক্টোবরের শুরুতে নিউ মেক্সিকোর আলবুকার্কে একটি অনুষ্ঠানেও দেখা যায় তাকে।

ব্যক্তিগত জীবনেও নতুন স্বপ্ন বুনছিলেন এই অভিনেতা। দীর্ঘদিনের প্রেমিকা কেনেডি সুয়ারেজের সঙ্গে ২০২৫ সালে বাগদান হয় তার। ২০১৮ সালে শুরু হয়েছিল তাদের সম্পর্ক।

সূত্র: ভ্যারাইটি