Dhaka ০৩:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা ও সড়ক নিরাপত্তায় প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বারোপ বিলুপ্ত করা হলো ‘পশ্চিমবঙ্গ মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন’ বেসরকারি শিক্ষকদের জাতীয়করণ আজ হোক, কাল হোক হবেই: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী দেশে নিরাপদ পানি নিশ্চিত করতে ২.১ বিলিয়ন ডলারের পরিকল্পনা : স্থানীয় সরকারমন্ত্রী নওগাঁয় ৭০ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার ঘাড় মটকে হত্যা, কার্টনে ভরে নীলফামারীতে নেওয়া হয় রাকিবের লাশ নিউমোনিক প্লেগ কী? কতটা ভয়ের কারণ হতে পারে এই রোগ? পানি সহযোগিতা নিয়ে ক‌মি‌টি : ভারতীয় প্রতিনিধিদের নাম চেয়েছে ঢাকা ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা নিয়ে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী রাতে সুপ্রিম কোর্টে প্রবেশে কড়া নির্দেশনা

যে যাকে ভালোবাসে, হাশরের ময়দানে সে কি তার সঙ্গী হবে

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০৭:২৪:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৫
  • / 312

ভালোবাসা মানুষের হৃদয়ে প্রবাহিত এক অদৃশ্য স্রোত, যা তাকে বেঁধে রাখে কোনো সম্পর্কের সঙ্গে। প্রিয়জনের সান্নিধ্য পেতে চায় মানুষ, তার সঙ্গে সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করতে চায়। কিন্তু এই ভালোবাসার শেষ গন্তব্য কোথায়? শুধুই কি দুনিয়ায়, নাকি আখিরাতেও এর ছাপ থাকবে?

অনেক নারী-পুরুষ প্রশ্ন করেন, “যে মানুষকে আমি ভালোবাসি, কি তার সঙ্গে আমার হাশর হবে? জান্নাতে কি আমরা একসঙ্গে থাকব?”

হজরত আবু মুসা আশআরি (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, দুনিয়াতে যে মানুষকে কেউ ভালোবাসে, কিয়ামতের দিন সেই মানুষই তার সঙ্গী হবে। (বোখারি: ৬১৭০)

জামিয়া দারুল উলুম কানাইঘাট, সিলেট-এর নাইবে শায়খুল হাদিস আল্লামা শামছুদ্দীন দুর্লভপুরি বলেন, এই হাদিসে আল্লাহ তার বান্দাদের বৈধ ও বিশ্বাসভিত্তিক ভালোবাসা প্রদর্শনের নির্দেশ দিয়েছেন। এটি ইমানের বন্ধনের মধ্যে অন্যতম।

শায়খের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ভালোবাসা যখন আল্লাহর জন্য হবে, আল্লাহকে খুশি করার উদ্দেশ্যে হবে, তখন দুজনই জান্নাতি হবে এবং জান্নাতে একসঙ্গে থাকবেন। তবে যদি ভালোবাসা আল্লাহর জন্য না হয়, অর্থাৎ দুজন আল্লাহপ্রেমিক না হন, তাহলে এই হাদিস প্রযোজ্য হবে না।

শায়খ শামছুদ্দীন আরও বলেন, সমাজে যেসব সম্পর্ক ভালোবাসার নামে অবৈধভাবে চলে, সেসব ক্ষেত্রে জান্নাতে একসঙ্গে থাকার সুযোগ নেই; বরং দুজনই জাহান্নামি হওয়ার শঙ্কা বেশি।

অনেকেই মনে করেন, মৃত্যুর পর ভাইবোন আর কখনো দেখা হবে না। তবে প্রখ্যাত ইসলামি স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, ইসলামে এর কোনো ভিত্তি নেই। যদি ভাইবোন জান্নাতি হন, তাহলে পরকালে তারা একে অপরের সঙ্গে দেখা করতে পারবেন।

তিনি উদাহরণ দিয়েছেন কোরআনের সুরা আবাসার ৩৪ নম্বর আয়াত থেকে: “সেদিন মানুষ পালিয়ে যাবে তার ভাইয়ের কাছ থেকে।” এই আয়াত প্রমাণ করে, মৃত্যুর পর ভাইবোনের সাক্ষাৎ হবে। তাই যারা বলেন, মৃত্যুর পর দেখা হবে না, তাদের কথাটি সম্পূর্ণ ভুল।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

যে যাকে ভালোবাসে, হাশরের ময়দানে সে কি তার সঙ্গী হবে

প্রকাশের সময় : ০৭:২৪:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৫

ভালোবাসা মানুষের হৃদয়ে প্রবাহিত এক অদৃশ্য স্রোত, যা তাকে বেঁধে রাখে কোনো সম্পর্কের সঙ্গে। প্রিয়জনের সান্নিধ্য পেতে চায় মানুষ, তার সঙ্গে সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করতে চায়। কিন্তু এই ভালোবাসার শেষ গন্তব্য কোথায়? শুধুই কি দুনিয়ায়, নাকি আখিরাতেও এর ছাপ থাকবে?

অনেক নারী-পুরুষ প্রশ্ন করেন, “যে মানুষকে আমি ভালোবাসি, কি তার সঙ্গে আমার হাশর হবে? জান্নাতে কি আমরা একসঙ্গে থাকব?”

হজরত আবু মুসা আশআরি (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, দুনিয়াতে যে মানুষকে কেউ ভালোবাসে, কিয়ামতের দিন সেই মানুষই তার সঙ্গী হবে। (বোখারি: ৬১৭০)

জামিয়া দারুল উলুম কানাইঘাট, সিলেট-এর নাইবে শায়খুল হাদিস আল্লামা শামছুদ্দীন দুর্লভপুরি বলেন, এই হাদিসে আল্লাহ তার বান্দাদের বৈধ ও বিশ্বাসভিত্তিক ভালোবাসা প্রদর্শনের নির্দেশ দিয়েছেন। এটি ইমানের বন্ধনের মধ্যে অন্যতম।

শায়খের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ভালোবাসা যখন আল্লাহর জন্য হবে, আল্লাহকে খুশি করার উদ্দেশ্যে হবে, তখন দুজনই জান্নাতি হবে এবং জান্নাতে একসঙ্গে থাকবেন। তবে যদি ভালোবাসা আল্লাহর জন্য না হয়, অর্থাৎ দুজন আল্লাহপ্রেমিক না হন, তাহলে এই হাদিস প্রযোজ্য হবে না।

শায়খ শামছুদ্দীন আরও বলেন, সমাজে যেসব সম্পর্ক ভালোবাসার নামে অবৈধভাবে চলে, সেসব ক্ষেত্রে জান্নাতে একসঙ্গে থাকার সুযোগ নেই; বরং দুজনই জাহান্নামি হওয়ার শঙ্কা বেশি।

অনেকেই মনে করেন, মৃত্যুর পর ভাইবোন আর কখনো দেখা হবে না। তবে প্রখ্যাত ইসলামি স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, ইসলামে এর কোনো ভিত্তি নেই। যদি ভাইবোন জান্নাতি হন, তাহলে পরকালে তারা একে অপরের সঙ্গে দেখা করতে পারবেন।

তিনি উদাহরণ দিয়েছেন কোরআনের সুরা আবাসার ৩৪ নম্বর আয়াত থেকে: “সেদিন মানুষ পালিয়ে যাবে তার ভাইয়ের কাছ থেকে।” এই আয়াত প্রমাণ করে, মৃত্যুর পর ভাইবোনের সাক্ষাৎ হবে। তাই যারা বলেন, মৃত্যুর পর দেখা হবে না, তাদের কথাটি সম্পূর্ণ ভুল।