Dhaka ০১:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
কক্সবাজারে রিসোর্টে ভয়াবহ আগুন, নিহত বেড়ে ৭ ডেঙ্গু প্রতিরোধে তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর নিয়োগের পাঁচ দিনের মাথায় বরখাস্ত ট্রাম্পের প্রেস সেক্রেটারি জাচারিয়া অভিজিৎকে প্রতিরোধমূলক গ্রেপ্তার দেখাল দিল্লি পুলিশ, মুক্তি পেলেন নেহা বোরা কক্সবাজারে রিসোর্টে ভয়াবহ আগুন, নিহত ৫ দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের কারণ জানতে সৌদি আরবকে চিঠি অফিসার্স ক্লাবের নির্মাণাধীন ভবন থেকে সাবেক অতিরিক্ত সচিবের মরদেহ উদ্ধার ধর্মীয় পরিচয় যা-ই হোক, রাষ্ট্রে সবার সমান অধিকার: রিজভী কালীগঞ্জে জামায়াতে ইসলামীর কর্মী সমাবেশ অনুষ্ঠিত সব ধর্মের মানুষের বিশ্বাস ও ধর্মাচরণের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
দ্বিতীয় মেয়াদেও নির্মাণকাজ সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ \ এখনও হয়নি জমি অধিগ্রহণ

৫ বছরেও শেষ হয়নি ৬৫০ মিটার দৈর্ঘ্যরে গড়াই সেতু নির্মাণ কাজ

বিশেষ প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : ০৫:০০:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ জুলাই ২০২৫
  • / 287

গড়াই নদীর এপারে রাজবাড়ী জেলার পাংশা উপজেলার কসবামাজাইল ইউনিয়ন। ওপারে একদিকে মাগুড়া জেলার শ্রীপুর উপজেলার গয়েশপুর, অন্যদিকে ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা উপজেলার ধলহরাচন্দ্র ইউনিয়ন। তিন জেলার মিলনস্থলে নির্মিত হচ্ছে ৬৫০ মিটার দীর্ঘ গড়াই সেতু। ২০২০ সালে সেতুটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়। প্রথম মেয়াদে কাজ শেষ না হওয়ায় চলছে দ্বিতীয় মেয়াদ। এ মেয়াদেও কাজ শেষ হওয়ার কোনো লক্ষণ নেই। এছাড়া জমি অধিগ্রহণের কাজও শেষ হয়নি এখনও। স্থানীয়রা বলছে, সেতুটির নির্মাণ সম্পন্ন হলে বদলে যেতে পারে তিন জেলার মানুষের ভাগ্য।

রাজবাড়ীর এলজিইডি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, পল্লী সড়কে গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণ প্রকল্পের (সিআইবিআরআর) আওতায় তিন জেলার মানুষের যোগাযোগের সুবিধার জন্য ৬৩ কোটি ৯১ লাখ ৬৮ হাজার ১৭০ টাকা ব্যয়ে গড়াই নদীর উপর সেতু নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০২০ সালের ৩ জুন। ৬৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতুর সেতুটি নির্মাণের কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মীর হাবিবুল আলম ও এমএম বিল্ডার্স ইঞ্জিনিয়ারিং। সেতুটির নির্মাণ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৩ সালের ৩ জুন। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় ২০২৫ সালের অক্টোবর মাস পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়। সেতুটি নির্মাণের জন্য সর্বমোট ৬.৩৬৫ একর জমি অধিগ্রহণ প্রয়োজন। যার মধ্যে রাজবাড়ী অংশে ৩.৬৬৫ একর, ঝিনাইদহ অংশে ২.৫২ একর এবং মাগুড়া অংশে ০.১৮ একর রয়েছে।

কসবামাজাইল ইউনিয়নের নাদুরিয়া গিয়ে দেখা গেছে, নাদুরিয়া বাজার থেকে পূর্ব দিকে চলে গেছে একটি মেঠো পথ। পথটি যেখানে শেষ হয়েছে সেখানে নির্মাণ হচ্ছে গড়াই সেতু। এ প্রান্তে রমজান আলী নামে একজন কৃষকের বসতঘরের উপরে সেতুর মাথা। অর্থ্যাৎ এখান থেকেই সেতুর শুরু। সেতুর মাথা থেকে উত্তর দিকে রয়েছে আরও তিনজনের বসত ঘর ও ফসলি জমি। যেখান দিয়ে সেতুর অ্যাপ্রোচ সড়ক হওয়ার কথা। যা প্রায় এক হাজার মিটার লম্বা। অ্যাপ্রোচ সড়কটি পাংশা-লাঙ্গলবাদ সড়কে গিয়ে মেশার কথা রয়েছে। অ্যাপ্রোচ সড়কের কাজ এখনও শুরু হয়নি। দক্ষিণ দিকে গড়াই নদীর উপর দিয়ে নির্মাণাধীন সেতুটি যেখানে গিয়ে শেষ হয়েছে, তার এক দিকে মাগুড়ার শ্রীপুর উপজেলা ও অপরদিকে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার সীমান্ত। এ প্রান্তে সেতুটির সিংহভাগ দৃশ্যমান হয়েছে। গড়াই নদী যেখান দিয়ে বয়ে গেছে সেখানে সেতু এখনও দৃশ্যমান হয়নি। সেতুর নীচে শ্রমিকদের কাজ করতে দেখা গেছে। স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গড়াই সেতু নির্মাণ শুরু হলেও জমি অধিগ্রহণ করা হয়নি। রাজবাড়ীর পাংশা প্রান্তে অন্ততঃ ২০ জনের জমি রয়েছে। তবে বেশি জমি রয়েছে মন্টু বিশ^াস নামে একজন কৃষকের।

মন্টু বিশ^াস জানান, যেখানে গড়াই সেতু নির্মাণ হচ্ছে সেখানকার বেশির ভাগ জমিই তার। তিনি মনে প্রাণ চান সেতুটি নির্মাণ হোক। এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে তিনি তার জমির উপর সেতু নির্মাণ করতে দিচ্ছেন। কিন্তু জমি এখনও অধিগ্রহণ হয়নি। এখন পর্যন্ত কোনো টাকাও তিনি পাননি। তবে, লিজের কিছু টাকা পেয়েছেন। কয়েকবার নোটিশ পেয়েছেন। এটুকুই যা। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, একই সাথে কুমারখালী ও নাদুরিয়া সেতুর কাজ শুরু হয়। দুই বছর আগে কুমারখালী সেতু চালু হয়েছে। অথচ এ সেতুর এখনও কিছুই হলোনা। জমির দাম সরকার কত টাকা নির্ধারণ করেছে তাও তিনি জানেন না। তারা এও জেনেছেন, অধিগ্রহণের টাকা বরাদ্দ হলেও তা ম্যানেজমেন্টের অবহেলার কারণে ফেরত গেছে। অধিগ্রহণের টাকা না পেলে তারা অ্যাপ্রোচ সড়কের কাজ করতে দেবেন না।

রমজান আলী নামে যার বসতঘরের উপর সেতুর মাথা তার বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। রমজান আলীর ভাই জামিরুল ইসলাম জানান, তার ভাইয়ের বাড়ির উপর দিয়ে সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। সেতু নির্মাণের জন্য কিছু গাছপালা কাটতে হয়েছে। এজন্য কর্তৃপক্ষ কিছু টাকা তার ভাইকে দিয়েছে। এছাড়া আর কোনো টাকা পয়সা দেয়নি। কোনো চুক্তির কথাও তিনি শোনেননি।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. হাসানুজ্জামান জানান, দীর্ঘ পাঁচ বছর আগে গড়াই সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। এখনও সম্পন্ন না হওয়াটা দুঃখজনক। এর মধ্যে সেতু নির্মাণ করতে গিয়ে তিনজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এই সেতুটি নির্মাণ হলে তাদের এলাকার উন্নয়ন হবে। তিনি দ্রæত সেতুটির নির্মাণ সম্পন্ন করার দাবি জানান।

স্থানীয়রা বলছেন, সেতুটি নির্মাণ সম্পন্ন হলে দূর হবে যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রতিবন্ধকতা। ব্যবসা-বাণিজ্যে আসবে গতি। যোগাযোগ ব্যবস্থা ত্বরান্বিত হবে আরও চার জেলার মানুষের। ঢাকা থেকে রাজবাড়ী হয়ে মাগুড়া, যশোর, ঝিনাইদহ জেলায় দ্রæত সময়ের মধ্যে যেতে পারবে। তারা দ্রæত সেতুটি নির্মাণের দাবি জানান।

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলী বিজন কৃষ্ণ বাড়ৈ বলেন, কার্যাদেশ পাওয়ার দুই মাস পরে কাজ শুরু করতে হয়েছে। বছরে মাত্র ছয় মাস কাজ করা যায়, ছয় মাস বন্ধ রাখতে হয়। গত সাড়ে চার বছরের মধ্যে আড়াই বছর কাজ করতে পারেননি। এসব কারণে সময় মত কাজ সম্পন্ন করা যায়নি। প্রথম মেয়াদে কাজ সম্পন্ন করতে না পারায় চলতি বছরের অক্টোবর মাস পর্যন্ত মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৭৯ থেকে ৮০ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তবে, দ্বিতীয় মেয়াদেও কাজ সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা নেই। এজন্য তৃতীয় একটি পক্ষের সাথে তারা কথা বলছেন। যাদের সহযোগিতায় বাকী কাজ সম্পন্ন হবে। সেক্ষেত্রে ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে কাজ সম্পন্ন হতে পারে। সেতুর ৫২টি গার্ডারের মধ্যে ৩৬টি বসানো সম্পন্ন হয়েছে। স্প্যান ও পাইলের কাজও শেষ।

 রাজবাড়ী স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী ইউসুফ হোসেন বলেন, জমি অধিগ্রহণের জন্য সেতুর নির্মাণকাজ সম্পন্ন করতে দেরি হচ্ছে। একবার অধিগ্রহণ করা হয়েছিল। সেটা বাতিল হয়েছে। দ্বিতীয় দফায় প্রক্রিয়া চলছে। জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন করে অ্যাপ্রোচ সড়কের কাজ করলেই সেতুটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হবে। বর্ষা মৌসুমে সেতুর কাজ করা যায়না। খর¯্রােতা নদী। এটাও দেরির একটি কারণ। অপর এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, দ্বিতীয় মেয়াদে অক্টোবরে কাজ সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। জমি অধিগ্রহণ না হওয়োর বিষয়ে বলেন, একবার অধিগ্রহণের সবকিছু শেষ করা হয়েছিল। বরাদ্দ না পাওয়ার কারণে হয়নি। দ্বিতীয় দফা অধিগ্রহণের কাজ শুরু হয়েছে। মাগুড়া এবং ঝিনাইদহ অংশে স্থানীয় প্রশাসন জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু করেছে বলে জানান তিনি।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

দ্বিতীয় মেয়াদেও নির্মাণকাজ সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ \ এখনও হয়নি জমি অধিগ্রহণ

৫ বছরেও শেষ হয়নি ৬৫০ মিটার দৈর্ঘ্যরে গড়াই সেতু নির্মাণ কাজ

প্রকাশের সময় : ০৫:০০:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ জুলাই ২০২৫

গড়াই নদীর এপারে রাজবাড়ী জেলার পাংশা উপজেলার কসবামাজাইল ইউনিয়ন। ওপারে একদিকে মাগুড়া জেলার শ্রীপুর উপজেলার গয়েশপুর, অন্যদিকে ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা উপজেলার ধলহরাচন্দ্র ইউনিয়ন। তিন জেলার মিলনস্থলে নির্মিত হচ্ছে ৬৫০ মিটার দীর্ঘ গড়াই সেতু। ২০২০ সালে সেতুটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়। প্রথম মেয়াদে কাজ শেষ না হওয়ায় চলছে দ্বিতীয় মেয়াদ। এ মেয়াদেও কাজ শেষ হওয়ার কোনো লক্ষণ নেই। এছাড়া জমি অধিগ্রহণের কাজও শেষ হয়নি এখনও। স্থানীয়রা বলছে, সেতুটির নির্মাণ সম্পন্ন হলে বদলে যেতে পারে তিন জেলার মানুষের ভাগ্য।

রাজবাড়ীর এলজিইডি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, পল্লী সড়কে গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণ প্রকল্পের (সিআইবিআরআর) আওতায় তিন জেলার মানুষের যোগাযোগের সুবিধার জন্য ৬৩ কোটি ৯১ লাখ ৬৮ হাজার ১৭০ টাকা ব্যয়ে গড়াই নদীর উপর সেতু নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০২০ সালের ৩ জুন। ৬৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতুর সেতুটি নির্মাণের কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মীর হাবিবুল আলম ও এমএম বিল্ডার্স ইঞ্জিনিয়ারিং। সেতুটির নির্মাণ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৩ সালের ৩ জুন। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় ২০২৫ সালের অক্টোবর মাস পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়। সেতুটি নির্মাণের জন্য সর্বমোট ৬.৩৬৫ একর জমি অধিগ্রহণ প্রয়োজন। যার মধ্যে রাজবাড়ী অংশে ৩.৬৬৫ একর, ঝিনাইদহ অংশে ২.৫২ একর এবং মাগুড়া অংশে ০.১৮ একর রয়েছে।

কসবামাজাইল ইউনিয়নের নাদুরিয়া গিয়ে দেখা গেছে, নাদুরিয়া বাজার থেকে পূর্ব দিকে চলে গেছে একটি মেঠো পথ। পথটি যেখানে শেষ হয়েছে সেখানে নির্মাণ হচ্ছে গড়াই সেতু। এ প্রান্তে রমজান আলী নামে একজন কৃষকের বসতঘরের উপরে সেতুর মাথা। অর্থ্যাৎ এখান থেকেই সেতুর শুরু। সেতুর মাথা থেকে উত্তর দিকে রয়েছে আরও তিনজনের বসত ঘর ও ফসলি জমি। যেখান দিয়ে সেতুর অ্যাপ্রোচ সড়ক হওয়ার কথা। যা প্রায় এক হাজার মিটার লম্বা। অ্যাপ্রোচ সড়কটি পাংশা-লাঙ্গলবাদ সড়কে গিয়ে মেশার কথা রয়েছে। অ্যাপ্রোচ সড়কের কাজ এখনও শুরু হয়নি। দক্ষিণ দিকে গড়াই নদীর উপর দিয়ে নির্মাণাধীন সেতুটি যেখানে গিয়ে শেষ হয়েছে, তার এক দিকে মাগুড়ার শ্রীপুর উপজেলা ও অপরদিকে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার সীমান্ত। এ প্রান্তে সেতুটির সিংহভাগ দৃশ্যমান হয়েছে। গড়াই নদী যেখান দিয়ে বয়ে গেছে সেখানে সেতু এখনও দৃশ্যমান হয়নি। সেতুর নীচে শ্রমিকদের কাজ করতে দেখা গেছে। স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গড়াই সেতু নির্মাণ শুরু হলেও জমি অধিগ্রহণ করা হয়নি। রাজবাড়ীর পাংশা প্রান্তে অন্ততঃ ২০ জনের জমি রয়েছে। তবে বেশি জমি রয়েছে মন্টু বিশ^াস নামে একজন কৃষকের।

মন্টু বিশ^াস জানান, যেখানে গড়াই সেতু নির্মাণ হচ্ছে সেখানকার বেশির ভাগ জমিই তার। তিনি মনে প্রাণ চান সেতুটি নির্মাণ হোক। এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে তিনি তার জমির উপর সেতু নির্মাণ করতে দিচ্ছেন। কিন্তু জমি এখনও অধিগ্রহণ হয়নি। এখন পর্যন্ত কোনো টাকাও তিনি পাননি। তবে, লিজের কিছু টাকা পেয়েছেন। কয়েকবার নোটিশ পেয়েছেন। এটুকুই যা। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, একই সাথে কুমারখালী ও নাদুরিয়া সেতুর কাজ শুরু হয়। দুই বছর আগে কুমারখালী সেতু চালু হয়েছে। অথচ এ সেতুর এখনও কিছুই হলোনা। জমির দাম সরকার কত টাকা নির্ধারণ করেছে তাও তিনি জানেন না। তারা এও জেনেছেন, অধিগ্রহণের টাকা বরাদ্দ হলেও তা ম্যানেজমেন্টের অবহেলার কারণে ফেরত গেছে। অধিগ্রহণের টাকা না পেলে তারা অ্যাপ্রোচ সড়কের কাজ করতে দেবেন না।

রমজান আলী নামে যার বসতঘরের উপর সেতুর মাথা তার বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। রমজান আলীর ভাই জামিরুল ইসলাম জানান, তার ভাইয়ের বাড়ির উপর দিয়ে সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। সেতু নির্মাণের জন্য কিছু গাছপালা কাটতে হয়েছে। এজন্য কর্তৃপক্ষ কিছু টাকা তার ভাইকে দিয়েছে। এছাড়া আর কোনো টাকা পয়সা দেয়নি। কোনো চুক্তির কথাও তিনি শোনেননি।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. হাসানুজ্জামান জানান, দীর্ঘ পাঁচ বছর আগে গড়াই সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। এখনও সম্পন্ন না হওয়াটা দুঃখজনক। এর মধ্যে সেতু নির্মাণ করতে গিয়ে তিনজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এই সেতুটি নির্মাণ হলে তাদের এলাকার উন্নয়ন হবে। তিনি দ্রæত সেতুটির নির্মাণ সম্পন্ন করার দাবি জানান।

স্থানীয়রা বলছেন, সেতুটি নির্মাণ সম্পন্ন হলে দূর হবে যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রতিবন্ধকতা। ব্যবসা-বাণিজ্যে আসবে গতি। যোগাযোগ ব্যবস্থা ত্বরান্বিত হবে আরও চার জেলার মানুষের। ঢাকা থেকে রাজবাড়ী হয়ে মাগুড়া, যশোর, ঝিনাইদহ জেলায় দ্রæত সময়ের মধ্যে যেতে পারবে। তারা দ্রæত সেতুটি নির্মাণের দাবি জানান।

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলী বিজন কৃষ্ণ বাড়ৈ বলেন, কার্যাদেশ পাওয়ার দুই মাস পরে কাজ শুরু করতে হয়েছে। বছরে মাত্র ছয় মাস কাজ করা যায়, ছয় মাস বন্ধ রাখতে হয়। গত সাড়ে চার বছরের মধ্যে আড়াই বছর কাজ করতে পারেননি। এসব কারণে সময় মত কাজ সম্পন্ন করা যায়নি। প্রথম মেয়াদে কাজ সম্পন্ন করতে না পারায় চলতি বছরের অক্টোবর মাস পর্যন্ত মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৭৯ থেকে ৮০ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তবে, দ্বিতীয় মেয়াদেও কাজ সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা নেই। এজন্য তৃতীয় একটি পক্ষের সাথে তারা কথা বলছেন। যাদের সহযোগিতায় বাকী কাজ সম্পন্ন হবে। সেক্ষেত্রে ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে কাজ সম্পন্ন হতে পারে। সেতুর ৫২টি গার্ডারের মধ্যে ৩৬টি বসানো সম্পন্ন হয়েছে। স্প্যান ও পাইলের কাজও শেষ।

 রাজবাড়ী স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী ইউসুফ হোসেন বলেন, জমি অধিগ্রহণের জন্য সেতুর নির্মাণকাজ সম্পন্ন করতে দেরি হচ্ছে। একবার অধিগ্রহণ করা হয়েছিল। সেটা বাতিল হয়েছে। দ্বিতীয় দফায় প্রক্রিয়া চলছে। জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন করে অ্যাপ্রোচ সড়কের কাজ করলেই সেতুটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হবে। বর্ষা মৌসুমে সেতুর কাজ করা যায়না। খর¯্রােতা নদী। এটাও দেরির একটি কারণ। অপর এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, দ্বিতীয় মেয়াদে অক্টোবরে কাজ সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। জমি অধিগ্রহণ না হওয়োর বিষয়ে বলেন, একবার অধিগ্রহণের সবকিছু শেষ করা হয়েছিল। বরাদ্দ না পাওয়ার কারণে হয়নি। দ্বিতীয় দফা অধিগ্রহণের কাজ শুরু হয়েছে। মাগুড়া এবং ঝিনাইদহ অংশে স্থানীয় প্রশাসন জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু করেছে বলে জানান তিনি।