Dhaka ০৬:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ মে ২০২৪, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বিদ্যুতের প্রি-পেইড মিটারে চরম ভোগান্তি \ রিচার্জ সফল না হওয়ায় বিদ্যুৎ অফিসে ছুটছেন গ্রাহকরা

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশের সময় : ০৯:৪৩:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ এপ্রিল ২০২৪
  • / ১০৪২ জন সংবাদটি পড়েছেন

 

বৈদ্যুতিক প্রি-পেইড মিটার নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন রাজবাড়ীর বিদ্যুৎ গ্রাহকরা। মোবাইলের মাধ্যমে রিচার্জ করে মিটারে বাটন চাপ দিলেও যোগ হচ্ছে না নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা। প্রতিদিন এমন হয়রানীর শিকার মানুষ ছুটছেন বিদ্যুৎ অফিসে। গত বেশ কিছুদিন যাবৎ এ সমস্যা দেখা দিয়েছে। বিদ্যুৎ বিল রিচার্জকারী ব্যবসায়ীরা পড়েছেন আরও সমস্যায়। রিচার্জ সফল না হওয়ায় তাদের নানান জবাবদিহিতা করতে হচ্ছে গ্রাহকদের। কখনও টাকাও ফেরত দিতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ বলছে, খুব তাড়াতাড়িই  এ সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

রোববার দুপুর ১টার দিকে রাজবাড়ী শহরের পুরাতন বিদ্যুৎ অফিসের পাশে ওজোপাডিকোর গ্রাহক সেবা কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়  গ্রাহকদের দীর্ঘ লাইন। তারা এসেছেন বিদ্যুৎ বিল রিচার্জ করতে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে করছেন রিচার্জ। বিদ্যুৎ অফিসের হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা বাবুর আলী জানান, রোববার সকাল থেকে দুপুর ১১টা পর্যন্ত প্রায় তিনশ জন রিচার্জ করেছেন।

কথা হয় রিচার্জ করতে আসা রাজবাড়ী সদর উপজেলার রামকান্তপুর এলাকার বাসিন্দা হীরু মীরের সঙ্গে। জানালেন, সকাল থেকে মিটার সিগন্যাল দিচ্ছে। দোকানে বিদ্যুৎ বিল রিচার্জ করতে গিয়েছিলেন। দোকানদার জানিয়েছে, রিচার্জ করলে সফল হওয়ার সম্ভাবনা কম। আর সফল হলেও ১৮০টি সংখ্যা চাপতে হবে। একারণে তিনি বিদ্যুৎ অফিসে রিচার্জ করতে এসেছেন। প্রায় এক ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন।

শহরের ভবানীপুর মুরগীর ফার্ম এলাকার বাসিন্দা ইয়সমীন বেগম জানান, রিচার্জের টাকা ফুরিয়ে যাওয়ার পর তার বাড়ির বিদ্যুৎ চলে গেছে। দোকানে গিয়ে রিচার্জ করাতে পারেননি। একারণে বিদ্যুৎ অফিসে এসেছেন টাকা রিচার্জ করতে।

লক্ষীকোল গ্রামের বাসিন্দা অচিন্ত্য হালদার জানান, তিনি রিচার্জ করেছিলেন। কিন্তু টাকা যোগ হয়নি। মিটারে ঋণ নেওয়ার সুযোগ আছে বলে নিয়েছিলেন। যে কোনো সময় ঋণের টাকা শেষ হয়ে যাবে। তিনিও দেড় ঘণ্টার উপরে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন টাকা জমা দেওয়ার জন্য।

রাজবাড়ী রেলগেট এলাকার সোহেল টেলিকমের মালিক রুবেল আহমেদ ফ্লেক্সি লোড, বিকাশ লেনদেন, বিদ্যুৎ বিল রিচার্জের ব্যবসা করেন। তিনি জানান, কিছুদিন আগে তার বাড়ির মিটারে নিজেই টাকা রিচার্জ করেন।  মেসেজ আসার পর নির্র্ধারিত সংখ্যাগুলো মিটারে চাপেন। কিন্তু টাকা যোগ হয়নি। বিদ্যুৎ অফিসে গেলে তাকে জানানো হয় যে দোকান থেকে টাকা রিচার্জ করেছে তারা সঠিকভাবে করেনি। তিনি নিজেই রিচার্জ করেছে জানালে বিদ্যুৎ অফিস থেকে ১২০টাকা রিচার্জ করে দেয়। সেই নম্বর চাপার পর বিদ্যুৎ পান তিনি। যে টাকা তিনি রিচার্জ করেছিলেন সেই টাকা ফেরত এসেছে কী না তা তিনি জানেন না। গ্রাহকদের টাকা রিচার্জ করে দেওয়ার পর যখন বিফল হয় তখন তাকে নানান জবাবদিহিতা করতে হয়। বিব্রতকর অবস্থার মুখে পড়তে হয়। কয়েকজন গ্রাহককে টাকাও ফেরত দিতে হয়েছে। একারণে নিজস্ব লোকজন ছাড়া কারো বিদ্যুৎ বিল রিচার্জ করছেন না।

রাজবাড়ী বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন অর রশীদ জানান, নেটওয়ার্কের সমস্যার কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। শীগগীরই এর সমাধান হয়ে যাবে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে জানান, যেসব মিটার অনলাইন হয়েছে সেগুলো অটোরিচার্জ হয়ে যাচ্ছে। আর যেসব অনলাইন হয়নি সেগুলোতে বাটন চাপতে হচ্ছে।

রাজবাড়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যালয়ের সূত্রমতে ওজোপাডিকোর আওতাধীন জেলায় মোট বিদ্যুৎ গ্রাহকের ৬৮ হাজার গ্রাহক রয়েছে। এর মধ্যে প্রিপেইড মিটার আছে ৩১ হাজার গ্রাহকের।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

বিদ্যুতের প্রি-পেইড মিটারে চরম ভোগান্তি \ রিচার্জ সফল না হওয়ায় বিদ্যুৎ অফিসে ছুটছেন গ্রাহকরা

প্রকাশের সময় : ০৯:৪৩:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ এপ্রিল ২০২৪

 

বৈদ্যুতিক প্রি-পেইড মিটার নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন রাজবাড়ীর বিদ্যুৎ গ্রাহকরা। মোবাইলের মাধ্যমে রিচার্জ করে মিটারে বাটন চাপ দিলেও যোগ হচ্ছে না নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা। প্রতিদিন এমন হয়রানীর শিকার মানুষ ছুটছেন বিদ্যুৎ অফিসে। গত বেশ কিছুদিন যাবৎ এ সমস্যা দেখা দিয়েছে। বিদ্যুৎ বিল রিচার্জকারী ব্যবসায়ীরা পড়েছেন আরও সমস্যায়। রিচার্জ সফল না হওয়ায় তাদের নানান জবাবদিহিতা করতে হচ্ছে গ্রাহকদের। কখনও টাকাও ফেরত দিতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ বলছে, খুব তাড়াতাড়িই  এ সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

রোববার দুপুর ১টার দিকে রাজবাড়ী শহরের পুরাতন বিদ্যুৎ অফিসের পাশে ওজোপাডিকোর গ্রাহক সেবা কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়  গ্রাহকদের দীর্ঘ লাইন। তারা এসেছেন বিদ্যুৎ বিল রিচার্জ করতে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে করছেন রিচার্জ। বিদ্যুৎ অফিসের হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা বাবুর আলী জানান, রোববার সকাল থেকে দুপুর ১১টা পর্যন্ত প্রায় তিনশ জন রিচার্জ করেছেন।

কথা হয় রিচার্জ করতে আসা রাজবাড়ী সদর উপজেলার রামকান্তপুর এলাকার বাসিন্দা হীরু মীরের সঙ্গে। জানালেন, সকাল থেকে মিটার সিগন্যাল দিচ্ছে। দোকানে বিদ্যুৎ বিল রিচার্জ করতে গিয়েছিলেন। দোকানদার জানিয়েছে, রিচার্জ করলে সফল হওয়ার সম্ভাবনা কম। আর সফল হলেও ১৮০টি সংখ্যা চাপতে হবে। একারণে তিনি বিদ্যুৎ অফিসে রিচার্জ করতে এসেছেন। প্রায় এক ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন।

শহরের ভবানীপুর মুরগীর ফার্ম এলাকার বাসিন্দা ইয়সমীন বেগম জানান, রিচার্জের টাকা ফুরিয়ে যাওয়ার পর তার বাড়ির বিদ্যুৎ চলে গেছে। দোকানে গিয়ে রিচার্জ করাতে পারেননি। একারণে বিদ্যুৎ অফিসে এসেছেন টাকা রিচার্জ করতে।

লক্ষীকোল গ্রামের বাসিন্দা অচিন্ত্য হালদার জানান, তিনি রিচার্জ করেছিলেন। কিন্তু টাকা যোগ হয়নি। মিটারে ঋণ নেওয়ার সুযোগ আছে বলে নিয়েছিলেন। যে কোনো সময় ঋণের টাকা শেষ হয়ে যাবে। তিনিও দেড় ঘণ্টার উপরে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন টাকা জমা দেওয়ার জন্য।

রাজবাড়ী রেলগেট এলাকার সোহেল টেলিকমের মালিক রুবেল আহমেদ ফ্লেক্সি লোড, বিকাশ লেনদেন, বিদ্যুৎ বিল রিচার্জের ব্যবসা করেন। তিনি জানান, কিছুদিন আগে তার বাড়ির মিটারে নিজেই টাকা রিচার্জ করেন।  মেসেজ আসার পর নির্র্ধারিত সংখ্যাগুলো মিটারে চাপেন। কিন্তু টাকা যোগ হয়নি। বিদ্যুৎ অফিসে গেলে তাকে জানানো হয় যে দোকান থেকে টাকা রিচার্জ করেছে তারা সঠিকভাবে করেনি। তিনি নিজেই রিচার্জ করেছে জানালে বিদ্যুৎ অফিস থেকে ১২০টাকা রিচার্জ করে দেয়। সেই নম্বর চাপার পর বিদ্যুৎ পান তিনি। যে টাকা তিনি রিচার্জ করেছিলেন সেই টাকা ফেরত এসেছে কী না তা তিনি জানেন না। গ্রাহকদের টাকা রিচার্জ করে দেওয়ার পর যখন বিফল হয় তখন তাকে নানান জবাবদিহিতা করতে হয়। বিব্রতকর অবস্থার মুখে পড়তে হয়। কয়েকজন গ্রাহককে টাকাও ফেরত দিতে হয়েছে। একারণে নিজস্ব লোকজন ছাড়া কারো বিদ্যুৎ বিল রিচার্জ করছেন না।

রাজবাড়ী বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন অর রশীদ জানান, নেটওয়ার্কের সমস্যার কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। শীগগীরই এর সমাধান হয়ে যাবে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে জানান, যেসব মিটার অনলাইন হয়েছে সেগুলো অটোরিচার্জ হয়ে যাচ্ছে। আর যেসব অনলাইন হয়নি সেগুলোতে বাটন চাপতে হচ্ছে।

রাজবাড়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যালয়ের সূত্রমতে ওজোপাডিকোর আওতাধীন জেলায় মোট বিদ্যুৎ গ্রাহকের ৬৮ হাজার গ্রাহক রয়েছে। এর মধ্যে প্রিপেইড মিটার আছে ৩১ হাজার গ্রাহকের।