Dhaka ০১:৩৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ২ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
দুদকের ২ মামলায় কারাগারে ভুয়া চিকিৎসক

বিশেষজ্ঞ ডাক্তার সেজে দেশের বিভিন্ন স্থানে রোগী দেখতেন তিনি

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশের সময় : ০৭:০৮:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
  • / ১০৪১ জন সংবাদটি পড়েছেন

দুনীতি দমন কমিশন (দুদক) ফরিদপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের দুই মামলায় ভুয়া ডিগ্রীধারী চিকিৎসক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান ওরফে মো. রাকিব হাসান শুভকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার দুপুরে রাজবাড়ীর সিনিয়র বিশেষ আদালতে শুনানী শেষে আদালতের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ জাকিয়া পারভীন এ আদেশ দেন। রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বাওনারা গ্রামের সোহরাব হোসেনের ছেলে হাবিবুর রহমান ওরফে মো. রাকিব হাসান বিশেষজ্ঞ ডাক্তার সেজে দেশের বিভিন্ন স্থানে রোগী দেখতেন। নামের সাথে ব্যবহার করতেন ভারি ভারি পদবী। অথচ বাস্তবে তিনি উচ্চ মাধ্যমিকের গন্ডিই পেরোননি।

বিএমডিসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েও ডাক্তার পদবী ব্যবহার এবং এইচএসসি পরীক্ষার জাল সনদের মাধ্যমে সরকারি চাকুরি নেওয়ার অভিযোগে ২০২১ সালের ১৬ জুন তারিখে দুদক ফরিদপুর কার্যালয়ের উপ সহকারী পরিচালক সৌরভ দাশ ভুয়া চিকিৎসক হাবিবুর রহমান ওরফে রাকিব হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন, বিএমডিসি রেজিস্ট্রেশন কোয়ালিফিকেশন পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েও সে ডাক্তার পদবী ব্যবহার করছে। ২০১৩ সালে ডাক্তার সেজে চিকিৎসা করার অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করেন। ওই সময় আর কখনও ডাক্তারী করবেন না বলে মুচলেকা দিলেও ছাড়া পেয়ে আবার একই অপরাধ করতে থাকেন। এছাড়া জাল এইচএসসি সনদ তৈরি করে বরগুনা হাসপাতালে এমএনএইচ প্রজেক্টে মেডিকেল অফিসার হিসেবে চাকরি নেন। সেখানে চাকরির জন্য যেসব কাগজপত্র জমা দিয়েছিলেন তার সবই জাল বলে প্রমাণিত হয়েছে।

দুদকের অপর একটি মামলায় মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান ওরফে মো. রাকিব হাসানের বিরুদ্ধে সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ আনা হয়েছে। এ মামলার বাদী একই কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আবুল বাসার। এজাহারে তিনি উল্লেখ করেছেন, তার দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে ১৩ লাখ ৬৩ হাজার ৯৬৬ টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্য প্রদর্শন না করে গোপন করেছেন। এছাড়া অবৈধ উৎস থেকে ২৭ লাখ ৪৭ হাজার ৩০১ টাকা জ্ঞায় আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করে দুর্নীতি দমন কমিশন ২০০৪ এর ২৭(১) ও ২৬ (২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান ওরফে মো. রাকিব হাসান নোয়াখালী জেলার চৌমুহনী উপজেলার ল্যাব এইড লিমিটেড (ডায়াগনাস্টিক) নামক একটি প্রতিষ্ঠানে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার পরিচয়ে নিয়মিত রোগী দেখতেন। সেখানে তার সাইনবোর্ডে লেখা ছিল ‘ব্রেইন স্ট্রোক, প্যারালাইসিস, মৃগী রোগ (খিচুনি) ও মাথা রোগ বিশেষজ্ঞ সহকারী অধ্যাপক ডা. রাকিব আহসান, এমবিবিএস, এমপিএইচ, এমডি (নিউরোমেডিসিন) এবং সহকারী অধ্যাপক বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, ঢাকা। কিছুদিন আগে ভুয়া প্রমাণিত হওয়ার ল্যাব এইড কর্তৃপক্ষ তাকে র‌্যাবের হাতে তুলে দেয়।

দুদকের রাজবাড়ী জেলা আদালতের পিপি অ্যড. বিজন বোস জানান, মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান ওরফে মো. রাকিব হাসানের নামে দুটি মামলা চলমান। দুটিতেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। নোয়াখালীতে ওই ব্যক্তি চিকিৎসক সেজে রোগী দেখতেন। ভ্রাম্যমাণ আদালতে সেখানে তার দুই বছরের জেল হয়েছে। এ খবর তারা পেয়ে তাকে নোয়াখালী থেকে রাজবাড়ী এনে আদালতে শুনানীর জন্য তোলা হয়। শুনানী শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

দুদকের ২ মামলায় কারাগারে ভুয়া চিকিৎসক

বিশেষজ্ঞ ডাক্তার সেজে দেশের বিভিন্ন স্থানে রোগী দেখতেন তিনি

প্রকাশের সময় : ০৭:০৮:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

দুনীতি দমন কমিশন (দুদক) ফরিদপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের দুই মামলায় ভুয়া ডিগ্রীধারী চিকিৎসক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান ওরফে মো. রাকিব হাসান শুভকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার দুপুরে রাজবাড়ীর সিনিয়র বিশেষ আদালতে শুনানী শেষে আদালতের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ জাকিয়া পারভীন এ আদেশ দেন। রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বাওনারা গ্রামের সোহরাব হোসেনের ছেলে হাবিবুর রহমান ওরফে মো. রাকিব হাসান বিশেষজ্ঞ ডাক্তার সেজে দেশের বিভিন্ন স্থানে রোগী দেখতেন। নামের সাথে ব্যবহার করতেন ভারি ভারি পদবী। অথচ বাস্তবে তিনি উচ্চ মাধ্যমিকের গন্ডিই পেরোননি।

বিএমডিসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েও ডাক্তার পদবী ব্যবহার এবং এইচএসসি পরীক্ষার জাল সনদের মাধ্যমে সরকারি চাকুরি নেওয়ার অভিযোগে ২০২১ সালের ১৬ জুন তারিখে দুদক ফরিদপুর কার্যালয়ের উপ সহকারী পরিচালক সৌরভ দাশ ভুয়া চিকিৎসক হাবিবুর রহমান ওরফে রাকিব হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন, বিএমডিসি রেজিস্ট্রেশন কোয়ালিফিকেশন পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েও সে ডাক্তার পদবী ব্যবহার করছে। ২০১৩ সালে ডাক্তার সেজে চিকিৎসা করার অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করেন। ওই সময় আর কখনও ডাক্তারী করবেন না বলে মুচলেকা দিলেও ছাড়া পেয়ে আবার একই অপরাধ করতে থাকেন। এছাড়া জাল এইচএসসি সনদ তৈরি করে বরগুনা হাসপাতালে এমএনএইচ প্রজেক্টে মেডিকেল অফিসার হিসেবে চাকরি নেন। সেখানে চাকরির জন্য যেসব কাগজপত্র জমা দিয়েছিলেন তার সবই জাল বলে প্রমাণিত হয়েছে।

দুদকের অপর একটি মামলায় মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান ওরফে মো. রাকিব হাসানের বিরুদ্ধে সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ আনা হয়েছে। এ মামলার বাদী একই কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আবুল বাসার। এজাহারে তিনি উল্লেখ করেছেন, তার দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে ১৩ লাখ ৬৩ হাজার ৯৬৬ টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্য প্রদর্শন না করে গোপন করেছেন। এছাড়া অবৈধ উৎস থেকে ২৭ লাখ ৪৭ হাজার ৩০১ টাকা জ্ঞায় আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করে দুর্নীতি দমন কমিশন ২০০৪ এর ২৭(১) ও ২৬ (২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান ওরফে মো. রাকিব হাসান নোয়াখালী জেলার চৌমুহনী উপজেলার ল্যাব এইড লিমিটেড (ডায়াগনাস্টিক) নামক একটি প্রতিষ্ঠানে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার পরিচয়ে নিয়মিত রোগী দেখতেন। সেখানে তার সাইনবোর্ডে লেখা ছিল ‘ব্রেইন স্ট্রোক, প্যারালাইসিস, মৃগী রোগ (খিচুনি) ও মাথা রোগ বিশেষজ্ঞ সহকারী অধ্যাপক ডা. রাকিব আহসান, এমবিবিএস, এমপিএইচ, এমডি (নিউরোমেডিসিন) এবং সহকারী অধ্যাপক বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, ঢাকা। কিছুদিন আগে ভুয়া প্রমাণিত হওয়ার ল্যাব এইড কর্তৃপক্ষ তাকে র‌্যাবের হাতে তুলে দেয়।

দুদকের রাজবাড়ী জেলা আদালতের পিপি অ্যড. বিজন বোস জানান, মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান ওরফে মো. রাকিব হাসানের নামে দুটি মামলা চলমান। দুটিতেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। নোয়াখালীতে ওই ব্যক্তি চিকিৎসক সেজে রোগী দেখতেন। ভ্রাম্যমাণ আদালতে সেখানে তার দুই বছরের জেল হয়েছে। এ খবর তারা পেয়ে তাকে নোয়াখালী থেকে রাজবাড়ী এনে আদালতে শুনানীর জন্য তোলা হয়। শুনানী শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।