Dhaka ১১:৩৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ জুন ২০২৪, ৬ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
দরিদ্র কিশোরীর সাথে প্রতারণা, গ্রেপ্তার ১

‘আপনি ১ লক্ষ ৬৫ হাজার টাকা পুরস্কার পাচ্ছেন’

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশের সময় : ০৯:৩১:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ এপ্রিল ২০২৩
  • / ১০৯১ জন সংবাদটি পড়েছেন

 ‘ আমি বাংলালিংক অফিস থেকে কাস্টমার কেয়ার প্রতিনিধি রিফাত মাহমুদ বলছি। আপনি যে নম্বরটি ব্যবহার করছেন বাংলালিংক ফোন কোম্পানীর ১২ বছর নের্টওয়ার্ক সার্ভিস উদযাপনে আপনি ১ লক্ষ ৬৫ হাজার টাকা পুরস্কার পাচ্ছেন। পুরস্কারটা পেতে যাচ্ছেন শুধুমাত্র কোম্পানীর নম্বর ব্যবহার করার জন্য।’ – এভাবেই গ্রামের সহজ সরল এক কিশোরীকে ফাঁদে ফেলে তার কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে তিন দফায় ছয় হাজার ৫শ টাকা হাতিয়ে নেয় প্রতারক। রাজবাড়ীর ডিবি পুলিশ সোমবার সন্ধ্যার দিকে সদর উপজেলার খালিসা সোনাপুর গ্রামের একটি মেহগনি বাগান থেকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছে ওই প্রতারককে। তার নাম নাছির উদ্দিন। সে একই গ্রামের মজনু শেখের ছেলে। পুলিশ জানিয়েছে, প্রতারণা করাই তার পেশা। মোবাইল ফোনে প্রতারণার মাধ্যমে তার মাসিক আয় ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা।

রাজবাড়ী ডিবি অফিস সূত্র জানায়, সোমবার নাছির উদ্দিন নামে ওই ব্যক্তি নড়াইল জেলার বাসিন্দা হালিমা নামে এক কিশোরীর কাছে ফোন করে বলে, ‘আসসালামু আলাইকুম, আমি বাংলালিংক অফিস থেকে কাস্টমার কেয়ার প্রতিনিধি রিফাত মাহমুদ বলছি। বর্তমানে আমরা বাংলালিংক থেকে আপনার যে নাম্বারে ফোন করেছি। এ নম্বরটি কি আপনি ব্যবহার করেন। না আপনার পরিবারের অন্য কেউ ব্যবহার করে? আপনি নম্বরটি ব্যবহার করে গত মাসে বা চলতি মাসে আমাদের অফিস থেকে দুইশত বা তিনশত টাকার কোন বোনাস পেয়েছেন? আপনি যে নম্বরটি ব্যবহার করছেন বাংলালিংক ফোন কোম্পানীর ১২ বছর নের্টওয়ার্ক সার্ভিস উদযাপনে আপনি ১ লক্ষ ৬৫ হাজার টাকা পুরস্কার পাচ্ছেন। পুরস্কারটা পেতে যাচ্ছেন শুধুমাত্র কোম্পানীর নম্বর ব্যবহার করার জন্য। আপনি পুরস্কার পাবেন কখন, কোথায় পাবেন এবং কিভাবে পাবেন তা ০১৯৬৩-৭৪১৬৪২ এই নম্বরে ফোন করে জানতে পারবেন।’ তখন হালিমা ওই নাম্বারে ফোন করলে প্রতারক বলেন, আপনাকে অনেক ধন্যবাদ কল করার জন্য। আপনি যে পুরস্কার পাবেন, তা দুই ভাগে পাবেন। প্রথমটি আপনার মোবাইলে নগদ টাকা পাবেন ৬৫ হাজার টাকা। যা দিয়ে আপনি আগামী ৭ বৎসর ফ্রি কল করতে পারবেন। এজন্য রেজিস্ট্রেশন বাবদ আপনাকে খরচ সহ পাঁচশ টাকা ০১৯৯২৫০৭৮০৮ এই নম্বরে পাঠাতে হবে। হালিমা বিকাশ নাম্বারে টাকা দিলে প্রতারক তাকে একটি ৬৫,০০০ টাকার মেসেজ পাঠায়। যে ম্যাসেজে ইংরেজিতে লেখা ছিল ‘টাকা ৬৫,০০০ রিচার্জ সফল হয়েছে, ব্যালেন্স চেক ইনবক্স, মেয়াদ ৭ বছর ২০৩০ সাল।’ তখন প্রতারক হালিমাকে আবারও বলে বাকী এক লক্ষ টাকা আমাদের কোম্পানী থেকে সরাসরি বাড়িতে গিয়ে পৌছে দিয়ে আসবে। সেজন্য আপনাকে রেজিস্ট্রেশন বাবদ একই বিকাশ নম্বর খরচ সহ দিন হাজার টাকা পাঠাতে হবে। হালিমা প্রতারকের কথায় বিশ্বাস করে বিকাশ নম্বরে খরচ সহ তিন হাজার টাকা পাঠিয়ে দেয়। এরপরে প্রতারক আবারও ভিকটিমকে ফোন করে বলে, আপনার বাড়িতে একজন পুলিশ, একজন ম্যাজিস্ট্রেট এবং আমরা কোম্পানীর সিনিয়র জুনিয়র অফিসার আপনার বাসায় গিয়ে এক লাখ টাকা দিয়ে আসব। সেজন্য আপনাকে তেল খরচ বাবদ আরো তিন হাজার টাকা দিতে হবে। হালিমা তাদের কথায় আবারও বিশ^াস করে এবং তেল খরচ বাবদ খরচসহ তিন হাজার টাকা বিকাশ নম্বরে পাঠায়। এরপর প্রতারক মোবাইল নম্বরটি বøক লিস্টে দিয়ে দেয়।

রাজবাড়ীর ডিবি ওসি মো. মনিরুজ্জামান জানান, জঙ্গলের মধ্যে বসে এক ব্যক্তি মোবাইল ফোনে মানুষের সাথে প্রতারণা করছে- গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এমন খবর পেয়ে সেখানে চুপিসারে গিয়ে দেখেন ওই ব্যক্তি মোবাইল ফোনে কথা বলছে। অতি সতর্কতার সাথে তার কথাগুলো অডিও রেকর্ডিং করেন। সে এটা বুঝতে পারেনি। কথা শেষ হওয়ার পর তাকে হাতেনাতে ধরা হয়। তার কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত তিনটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। পুলিশের কাছে সে স্বীকার করেছে, দীর্ঘদিন যাবৎ সে মানুষের সাথে এভাবে প্রতারণা করে আসছে। প্রতারণার মাধ্যমে তার মাসিক আয় ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা। তার সাথে যারা কাজ করে তাদের নাম বলেছে। তদন্তের স্বার্থে এখনই প্রকাশ করা সম্ভব নয়। চক্রের বাকী সদস্যকে আটকের চেষ্টা চলছে। এব্যাপারে মামলা দায়েরের পর আসামিকে রাজবাড়ীর আদালতে চালান করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, প্রতারক চক্র অভিনব কায়দার মানুষের কাছে ফোন করে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মেহগনি বাগানে বসে মোবাইল নম্বরের ক্রমানুসারে একের পর এক কল করে। এর মধ্যে যে একটু সহজ সরল, তার কাছ থেকে হাতিয়ে নেয় মোটা অংকের টাকা। প্রতারণার শিকার হালিমা একজন রিক্সাচালকের মেয়ে। খুবই হতদরিদ্র। তার সাথে মোবাইল ফোনে তারা যোগাযোগ করেছেন। মেয়েটি প্রচন্ড ভাবে ভেঙে পড়েছে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

দরিদ্র কিশোরীর সাথে প্রতারণা, গ্রেপ্তার ১

‘আপনি ১ লক্ষ ৬৫ হাজার টাকা পুরস্কার পাচ্ছেন’

প্রকাশের সময় : ০৯:৩১:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ এপ্রিল ২০২৩

 ‘ আমি বাংলালিংক অফিস থেকে কাস্টমার কেয়ার প্রতিনিধি রিফাত মাহমুদ বলছি। আপনি যে নম্বরটি ব্যবহার করছেন বাংলালিংক ফোন কোম্পানীর ১২ বছর নের্টওয়ার্ক সার্ভিস উদযাপনে আপনি ১ লক্ষ ৬৫ হাজার টাকা পুরস্কার পাচ্ছেন। পুরস্কারটা পেতে যাচ্ছেন শুধুমাত্র কোম্পানীর নম্বর ব্যবহার করার জন্য।’ – এভাবেই গ্রামের সহজ সরল এক কিশোরীকে ফাঁদে ফেলে তার কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে তিন দফায় ছয় হাজার ৫শ টাকা হাতিয়ে নেয় প্রতারক। রাজবাড়ীর ডিবি পুলিশ সোমবার সন্ধ্যার দিকে সদর উপজেলার খালিসা সোনাপুর গ্রামের একটি মেহগনি বাগান থেকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছে ওই প্রতারককে। তার নাম নাছির উদ্দিন। সে একই গ্রামের মজনু শেখের ছেলে। পুলিশ জানিয়েছে, প্রতারণা করাই তার পেশা। মোবাইল ফোনে প্রতারণার মাধ্যমে তার মাসিক আয় ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা।

রাজবাড়ী ডিবি অফিস সূত্র জানায়, সোমবার নাছির উদ্দিন নামে ওই ব্যক্তি নড়াইল জেলার বাসিন্দা হালিমা নামে এক কিশোরীর কাছে ফোন করে বলে, ‘আসসালামু আলাইকুম, আমি বাংলালিংক অফিস থেকে কাস্টমার কেয়ার প্রতিনিধি রিফাত মাহমুদ বলছি। বর্তমানে আমরা বাংলালিংক থেকে আপনার যে নাম্বারে ফোন করেছি। এ নম্বরটি কি আপনি ব্যবহার করেন। না আপনার পরিবারের অন্য কেউ ব্যবহার করে? আপনি নম্বরটি ব্যবহার করে গত মাসে বা চলতি মাসে আমাদের অফিস থেকে দুইশত বা তিনশত টাকার কোন বোনাস পেয়েছেন? আপনি যে নম্বরটি ব্যবহার করছেন বাংলালিংক ফোন কোম্পানীর ১২ বছর নের্টওয়ার্ক সার্ভিস উদযাপনে আপনি ১ লক্ষ ৬৫ হাজার টাকা পুরস্কার পাচ্ছেন। পুরস্কারটা পেতে যাচ্ছেন শুধুমাত্র কোম্পানীর নম্বর ব্যবহার করার জন্য। আপনি পুরস্কার পাবেন কখন, কোথায় পাবেন এবং কিভাবে পাবেন তা ০১৯৬৩-৭৪১৬৪২ এই নম্বরে ফোন করে জানতে পারবেন।’ তখন হালিমা ওই নাম্বারে ফোন করলে প্রতারক বলেন, আপনাকে অনেক ধন্যবাদ কল করার জন্য। আপনি যে পুরস্কার পাবেন, তা দুই ভাগে পাবেন। প্রথমটি আপনার মোবাইলে নগদ টাকা পাবেন ৬৫ হাজার টাকা। যা দিয়ে আপনি আগামী ৭ বৎসর ফ্রি কল করতে পারবেন। এজন্য রেজিস্ট্রেশন বাবদ আপনাকে খরচ সহ পাঁচশ টাকা ০১৯৯২৫০৭৮০৮ এই নম্বরে পাঠাতে হবে। হালিমা বিকাশ নাম্বারে টাকা দিলে প্রতারক তাকে একটি ৬৫,০০০ টাকার মেসেজ পাঠায়। যে ম্যাসেজে ইংরেজিতে লেখা ছিল ‘টাকা ৬৫,০০০ রিচার্জ সফল হয়েছে, ব্যালেন্স চেক ইনবক্স, মেয়াদ ৭ বছর ২০৩০ সাল।’ তখন প্রতারক হালিমাকে আবারও বলে বাকী এক লক্ষ টাকা আমাদের কোম্পানী থেকে সরাসরি বাড়িতে গিয়ে পৌছে দিয়ে আসবে। সেজন্য আপনাকে রেজিস্ট্রেশন বাবদ একই বিকাশ নম্বর খরচ সহ দিন হাজার টাকা পাঠাতে হবে। হালিমা প্রতারকের কথায় বিশ্বাস করে বিকাশ নম্বরে খরচ সহ তিন হাজার টাকা পাঠিয়ে দেয়। এরপরে প্রতারক আবারও ভিকটিমকে ফোন করে বলে, আপনার বাড়িতে একজন পুলিশ, একজন ম্যাজিস্ট্রেট এবং আমরা কোম্পানীর সিনিয়র জুনিয়র অফিসার আপনার বাসায় গিয়ে এক লাখ টাকা দিয়ে আসব। সেজন্য আপনাকে তেল খরচ বাবদ আরো তিন হাজার টাকা দিতে হবে। হালিমা তাদের কথায় আবারও বিশ^াস করে এবং তেল খরচ বাবদ খরচসহ তিন হাজার টাকা বিকাশ নম্বরে পাঠায়। এরপর প্রতারক মোবাইল নম্বরটি বøক লিস্টে দিয়ে দেয়।

রাজবাড়ীর ডিবি ওসি মো. মনিরুজ্জামান জানান, জঙ্গলের মধ্যে বসে এক ব্যক্তি মোবাইল ফোনে মানুষের সাথে প্রতারণা করছে- গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এমন খবর পেয়ে সেখানে চুপিসারে গিয়ে দেখেন ওই ব্যক্তি মোবাইল ফোনে কথা বলছে। অতি সতর্কতার সাথে তার কথাগুলো অডিও রেকর্ডিং করেন। সে এটা বুঝতে পারেনি। কথা শেষ হওয়ার পর তাকে হাতেনাতে ধরা হয়। তার কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত তিনটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। পুলিশের কাছে সে স্বীকার করেছে, দীর্ঘদিন যাবৎ সে মানুষের সাথে এভাবে প্রতারণা করে আসছে। প্রতারণার মাধ্যমে তার মাসিক আয় ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা। তার সাথে যারা কাজ করে তাদের নাম বলেছে। তদন্তের স্বার্থে এখনই প্রকাশ করা সম্ভব নয়। চক্রের বাকী সদস্যকে আটকের চেষ্টা চলছে। এব্যাপারে মামলা দায়েরের পর আসামিকে রাজবাড়ীর আদালতে চালান করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, প্রতারক চক্র অভিনব কায়দার মানুষের কাছে ফোন করে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মেহগনি বাগানে বসে মোবাইল নম্বরের ক্রমানুসারে একের পর এক কল করে। এর মধ্যে যে একটু সহজ সরল, তার কাছ থেকে হাতিয়ে নেয় মোটা অংকের টাকা। প্রতারণার শিকার হালিমা একজন রিক্সাচালকের মেয়ে। খুবই হতদরিদ্র। তার সাথে মোবাইল ফোনে তারা যোগাযোগ করেছেন। মেয়েটি প্রচন্ড ভাবে ভেঙে পড়েছে।