Dhaka 11:56 am, Friday, 2 December 2022

গোয়ালন্দে দুর্গম চরের স্কুল জাতীয় চার নেতার নামে করার ঘোষণা

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশের সময় : 09:17:23 pm, Friday, 4 November 2022
  • / 1054 জন সংবাদটি পড়েছেন

গোয়ালন্দ উপজেলার দূর্গম কুশাহাটা চরের শিশুরা শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিল দীর্ঘদিন। এ বিষয়ে দৈনিক সমকালে সংবাদ প্রকাশের পর দূর্গম ওই চরে স্কুল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহন করেন গোয়ালন্দ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ¦ মোস্তফা মুন্সি। সে অনুযায়ী জায়গা ক্রয় করে সেখানে স্কুলঘর নির্মাণ কাজের উদ্বোধন ছিল বৃহস্পতিবার (৩ নভেম্বর)। উদ্বোধন কালে জেল হত্যা দিবসের কথা স্মরন করে প্রতিষ্ঠাতা নিজেই তার নাম পরিবর্তন করে জাতীয় ৪ নেতার নামে স্কুলের নামকরণ করার ঘোষনা দেন।

জানা যায়, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার মূল ভুখন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন এক দ্বীপের নাম কুশাহাটা চর। এই চরের হত দরিদ্র মানুষ একদিকে যেমন স্বাস্থ্য সেবাসহ বিভিন্ন মৌলিক নাগরিক সুবিধা বঞ্চিত, অন্যদিকে এখানকার কয়েকশ শিশুরা শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত। বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা পায়ক্ট বাংলাদেশের উদ্যোগে একজন শিক্ষক দিয়ে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল একটি প্রি প্রাইমারী স্কুল। যে স্কুলে দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী থাকলেও ছিল না কোন স্কুলঘর ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা। এখানকার শিশুদের শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহন করেন গোয়ালন্দ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি শিল্পপতি আলহাজ¦ মোস্তফা মুন্সি। এ লক্ষ্যে এ একর জায়গা কিনে মাটি ভরাটের কাজ সম্পন্ন করে স্কুলঘর নির্মাণের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয় বৃহস্পতিবার (৩ নভেম্বর)। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জাতীয় চার নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রতিষ্ঠাতা মোস্তফা মুন্সি এই স্কুলের নাম পরিবর্তন করে জাতীয় চার নেতার নামে করা ঘোষণা দেন। এসময় তিনি ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক আবু কায়সার খান, গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জাকির হোসেন, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান চৌধুরী, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নার্গিস পারভীন, গোয়ালন্দ ঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ স্বপন কুমার মজুমদার।

স্থানীয় আব্দুস সালাম মন্ডল জানান, এক সময় এই কুশাহাটায় হাসপাতাল, পশু হাসপাতাল, স্কুলসহ রাস্তাঘাট সবই ছিল। ১৯৯৭-৮৮ সালের নদী ভাঙনে সে সবকিছুই পদ্মায় বিলীন হয়ে যায়। আবার ২০১৪-১৫ সালে ফের আবার চর জেগে ওঠে। আমরা অনেকেই আবার সেই চরে বসবাস শুরু করি। কিন্তু এখানে এখনো পর্যন্ত কোন নাগরিক সুবিধা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা পায়াক্ট বাংলদেশ শিশুদের জন্য কোন মতে একটি প্রি প্রাইমারী স্কুল করলেও তা ছিলা নানা সমস্যায় জর্জরিত। এখন উপজেলা চেয়ারম্যান মহোদয় বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে। এ ছাড়া শিক্ষার পাশাপাশি ডিসি মহোদয় স্বাস্থ্য সেবার জন্য কমিউনিটি ক্লিনিক প্রতিষ্ঠার ঘোষণা প্রদান করায় তারা অনেক খুশি। তবে এখানকার বাসিন্দারা প্রচুর পরিমানে গবাদি পুশু পালন করে থাকে। এ সকল গবাদি পশুর সু চিকিৎসার কোন ব্যবস্থা নেই। তাই এ সকল গবাদি পুশুর সুচিকিৎসার দাবি জানান।

গোয়ালন্দ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ¦ মোস্তফা মুন্সি বলেন, সরকারী ভাবে বিভিন্ন নিয়ম-কানুন সম্পন্ন করে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করা অনেকটা সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। তাই আমি ব্যাক্তিগত ভাবে গোয়ালন্দের দূর্গম চর কুশাহাটায় একটি স্কুল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছি। যেখানে আমি ব্যাক্তিগত ভাবে বেতন দিয়ে ৩/৪ জন শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে পাঠদান কার্যক্রম শুরু করব। আর বিদ্যালয়টি আমার নিজের নামে করার কথা থাকলেও কাকতালিয় ভাবে জেল হত্যা দিবসের দিন এর নির্মাণ কাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়। তাই তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আমি এ স্কুলের নাম জাতীয় চার নেতার নামেই প্রতিষ্ঠিত করব।

রাজবাড়ীল জেলা প্রশাসক আবু কায়সার খান স্কুল নির্মাণের কাজকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, স্কুলের একটি কক্ষেই কমিউনিটি ক্লিনিকের কার্যক্রম শুরুর ব্যবস্থা করা হবে। তবে পশু হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা সময়সাপেক্ষ ব্যাপার, তাই যাতে প্রতি সপ্তাহে একজন পশু চিকিৎসক চরবাসীর গবাদি পশুর চিকিৎসা প্রদান করে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগের সাথে কথা বলা হবে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

গোয়ালন্দে দুর্গম চরের স্কুল জাতীয় চার নেতার নামে করার ঘোষণা

প্রকাশের সময় : 09:17:23 pm, Friday, 4 November 2022

গোয়ালন্দ উপজেলার দূর্গম কুশাহাটা চরের শিশুরা শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিল দীর্ঘদিন। এ বিষয়ে দৈনিক সমকালে সংবাদ প্রকাশের পর দূর্গম ওই চরে স্কুল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহন করেন গোয়ালন্দ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ¦ মোস্তফা মুন্সি। সে অনুযায়ী জায়গা ক্রয় করে সেখানে স্কুলঘর নির্মাণ কাজের উদ্বোধন ছিল বৃহস্পতিবার (৩ নভেম্বর)। উদ্বোধন কালে জেল হত্যা দিবসের কথা স্মরন করে প্রতিষ্ঠাতা নিজেই তার নাম পরিবর্তন করে জাতীয় ৪ নেতার নামে স্কুলের নামকরণ করার ঘোষনা দেন।

জানা যায়, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার মূল ভুখন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন এক দ্বীপের নাম কুশাহাটা চর। এই চরের হত দরিদ্র মানুষ একদিকে যেমন স্বাস্থ্য সেবাসহ বিভিন্ন মৌলিক নাগরিক সুবিধা বঞ্চিত, অন্যদিকে এখানকার কয়েকশ শিশুরা শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত। বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা পায়ক্ট বাংলাদেশের উদ্যোগে একজন শিক্ষক দিয়ে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল একটি প্রি প্রাইমারী স্কুল। যে স্কুলে দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী থাকলেও ছিল না কোন স্কুলঘর ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা। এখানকার শিশুদের শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহন করেন গোয়ালন্দ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি শিল্পপতি আলহাজ¦ মোস্তফা মুন্সি। এ লক্ষ্যে এ একর জায়গা কিনে মাটি ভরাটের কাজ সম্পন্ন করে স্কুলঘর নির্মাণের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয় বৃহস্পতিবার (৩ নভেম্বর)। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জাতীয় চার নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রতিষ্ঠাতা মোস্তফা মুন্সি এই স্কুলের নাম পরিবর্তন করে জাতীয় চার নেতার নামে করা ঘোষণা দেন। এসময় তিনি ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক আবু কায়সার খান, গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জাকির হোসেন, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান চৌধুরী, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নার্গিস পারভীন, গোয়ালন্দ ঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ স্বপন কুমার মজুমদার।

স্থানীয় আব্দুস সালাম মন্ডল জানান, এক সময় এই কুশাহাটায় হাসপাতাল, পশু হাসপাতাল, স্কুলসহ রাস্তাঘাট সবই ছিল। ১৯৯৭-৮৮ সালের নদী ভাঙনে সে সবকিছুই পদ্মায় বিলীন হয়ে যায়। আবার ২০১৪-১৫ সালে ফের আবার চর জেগে ওঠে। আমরা অনেকেই আবার সেই চরে বসবাস শুরু করি। কিন্তু এখানে এখনো পর্যন্ত কোন নাগরিক সুবিধা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা পায়াক্ট বাংলদেশ শিশুদের জন্য কোন মতে একটি প্রি প্রাইমারী স্কুল করলেও তা ছিলা নানা সমস্যায় জর্জরিত। এখন উপজেলা চেয়ারম্যান মহোদয় বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে। এ ছাড়া শিক্ষার পাশাপাশি ডিসি মহোদয় স্বাস্থ্য সেবার জন্য কমিউনিটি ক্লিনিক প্রতিষ্ঠার ঘোষণা প্রদান করায় তারা অনেক খুশি। তবে এখানকার বাসিন্দারা প্রচুর পরিমানে গবাদি পুশু পালন করে থাকে। এ সকল গবাদি পশুর সু চিকিৎসার কোন ব্যবস্থা নেই। তাই এ সকল গবাদি পুশুর সুচিকিৎসার দাবি জানান।

গোয়ালন্দ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ¦ মোস্তফা মুন্সি বলেন, সরকারী ভাবে বিভিন্ন নিয়ম-কানুন সম্পন্ন করে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করা অনেকটা সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। তাই আমি ব্যাক্তিগত ভাবে গোয়ালন্দের দূর্গম চর কুশাহাটায় একটি স্কুল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছি। যেখানে আমি ব্যাক্তিগত ভাবে বেতন দিয়ে ৩/৪ জন শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে পাঠদান কার্যক্রম শুরু করব। আর বিদ্যালয়টি আমার নিজের নামে করার কথা থাকলেও কাকতালিয় ভাবে জেল হত্যা দিবসের দিন এর নির্মাণ কাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়। তাই তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আমি এ স্কুলের নাম জাতীয় চার নেতার নামেই প্রতিষ্ঠিত করব।

রাজবাড়ীল জেলা প্রশাসক আবু কায়সার খান স্কুল নির্মাণের কাজকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, স্কুলের একটি কক্ষেই কমিউনিটি ক্লিনিকের কার্যক্রম শুরুর ব্যবস্থা করা হবে। তবে পশু হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা সময়সাপেক্ষ ব্যাপার, তাই যাতে প্রতি সপ্তাহে একজন পশু চিকিৎসক চরবাসীর গবাদি পশুর চিকিৎসা প্রদান করে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগের সাথে কথা বলা হবে।