Dhaka ০৬:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ৫ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

হত্যার বিচার দাবিতে একসাথে রাস্তায় স্বজনহারা ৭ পরিবার

সংবাদদাতা-
  • প্রকাশের সময় : ০৬:২৪:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২০
  • / ১৪৬৬ জন সংবাদটি পড়েছেন

জনতার আদালত অনলাইন ॥ ২০১৪ সালের ২২ নভেম্বর তারিখে রাজবাড়ীর পাংশায় নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করা হয় রাজবাড়ী জেলা কৃষকলীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা নাদের মুন্সীকে। ২০১৯ সালের ১০ সেপ্টেম্বর একই উপজেলার বাগদুলি বাজারে পিটিয়ে হত্যা করা হয় মৌরাট ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শওকত আলীকে। পাংশা ও কালুখালী উপজেলা এলাকার এমন স্বজনহারা সাতটি পরিবার বিচারের দাবিতে দাঁড়িয়েছিল রাস্তায়। মঙ্গলবার সকালে রাজবাড়ী শহরের প্রাণকেন্দ্র প্রধান সড়কে তারা শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন ও সমাবেশ করে হত্যার সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জাান। রাজবাড়ী জেলা কৃষকলীগের একাংশ তাদের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে মানববন্ধন কর্মসূচীতে অংশগ্রহণ করে।

২০১৪ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে আরও হত্যার শিকার হয়েছেন কালুখালীর বেতবাড়িয়া গ্রামে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান যুবলীগ কর্মী রবিউল বিশ^াস, একই উপজেলার মোহনপুর গ্রামের কৃষক আব্দুর রহিম, সাওরাইল ইউনিয়নের আওয়ামী  লীগ কর্মী ফিরোজ আহমেদ ও আমজাদ হোসেন, পাংশা উপজেলার সরিষা ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ নেতা পিকুল বিশ^াস এবং কসবামাজাইল ইউনিয়নের শিক্ষক আসাদুল ইসলাম। মানববন্ধনে অংশ নেয়া নিহত রবিউলের বড় ভাই, বোন সহ অন্য নিহতের স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন।

মানববন্ধন চলাকালে এক সমাবেশে বক্তৃতা করেন রাজবাড়ী জেলা কৃষকলীগের সহ সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মো. নুরুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কার খান, কৃষকলীগ নেতা প্রয়াত মুন্সী নাদের হোসেনের ছেলে মোস্তফা মাহমুদ হেনা মুন্সী, গোয়ালন্দ উপজেলা কৃষকলীগের আহাবায়ক শেখ মমিন, সদস্য সচিব হাবিবুর রহমান প্রমুখ। অশ্রুসিক্ত নয়নে প্রয়াত মুন্সী নাদের হোসেনের ছেলে মোস্তফা মাহমুদ হেনা মুন্সী তার বাবার হত্যার বিচার দাবি করে বলেন, যখন দেখি আওয়ামী লীগের প্রভাবশালীরা হত্যাকারীদের সাথে বসে চা খায় তখন আর দুঃখের সীমা থাকেনা। হেনা মুন্সী বলেন, জিল্লুল হাকিম এমপি ও তার ছেলে মিতুল হাকিমের প্রতক্ষ মদদে রাজবাড়ী-২ আসন এলাকায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। সন্ত্রাসীদের ধরতে যখনই  পুলিশ মাঠে তখন তাকে বদলি করতে ডিও লেটার দিচ্ছেন। পুলিশ সুপারকে বদলি করার চেষ্টা করলে আমরা গণভবনের সামনে অবস্থান নেব।

অপর বক্তারা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা হত্যা, নির্যাতন, নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন। এর চেয়ে বড় লজ্জার আর কী হতে পারে। আওয়ামী লীগের একটি প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় এসব ঘটনা ঘটেছে। তাদেরই আশ্রয় প্রশয়ে রয়েছে হত্যাকারীরা। সাম্প্রতিক সময়ে রাজবাড়ী জেলা পুলিশ সন্ত্রাসী বিরোধী অভিযান চালিয়ে যখন  দুর্বৃত্তদের গ্রেপ্তার করছে তখন এসপিকে বদলি করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে ই প্রভাবশালী মহল। বক্তারা এসব হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করার দাবি জানান। একই সাথে জেলার পুলিশ সুপারকে বদলি না করতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানান।

মানববন্ধন শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল শহর প্রদক্ষিণ করে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

হত্যার বিচার দাবিতে একসাথে রাস্তায় স্বজনহারা ৭ পরিবার

প্রকাশের সময় : ০৬:২৪:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২০

জনতার আদালত অনলাইন ॥ ২০১৪ সালের ২২ নভেম্বর তারিখে রাজবাড়ীর পাংশায় নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করা হয় রাজবাড়ী জেলা কৃষকলীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা নাদের মুন্সীকে। ২০১৯ সালের ১০ সেপ্টেম্বর একই উপজেলার বাগদুলি বাজারে পিটিয়ে হত্যা করা হয় মৌরাট ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শওকত আলীকে। পাংশা ও কালুখালী উপজেলা এলাকার এমন স্বজনহারা সাতটি পরিবার বিচারের দাবিতে দাঁড়িয়েছিল রাস্তায়। মঙ্গলবার সকালে রাজবাড়ী শহরের প্রাণকেন্দ্র প্রধান সড়কে তারা শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন ও সমাবেশ করে হত্যার সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জাান। রাজবাড়ী জেলা কৃষকলীগের একাংশ তাদের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে মানববন্ধন কর্মসূচীতে অংশগ্রহণ করে।

২০১৪ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে আরও হত্যার শিকার হয়েছেন কালুখালীর বেতবাড়িয়া গ্রামে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান যুবলীগ কর্মী রবিউল বিশ^াস, একই উপজেলার মোহনপুর গ্রামের কৃষক আব্দুর রহিম, সাওরাইল ইউনিয়নের আওয়ামী  লীগ কর্মী ফিরোজ আহমেদ ও আমজাদ হোসেন, পাংশা উপজেলার সরিষা ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ নেতা পিকুল বিশ^াস এবং কসবামাজাইল ইউনিয়নের শিক্ষক আসাদুল ইসলাম। মানববন্ধনে অংশ নেয়া নিহত রবিউলের বড় ভাই, বোন সহ অন্য নিহতের স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন।

মানববন্ধন চলাকালে এক সমাবেশে বক্তৃতা করেন রাজবাড়ী জেলা কৃষকলীগের সহ সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মো. নুরুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কার খান, কৃষকলীগ নেতা প্রয়াত মুন্সী নাদের হোসেনের ছেলে মোস্তফা মাহমুদ হেনা মুন্সী, গোয়ালন্দ উপজেলা কৃষকলীগের আহাবায়ক শেখ মমিন, সদস্য সচিব হাবিবুর রহমান প্রমুখ। অশ্রুসিক্ত নয়নে প্রয়াত মুন্সী নাদের হোসেনের ছেলে মোস্তফা মাহমুদ হেনা মুন্সী তার বাবার হত্যার বিচার দাবি করে বলেন, যখন দেখি আওয়ামী লীগের প্রভাবশালীরা হত্যাকারীদের সাথে বসে চা খায় তখন আর দুঃখের সীমা থাকেনা। হেনা মুন্সী বলেন, জিল্লুল হাকিম এমপি ও তার ছেলে মিতুল হাকিমের প্রতক্ষ মদদে রাজবাড়ী-২ আসন এলাকায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। সন্ত্রাসীদের ধরতে যখনই  পুলিশ মাঠে তখন তাকে বদলি করতে ডিও লেটার দিচ্ছেন। পুলিশ সুপারকে বদলি করার চেষ্টা করলে আমরা গণভবনের সামনে অবস্থান নেব।

অপর বক্তারা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা হত্যা, নির্যাতন, নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন। এর চেয়ে বড় লজ্জার আর কী হতে পারে। আওয়ামী লীগের একটি প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় এসব ঘটনা ঘটেছে। তাদেরই আশ্রয় প্রশয়ে রয়েছে হত্যাকারীরা। সাম্প্রতিক সময়ে রাজবাড়ী জেলা পুলিশ সন্ত্রাসী বিরোধী অভিযান চালিয়ে যখন  দুর্বৃত্তদের গ্রেপ্তার করছে তখন এসপিকে বদলি করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে ই প্রভাবশালী মহল। বক্তারা এসব হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করার দাবি জানান। একই সাথে জেলার পুলিশ সুপারকে বদলি না করতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানান।

মানববন্ধন শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল শহর প্রদক্ষিণ করে।