Dhaka 9:37 am, Sunday, 5 February 2023

রাজবাড়ীতে পদ্মার ভাঙনে এক রাতেই বিলীন দেড়শ মিটার এলাকা, হুমকিতে শহরক্ষা বাঁধ

সংবাদদাতা-
  • প্রকাশের সময় : 06:25:08 pm, Wednesday, 30 September 2020
  • / 1246 জন সংবাদটি পড়েছেন

জনতার আদালত অনলাইন ॥ রোজবাড়ী শহরতলীর গোদারবাজার এলাকায় পদ্মা নদীতে ভাঙন শুরু হয়েছে। এক রাতেই  নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে দেড়শ মিটার এলাকা। হুমকির মুখে পড়েছে রাজবাড়ী শহর রক্ষা বাঁধ। আতঙ্কে বাড়ি ঘর সরাতে শুরু করেছে পদ্মা তীরবর্তী বাসিন্দারা। ভাঙনরোধে বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

গোদারবাজার এলাকাটি রাজবাড়ীবাসীর জন্য পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত  ছিল। নদী তীরে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নির্মাণ করা হয়েছিল দর্শণীয় ছাউনী। মঙ্গলবার দুপুর  ১২টার দিকে গোদারবাজার এলাকায় পদ্মা  নদীতে গিয়ে দেখা যায়, নদীর তীরে ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য সেই দর্শণীয় ছাউনী নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ইট পাথর দিয়ে তৈরি কয়েকটি ব্রেঞ্চও বিলীন হয়েছে নদীতে। নদীতীরে  গাছগাছালি কেটে ফেলা হচ্ছে। কেউ কেউ সরিয়ে নিচ্ছে ঘরবাড়ি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে ফেলা হচ্ছে বালুভর্তি জিও ব্যাগ। নদী  থেকে শহর রক্ষা বেরি বাঁধ মাত্র একশ মিটার দূরে রয়েছে। এভাবে ভাঙন অব্যাহত থাকলে যেকোনো সময় বেরি বাঁধ নদীতে বিলীন হয়ে যাবে।

গোদারবাজার এলাকার বাসিন্দা জাহানারা বেগম জানান, সোমবার রাত ১১টা থেকে ভাঙন শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যে বিলীন হয়ে যায় নদী তীরের সব স্থাপনা। এসময় তারা আতঙ্কিত  হয়ে পড়েন। নদী তীরে তার স্বামীর চটপটির দোকান ছিল। ভাঙনের কারণে তিনি এখন বেকার। ঘরবাড়ি নিয়ে  ভয়ে আছেন। কখন যেন নদীতে বিলীন হয়ে যায়।

আব্দুল কুদ্দুস মোল্লার বাড়ি ও দোকান দুটোই নদীর তীরে। পেশায় তিনি একজন দর্জি। তিনি জানান, জীবন  জীবীকা, পরিবার, ঘর-বাড়ি সব কিছু নিয়েই শঙ্কায় আছি।  রাতে  মুহূর্তের মধ্যে সব চলে গেল নদীগর্ভে। দেড়শ মিটারেরও বেশি এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বলে জানান তিনি। এখন শহর রক্ষা বেরিবাঁধও হুমকিতে রয়েছে।

রাজবাড়ী শহরের বাসিন্দা আব্দুল বাতেন শেখ জানান, তিনি মাঝে মাঝে নদীতে ঘুরতে আসতেন। দর্শণীয় একটি বসার স্থান ছিল। আজও (মঙ্গলবার) এসেছিলেন নদীতে ঘুরতে। এসে দেখেন কিছুই নাই।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানিয়েছে, এক যুগেরও বেশি সময় ধরে অব্যাহত নদী ভাঙনরোধে গোদারবাজার থেকে সোনাকান্দর পর্যন্ত আড়াই কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ব্লক দিয়ে নদী তীর সংরক্ষণ করা হয়েছিল। কয়েক দফা ভাঙনে গোদারবাজার এলাকায় সেইসব ব্লক নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে অনেক আগেই। ভাঙনরোধে গত বছর থেকে বালু ভর্তি  জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু হয়। তবে বর্ষা মৌসুমের কারণে কাজ বন্ধ ছিল।

রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল আহাদ জানান, রাজবাড়ী শহর রক্ষা প্রকল্প (দ্বিতীয় পর্যায়) এলাকায় সোমবার রাতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনের খবর পেয়ে রাতেই তিনিসহ রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের অন্যান্য কর্মকর্তারা ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেছেন। সঙ্গে সঙ্গে তিনি বিষয়টি ফরিদপুর সার্কেল অফিসের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, প্রধান প্রকৌশলীকে অবহিত করেছেন। তাদের নির্দেশে রাতেই ভাঙন কবলিত এলাকায় দুই হাজার বালুভর্তি  জিও ব্যাগ ফেলা হয়। মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর ১২টা  পর্যন্ত এক হাজার বালুর বস্তা ডাম্পিং করা হয়েছে। আরও বালুর বস্তা ফেলা হবে। সেগুলো প্রস্তুত রয়েছে।

তিনি বলেন, বর্ষা মৌসুমে ব্লক ডাম্পিংয়ের কাজ বন্ধ থাকে। নদীতে হঠাৎ পানি বৃদ্ধির কারণে এ ভাঙন দেখা দিয়েছে। তবে ত্বরিৎ পদক্ষেপের কারণে ভাঙন কমে এসে  স্থিতিশীল পর্যায়ে রয়েছে। রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য কাজী কেরামত আলী, জেলা প্রশাসক দিলসাদ বেগমকেও বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

রাজবাড়ীতে পদ্মার ভাঙনে এক রাতেই বিলীন দেড়শ মিটার এলাকা, হুমকিতে শহরক্ষা বাঁধ

প্রকাশের সময় : 06:25:08 pm, Wednesday, 30 September 2020

জনতার আদালত অনলাইন ॥ রোজবাড়ী শহরতলীর গোদারবাজার এলাকায় পদ্মা নদীতে ভাঙন শুরু হয়েছে। এক রাতেই  নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে দেড়শ মিটার এলাকা। হুমকির মুখে পড়েছে রাজবাড়ী শহর রক্ষা বাঁধ। আতঙ্কে বাড়ি ঘর সরাতে শুরু করেছে পদ্মা তীরবর্তী বাসিন্দারা। ভাঙনরোধে বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

গোদারবাজার এলাকাটি রাজবাড়ীবাসীর জন্য পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত  ছিল। নদী তীরে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নির্মাণ করা হয়েছিল দর্শণীয় ছাউনী। মঙ্গলবার দুপুর  ১২টার দিকে গোদারবাজার এলাকায় পদ্মা  নদীতে গিয়ে দেখা যায়, নদীর তীরে ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য সেই দর্শণীয় ছাউনী নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ইট পাথর দিয়ে তৈরি কয়েকটি ব্রেঞ্চও বিলীন হয়েছে নদীতে। নদীতীরে  গাছগাছালি কেটে ফেলা হচ্ছে। কেউ কেউ সরিয়ে নিচ্ছে ঘরবাড়ি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে ফেলা হচ্ছে বালুভর্তি জিও ব্যাগ। নদী  থেকে শহর রক্ষা বেরি বাঁধ মাত্র একশ মিটার দূরে রয়েছে। এভাবে ভাঙন অব্যাহত থাকলে যেকোনো সময় বেরি বাঁধ নদীতে বিলীন হয়ে যাবে।

গোদারবাজার এলাকার বাসিন্দা জাহানারা বেগম জানান, সোমবার রাত ১১টা থেকে ভাঙন শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যে বিলীন হয়ে যায় নদী তীরের সব স্থাপনা। এসময় তারা আতঙ্কিত  হয়ে পড়েন। নদী তীরে তার স্বামীর চটপটির দোকান ছিল। ভাঙনের কারণে তিনি এখন বেকার। ঘরবাড়ি নিয়ে  ভয়ে আছেন। কখন যেন নদীতে বিলীন হয়ে যায়।

আব্দুল কুদ্দুস মোল্লার বাড়ি ও দোকান দুটোই নদীর তীরে। পেশায় তিনি একজন দর্জি। তিনি জানান, জীবন  জীবীকা, পরিবার, ঘর-বাড়ি সব কিছু নিয়েই শঙ্কায় আছি।  রাতে  মুহূর্তের মধ্যে সব চলে গেল নদীগর্ভে। দেড়শ মিটারেরও বেশি এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বলে জানান তিনি। এখন শহর রক্ষা বেরিবাঁধও হুমকিতে রয়েছে।

রাজবাড়ী শহরের বাসিন্দা আব্দুল বাতেন শেখ জানান, তিনি মাঝে মাঝে নদীতে ঘুরতে আসতেন। দর্শণীয় একটি বসার স্থান ছিল। আজও (মঙ্গলবার) এসেছিলেন নদীতে ঘুরতে। এসে দেখেন কিছুই নাই।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানিয়েছে, এক যুগেরও বেশি সময় ধরে অব্যাহত নদী ভাঙনরোধে গোদারবাজার থেকে সোনাকান্দর পর্যন্ত আড়াই কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ব্লক দিয়ে নদী তীর সংরক্ষণ করা হয়েছিল। কয়েক দফা ভাঙনে গোদারবাজার এলাকায় সেইসব ব্লক নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে অনেক আগেই। ভাঙনরোধে গত বছর থেকে বালু ভর্তি  জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু হয়। তবে বর্ষা মৌসুমের কারণে কাজ বন্ধ ছিল।

রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল আহাদ জানান, রাজবাড়ী শহর রক্ষা প্রকল্প (দ্বিতীয় পর্যায়) এলাকায় সোমবার রাতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনের খবর পেয়ে রাতেই তিনিসহ রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের অন্যান্য কর্মকর্তারা ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেছেন। সঙ্গে সঙ্গে তিনি বিষয়টি ফরিদপুর সার্কেল অফিসের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, প্রধান প্রকৌশলীকে অবহিত করেছেন। তাদের নির্দেশে রাতেই ভাঙন কবলিত এলাকায় দুই হাজার বালুভর্তি  জিও ব্যাগ ফেলা হয়। মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর ১২টা  পর্যন্ত এক হাজার বালুর বস্তা ডাম্পিং করা হয়েছে। আরও বালুর বস্তা ফেলা হবে। সেগুলো প্রস্তুত রয়েছে।

তিনি বলেন, বর্ষা মৌসুমে ব্লক ডাম্পিংয়ের কাজ বন্ধ থাকে। নদীতে হঠাৎ পানি বৃদ্ধির কারণে এ ভাঙন দেখা দিয়েছে। তবে ত্বরিৎ পদক্ষেপের কারণে ভাঙন কমে এসে  স্থিতিশীল পর্যায়ে রয়েছে। রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য কাজী কেরামত আলী, জেলা প্রশাসক দিলসাদ বেগমকেও বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।