Dhaka ০১:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৪, ৩০ চৈত্র ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

রাজবাড়ীতে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে করোনা সংকমণ ॥ মানুষের অসচেতনতাকেই দায়ী করছে স্বাস্থ্য বিভাগ

সংবাদদাতা-
  • প্রকাশের সময় : ০৭:৪২:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২০
  • / ১৯৪৯ জন সংবাদটি পড়েছেন

জনতার আদালত অনলাইন ॥ মাত্র এক হাজার ৯২ বর্গকিলোমিটার আয়তন আর পাঁচটি উপজেলা নিয়ে গঠিত রাজবাড়ী জেলার জনসংখ্যা ১১ লাখ। এজেলায় এখন করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা দুই হাজার ৩২০ জন। যা খুবই উদ্বেগজনক। দেশের কোনো অনেক বড় জেলার তুলনায়ও বেশি। প্রতিদিনই বাড়ছে করোনায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। শনাক্তের হারও বেশি। পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণের বাইরে। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ এজন্য মানুষের অসচেতনতাকেই দায়ী করছেন। করোনায় আক্রান্ত হয়ে এপর্যন্ত  জেলায় মারা গেছে ২০ জন। যার মধ্যে চিকিৎসক, আইনজীবীও রয়েছেন। নমুনা দিতে গিয়েও জটলা  ভিড়ের  সৃষ্টি হচ্ছে। এটিও কম উদ্বেগজনক নয় বলেই মনে করছে সাধারণ মানুষ।

নমুনা দিতে যাওয়া একজন ভুক্তভোগী জানান, দুই ঘণ্টা হাসপাতালে অপেক্ষার পর তিনি নমুনা দিতে পেরেছিলেন। এসময়ের মধ্যে হাসপাতালে নমুনা দিতে আসা রোগীর  ভিড় ছিল বেশি। এতে করে যারা পজিটিভ নয় তাদেরও পজিটিভ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

রাজবাড়ী সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.এসএমএ হান্নান জানান, রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে দুজন টেকনিশিয়ান রয়েছেন নমুনা সংগ্রহের জন্য। নমুনা সংগ্রহের জন্য সময় খুব বেশি লাগেনা। কিন্তু এর প্রক্রিয়াতে সময় লাগে  বেশি। ভালো হতো যদি পাঁচটি বুথ স্থাপন করে নমুনা নেয়া যেত। কিন্তু জনবল কম থাকায় সেটি সম্ভব হচ্ছে না।

রাজবাড়ী জেলা সিভিল সার্জন সূত্র জানায়, এপর্যন্ত আট হাজার ৭৪৬ জনের প্রাপ্ত নমুনার মধ্যে পজিটিভ দুই ৩২০ জন। সর্বশেষ ৮২ জনের নমুনা পাঠিয়ে ২২ আগস্ট তারিখে ২৮ জনের পজিটিভ পাওয়া গেছে। আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে সুস্থ  হয়েছেন ১২৮৮ জন, হাসপাতালে ভর্তি  ২৭ জন এবং হোম আইসোলেশনে আছে ৯৫৯ জন। মারা গেছে ২০ জন। শনাক্ত বিবেচনায় মোট আক্রান্তের হার গড়ে প্রায় ২৭ ভাগ। নমুনার বিপরীতে প্রাপ্ত রিপোর্টে কখনও কখনও ৫০ ভাগেরও বেশি শনাক্ত হচ্ছে।

রাজবাড়ী শহর ঘুরে দেখা গেছে, মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার প্রবণতা খুব একটা নেই। সামাজিক বা শারীরিক দূরত্ব মেনে চলছে না কেউ। মাস্ক কেউ পরে, কেউ পরেই না। আবার কেউ পরলেও থাকে নাকের নিচে। পরিবহনগুলোতেও গাদাগাদি করে নেয়া হচ্ছে যাত্রী। বাজার, দোকান, মার্কেটগুলোতেও একই অবস্থা।

রাজবাড়ীর সিভিল সার্জন ডা. মো.  নুরুল ইসলাম বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার গাইড লাইন না মেনে চলার কারণেই এমনটি  হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য যে পাঁচটি গাইড লাইন রয়েছে তার কোনোটিই রাজবাড়ীতে প্রতিপালন হয়না। মানুষের চলাফেরায়ও নেই কোনো সীমাবদ্ধতা। করোনা শনাক্ত হওয়ার পর বাড়ি লকডাউন করতে গিয়ে প্রভাবশালীদের বাধার সম্মুখীন হয়েছি। এভাবে চললে করোনা নিয়ন্ত্রণ করা খুবই কঠিন। যেকারণে রাজবাড়ীতে সংক্রমণের হার বেশি। আমরা শুরু থেকেই প্রতি মুহূর্তে মানুষকে বলে আসছিলাম  স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য। বাজারে মানুষ কোনো কিছ্রুই তোয়াক্কা করছে না। পরিবহনে গাদাগাদি করে যাত্রী নেয়া হচ্ছে। এ সবকিছুই উদ্বেগ জনক। এভাবে চলতে থাকলে সংক্রমণ আরও বাড়বে। এসব বিষয় নিয়ে জেলা করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধ কমিটির সভা আহ্বান করেছি। সভায় সব কিছু তুলে ধরব।

নমুনা সংগ্রহের বিষয়ে বলেন, সবাই নমুনা সংগ্রহ করতে পারেনা। এজন্য অভিজ্ঞ টেকনিশিয়ান প্রয়োজন। রাজবাড়ীতে করোনার উপসর্গ না থাকলে কারও নমুনা নেয়া হচ্ছে না। জ্বর, সর্দি, কাশি, গলাব্যথা রয়েছে এমন রোগীদেরই নমুনা নেয়া হচ্ছে। একারণেই শনাক্তের শতকরা হার বেশি দেখা যাচ্ছে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

রাজবাড়ীতে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে করোনা সংকমণ ॥ মানুষের অসচেতনতাকেই দায়ী করছে স্বাস্থ্য বিভাগ

প্রকাশের সময় : ০৭:৪২:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২০

জনতার আদালত অনলাইন ॥ মাত্র এক হাজার ৯২ বর্গকিলোমিটার আয়তন আর পাঁচটি উপজেলা নিয়ে গঠিত রাজবাড়ী জেলার জনসংখ্যা ১১ লাখ। এজেলায় এখন করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা দুই হাজার ৩২০ জন। যা খুবই উদ্বেগজনক। দেশের কোনো অনেক বড় জেলার তুলনায়ও বেশি। প্রতিদিনই বাড়ছে করোনায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। শনাক্তের হারও বেশি। পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণের বাইরে। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ এজন্য মানুষের অসচেতনতাকেই দায়ী করছেন। করোনায় আক্রান্ত হয়ে এপর্যন্ত  জেলায় মারা গেছে ২০ জন। যার মধ্যে চিকিৎসক, আইনজীবীও রয়েছেন। নমুনা দিতে গিয়েও জটলা  ভিড়ের  সৃষ্টি হচ্ছে। এটিও কম উদ্বেগজনক নয় বলেই মনে করছে সাধারণ মানুষ।

নমুনা দিতে যাওয়া একজন ভুক্তভোগী জানান, দুই ঘণ্টা হাসপাতালে অপেক্ষার পর তিনি নমুনা দিতে পেরেছিলেন। এসময়ের মধ্যে হাসপাতালে নমুনা দিতে আসা রোগীর  ভিড় ছিল বেশি। এতে করে যারা পজিটিভ নয় তাদেরও পজিটিভ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

রাজবাড়ী সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.এসএমএ হান্নান জানান, রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে দুজন টেকনিশিয়ান রয়েছেন নমুনা সংগ্রহের জন্য। নমুনা সংগ্রহের জন্য সময় খুব বেশি লাগেনা। কিন্তু এর প্রক্রিয়াতে সময় লাগে  বেশি। ভালো হতো যদি পাঁচটি বুথ স্থাপন করে নমুনা নেয়া যেত। কিন্তু জনবল কম থাকায় সেটি সম্ভব হচ্ছে না।

রাজবাড়ী জেলা সিভিল সার্জন সূত্র জানায়, এপর্যন্ত আট হাজার ৭৪৬ জনের প্রাপ্ত নমুনার মধ্যে পজিটিভ দুই ৩২০ জন। সর্বশেষ ৮২ জনের নমুনা পাঠিয়ে ২২ আগস্ট তারিখে ২৮ জনের পজিটিভ পাওয়া গেছে। আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে সুস্থ  হয়েছেন ১২৮৮ জন, হাসপাতালে ভর্তি  ২৭ জন এবং হোম আইসোলেশনে আছে ৯৫৯ জন। মারা গেছে ২০ জন। শনাক্ত বিবেচনায় মোট আক্রান্তের হার গড়ে প্রায় ২৭ ভাগ। নমুনার বিপরীতে প্রাপ্ত রিপোর্টে কখনও কখনও ৫০ ভাগেরও বেশি শনাক্ত হচ্ছে।

রাজবাড়ী শহর ঘুরে দেখা গেছে, মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার প্রবণতা খুব একটা নেই। সামাজিক বা শারীরিক দূরত্ব মেনে চলছে না কেউ। মাস্ক কেউ পরে, কেউ পরেই না। আবার কেউ পরলেও থাকে নাকের নিচে। পরিবহনগুলোতেও গাদাগাদি করে নেয়া হচ্ছে যাত্রী। বাজার, দোকান, মার্কেটগুলোতেও একই অবস্থা।

রাজবাড়ীর সিভিল সার্জন ডা. মো.  নুরুল ইসলাম বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার গাইড লাইন না মেনে চলার কারণেই এমনটি  হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য যে পাঁচটি গাইড লাইন রয়েছে তার কোনোটিই রাজবাড়ীতে প্রতিপালন হয়না। মানুষের চলাফেরায়ও নেই কোনো সীমাবদ্ধতা। করোনা শনাক্ত হওয়ার পর বাড়ি লকডাউন করতে গিয়ে প্রভাবশালীদের বাধার সম্মুখীন হয়েছি। এভাবে চললে করোনা নিয়ন্ত্রণ করা খুবই কঠিন। যেকারণে রাজবাড়ীতে সংক্রমণের হার বেশি। আমরা শুরু থেকেই প্রতি মুহূর্তে মানুষকে বলে আসছিলাম  স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য। বাজারে মানুষ কোনো কিছ্রুই তোয়াক্কা করছে না। পরিবহনে গাদাগাদি করে যাত্রী নেয়া হচ্ছে। এ সবকিছুই উদ্বেগ জনক। এভাবে চলতে থাকলে সংক্রমণ আরও বাড়বে। এসব বিষয় নিয়ে জেলা করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধ কমিটির সভা আহ্বান করেছি। সভায় সব কিছু তুলে ধরব।

নমুনা সংগ্রহের বিষয়ে বলেন, সবাই নমুনা সংগ্রহ করতে পারেনা। এজন্য অভিজ্ঞ টেকনিশিয়ান প্রয়োজন। রাজবাড়ীতে করোনার উপসর্গ না থাকলে কারও নমুনা নেয়া হচ্ছে না। জ্বর, সর্দি, কাশি, গলাব্যথা রয়েছে এমন রোগীদেরই নমুনা নেয়া হচ্ছে। একারণেই শনাক্তের শতকরা হার বেশি দেখা যাচ্ছে।