Dhaka ০৮:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৯ মে ২০২৬, ২৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
নিরপরাধ কাউকে হয়রানি না করতে পুলিশের প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশ পাংশায় ড্রাম ট্রাকের চাপায় মোটরসাইকেল চালক নিহত দাদা-দাদির কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত বৃষ্টি মমতার বিশ্বস্ত সহকর্মী থেকে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে মুখ্যমন্ত্রী, শুভেন্দুর উত্থানের গল্প কালুখালীতে ৫ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন পুলিশকে প্রযুক্তি নির্ভর বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান রাষ্ট্রপতির বাজে বোলিংয়ে হতাশায় দিন শেষ করল বাংলাদেশ জন্মের ১০ মাস পর বাবাকে দেখল শিশু, তাও কফিনবন্দি আসামে পরপর দুইবার ভূমিকম্প, বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলেও অনুভূত ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের জন্য সুযোগ, ২ শতাংশ জমা দিলেই নিয়মিত হবে খেলাপি ঋণ

বৃষ্টিতে দুর্ভোগ বাড়াচ্ছে বেরি বাঁধে আশ্রয় নেয়া বানভাসি মানুষের

সংবাদদাতা-
  • প্রকাশের সময় : ০৮:২৮:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২০
  • / 475

জনতার আদালত অনলাইন ॥ ‘বৃষ্টি হলে চাল ভেদ করে উপর দিয়ে পানি পড়ে। রাস্তার পানি গড়িয়ে আসে ঘরে। ঘরের মধ্যে ছাতা মাথায় দিয়ে জড়োসরো হয়ে বসে রাত কাটাই। আজ সাত আটদিন এভাবেই দুর্বিষহ জীবনযাপন করছি আমরা। Ñ এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন রাজবাড়ী সদর উপজেলার বরাট ইউনিয়নের পদ্মা নদী তীরবর্তী বেরিবাঁধে আশ্রয় নেয়া বানভাসি সুফিয়া বেগম। সাতদিন ধরে বেরিবাঁধে আশ্রয় নেয়া মানুষ এখনও পর্যন্ত সাহায্য পাননি। বৃষ্টির সাথে সুপেয় পানির অভাব আর ল্যাট্রিনের কষ্ট তাদের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়েছে।

বুধবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে তাদের দুঃখ দুর্দশাময় জীবনযাপন। রাজবাড়ী সদর উপজেলার বরাট ইউনিয়নের চর বরাট ও গোয়ালন্দ উপজেলার ছোট ভাকলা ইউনিয়নের চরদেলন্দি গ্রামের বন্যা কবলিত শতাধিক পরিবার গবাদি পশু হাঁস মুরগী নিয়ে আশ্রয় নিয়েছে অন্তারমোড় সংলগ্ন বেরি বাঁধের দুপাশে। দুই থেকে আড়াই গজ প্রশস্ত স্থানে টিন, পলিথিন, পাটখড়ির বেড়া দিয়ে অস্থায়ী ঘর নির্মাণ করে বসবাস করছে তারা।  গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে ঘরের মেঝে স্যাঁতসেতে হয়ে গেছে। ঘরে থাকার মত অবস্থাও নেই। তাই ঘরের বাইরে রাস্তায় ঘোরাঘুরি করছে সবাই। রাস্তার উপরেই বেঁধে রাখা হয়েছে গরু ছাগল। মানুষে গরুতে একসাথে বসবাস। কেউ কেউ রাস্তার একপাশে উনুন জ্বালিয়ে রান্নার চেষ্টা করছেন। বৃষ্টি এলেই বন্ধ হয়ে যাবে রান্না। শুরু হবে দুর্ভোগ।

 বেরিবাঁধে আশ্রয় নেয়া বিল্লাল মন্ডল জানান, তিনি পেশায় একজন কৃষক। বাড়িতে তার বুক সমান পানি। সেখানে আর থাকার মত অবস্থা নেই। গরু ছাগল রাখার জায়গাও নেই। তাই পাঁচ সদস্যের পরিবার নিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন বেরি বাঁধের উপর। দিনে যেমন তেমন। রাতে ভয় আরও বাড়ে। কখন যেন ট্রলারে করে ডাকাতরা গরু ছাগল নিয়ে যায়। এখনও পর্যন্ত তারা কোনো সাহায্য সহযোগিতা পাাননি বলে জানান।

আফু মন্ডল জানান, ঘরে রান্নার জায়গা নেই। গবাদি পশুগুলো রেখেছেন রাস্তায়। এর চেয়ে বড় দুর্ভোগ ল্যাট্রিনের। মেয়েছেলেদের জন্য এটা আরও বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শফিক নামে একজন জানালেন, দুদিন আগে তাদের এখানে তিনটি অস্থায়ী নলকূপ আর তিনটি পায়খানার চার স্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু শতাধিক পরিবারের জন্য তা খুবই অপর্যাপ্ত।

সাংবাদিক দেখে ছুটে আসা খোদেজা বেগম, রমজান আলী, রোকসানা, ময়না, রতন শেখসহ অনেকের আকুতি একটু ভালো কইরে লেইখেন। যাতে আমরা একটু সাহায্য সহযোগিতা পাই। এই দুর্দশা থেকে যেন একটু মুক্তি পাই।

রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক দিলসাদ বেগম বলেন, বেরিবাঁধে আশ্রয় নেয়া মানুষের জন্য সাহায্য সহযোগিতার ব্যবস্থা করা হবে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

বৃষ্টিতে দুর্ভোগ বাড়াচ্ছে বেরি বাঁধে আশ্রয় নেয়া বানভাসি মানুষের

প্রকাশের সময় : ০৮:২৮:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২০

জনতার আদালত অনলাইন ॥ ‘বৃষ্টি হলে চাল ভেদ করে উপর দিয়ে পানি পড়ে। রাস্তার পানি গড়িয়ে আসে ঘরে। ঘরের মধ্যে ছাতা মাথায় দিয়ে জড়োসরো হয়ে বসে রাত কাটাই। আজ সাত আটদিন এভাবেই দুর্বিষহ জীবনযাপন করছি আমরা। Ñ এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন রাজবাড়ী সদর উপজেলার বরাট ইউনিয়নের পদ্মা নদী তীরবর্তী বেরিবাঁধে আশ্রয় নেয়া বানভাসি সুফিয়া বেগম। সাতদিন ধরে বেরিবাঁধে আশ্রয় নেয়া মানুষ এখনও পর্যন্ত সাহায্য পাননি। বৃষ্টির সাথে সুপেয় পানির অভাব আর ল্যাট্রিনের কষ্ট তাদের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়েছে।

বুধবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে তাদের দুঃখ দুর্দশাময় জীবনযাপন। রাজবাড়ী সদর উপজেলার বরাট ইউনিয়নের চর বরাট ও গোয়ালন্দ উপজেলার ছোট ভাকলা ইউনিয়নের চরদেলন্দি গ্রামের বন্যা কবলিত শতাধিক পরিবার গবাদি পশু হাঁস মুরগী নিয়ে আশ্রয় নিয়েছে অন্তারমোড় সংলগ্ন বেরি বাঁধের দুপাশে। দুই থেকে আড়াই গজ প্রশস্ত স্থানে টিন, পলিথিন, পাটখড়ির বেড়া দিয়ে অস্থায়ী ঘর নির্মাণ করে বসবাস করছে তারা।  গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে ঘরের মেঝে স্যাঁতসেতে হয়ে গেছে। ঘরে থাকার মত অবস্থাও নেই। তাই ঘরের বাইরে রাস্তায় ঘোরাঘুরি করছে সবাই। রাস্তার উপরেই বেঁধে রাখা হয়েছে গরু ছাগল। মানুষে গরুতে একসাথে বসবাস। কেউ কেউ রাস্তার একপাশে উনুন জ্বালিয়ে রান্নার চেষ্টা করছেন। বৃষ্টি এলেই বন্ধ হয়ে যাবে রান্না। শুরু হবে দুর্ভোগ।

 বেরিবাঁধে আশ্রয় নেয়া বিল্লাল মন্ডল জানান, তিনি পেশায় একজন কৃষক। বাড়িতে তার বুক সমান পানি। সেখানে আর থাকার মত অবস্থা নেই। গরু ছাগল রাখার জায়গাও নেই। তাই পাঁচ সদস্যের পরিবার নিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন বেরি বাঁধের উপর। দিনে যেমন তেমন। রাতে ভয় আরও বাড়ে। কখন যেন ট্রলারে করে ডাকাতরা গরু ছাগল নিয়ে যায়। এখনও পর্যন্ত তারা কোনো সাহায্য সহযোগিতা পাাননি বলে জানান।

আফু মন্ডল জানান, ঘরে রান্নার জায়গা নেই। গবাদি পশুগুলো রেখেছেন রাস্তায়। এর চেয়ে বড় দুর্ভোগ ল্যাট্রিনের। মেয়েছেলেদের জন্য এটা আরও বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শফিক নামে একজন জানালেন, দুদিন আগে তাদের এখানে তিনটি অস্থায়ী নলকূপ আর তিনটি পায়খানার চার স্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু শতাধিক পরিবারের জন্য তা খুবই অপর্যাপ্ত।

সাংবাদিক দেখে ছুটে আসা খোদেজা বেগম, রমজান আলী, রোকসানা, ময়না, রতন শেখসহ অনেকের আকুতি একটু ভালো কইরে লেইখেন। যাতে আমরা একটু সাহায্য সহযোগিতা পাই। এই দুর্দশা থেকে যেন একটু মুক্তি পাই।

রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক দিলসাদ বেগম বলেন, বেরিবাঁধে আশ্রয় নেয়া মানুষের জন্য সাহায্য সহযোগিতার ব্যবস্থা করা হবে।