Dhaka ০৮:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ৫ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

রাজবাড়ীতে নিখোঁজ সাগর ‘হত্যা’র বিচার দাবিতে রাজপথে মা বাবা ও এলাকাবাসী

সংবাদদাতা-
  • প্রকাশের সময় : ১০:২৫:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৯
  • / ১৪৫৬ জন সংবাদটি পড়েছেন

জনতার আদালত অনলাইন ॥ রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের মেছুয়াঘাটা গ্রামের ২১ দিন ধরে নিখাঁজ সাগরের (১৫) ‘হত্যা’র বিচার দাবি করে বুধবার তার বাবাÑমা, আত্মীয় স্বজন ও এলাকাবাসী মানববন্ধন করেছে। সে একই গ্রামের হতদরিদ্র বকুল মিয়ার ছেলে। পেশায় ভ্যানচালক সাগর গত ২৪ সেপ্টেম্বর সকালে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আর ফিরে আসেনি। গত ৪ অক্টোবর তারিখে রাজবাড়ী সদর উপজেলার ফেলুর দোকানের কাছে একটি আখ খেত থেকে উদ্ধারকৃত কঙ্কালসার একটি মৃতদেহকে তাদের ছেলে বলে দাবি করেছে। তবে পুলিশ বলছে, ডিএনএ পরীক্ষা ছাড়া নিশ্চিত করে কিছুই বলা সম্ভব নয়।
রাজবাড়ী প্রধান সড়কে মানববন্ধন চলাকালে সাগরের বাবা বকুল মিয়া জানান, গত ২৪ সেপ্টেম্বর তারিখে তার ছেলে ভ্যান নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আর ফেরেনি। এব্যাপারে তিনি বালিয়াকান্দি থানায় জিডি করেছেন। তার ছেলেকে সব জায়গায় খুঁজেছেন কিন্তু পাননি। গত ৪ অক্টোবর রাজবাড়ী সদর উপজেলার ফেলুর দোকানের কাছে একটি আখ ক্ষেত থেকে একটি লাশ পাওয়া গেছে শুনে তারা খানখানাপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে যান। সেখানে গিয়ে জানতে পারেন লাশের চেনার মত কোনো উপায় নেই। তবে লাশের কছে পাওয়া জুতা ও প্যান্টের অংশবিশেষ দেখে মনে হয়েছে লাশটি তার ছেলের। তিনি আরও জানান, জমিজমা নিয়ে তার সৎভাইদের সাথে বিরোধ রয়েছে। শত্রুতাবশতঃ তার ছেলেকে তারাই হত্যা করেছে। তিনি মামলা দেয়ার জন্য রাজবাড়ী ও বালিয়াকান্দি থানায় গেলেও মামলা নেয়নি। এসময় তিনি ও তার পাশে থাকা স্ত্রী হাসি বেগম কান্নায় ভেঙে পড়েন।
খানখানাপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের আইসি শহীদুল ইসলাম জানান, গত ৪ অক্টোবর এলাকাবাসীর কাছ থেকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় কঙ্কাল একটি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। লাশটি ছেলের না মেয়ের বোঝার উপায় নেই। লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের পর আঞ্জুমান ই কাদেরিয়া ও মাধ্যমে দাফন করা হয়েছে। এব্যাপারে রাজবাড়ী সদর থানায় একটি জিডি করা হয়েছে। এছাড়া লাশের নমুনা সংগ্রহে রেখে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
রাজবাড়ী সদর থানার ওসি স্বপন কুমার মজুমদার জানান, নিখোঁজ সাগরের পরিবার লাশের পাশে আলামত হিসেবে পাওয়া জুতা ও প্যান্টের অংশ বিশেষ দেখে লাশটি সাগরের বলে দাবি করেছে। তবে এটুকু প্রমাণ যথেষ্ঠ বলে মনে হচ্ছে না। লাশের ডিএনএ এবং সাগরের বাবা মায়ের ডিএনএ মিলে গেলে তবেই লাশটি তাদের ছেলে বলে প্রমাণিত হবে। সেক্ষেত্রে সাগরের বাবা মা চাইলে হত্যা মামলা দায়ের করতে পারবেন।
বালিয়াকান্দি থানার ওসি আজমল হুদা জানান, সাগর নিখোঁজের ঘটনায় বালিয়াকান্দি থানায় একটি জিডি হওয়ার পর পুলিশ তাকে উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। যেহেতু রাজবাড়ীতে উদ্ধারকৃত লাশটি সাগরের বলে প্রমাণিত হয়নি তাই বালিয়াকান্দি থানায় সে এখনও নিখোঁজ। সে হিসেবেই পুলিশ তার কাজ করছে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

রাজবাড়ীতে নিখোঁজ সাগর ‘হত্যা’র বিচার দাবিতে রাজপথে মা বাবা ও এলাকাবাসী

প্রকাশের সময় : ১০:২৫:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৯

জনতার আদালত অনলাইন ॥ রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের মেছুয়াঘাটা গ্রামের ২১ দিন ধরে নিখাঁজ সাগরের (১৫) ‘হত্যা’র বিচার দাবি করে বুধবার তার বাবাÑমা, আত্মীয় স্বজন ও এলাকাবাসী মানববন্ধন করেছে। সে একই গ্রামের হতদরিদ্র বকুল মিয়ার ছেলে। পেশায় ভ্যানচালক সাগর গত ২৪ সেপ্টেম্বর সকালে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আর ফিরে আসেনি। গত ৪ অক্টোবর তারিখে রাজবাড়ী সদর উপজেলার ফেলুর দোকানের কাছে একটি আখ খেত থেকে উদ্ধারকৃত কঙ্কালসার একটি মৃতদেহকে তাদের ছেলে বলে দাবি করেছে। তবে পুলিশ বলছে, ডিএনএ পরীক্ষা ছাড়া নিশ্চিত করে কিছুই বলা সম্ভব নয়।
রাজবাড়ী প্রধান সড়কে মানববন্ধন চলাকালে সাগরের বাবা বকুল মিয়া জানান, গত ২৪ সেপ্টেম্বর তারিখে তার ছেলে ভ্যান নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আর ফেরেনি। এব্যাপারে তিনি বালিয়াকান্দি থানায় জিডি করেছেন। তার ছেলেকে সব জায়গায় খুঁজেছেন কিন্তু পাননি। গত ৪ অক্টোবর রাজবাড়ী সদর উপজেলার ফেলুর দোকানের কাছে একটি আখ ক্ষেত থেকে একটি লাশ পাওয়া গেছে শুনে তারা খানখানাপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে যান। সেখানে গিয়ে জানতে পারেন লাশের চেনার মত কোনো উপায় নেই। তবে লাশের কছে পাওয়া জুতা ও প্যান্টের অংশবিশেষ দেখে মনে হয়েছে লাশটি তার ছেলের। তিনি আরও জানান, জমিজমা নিয়ে তার সৎভাইদের সাথে বিরোধ রয়েছে। শত্রুতাবশতঃ তার ছেলেকে তারাই হত্যা করেছে। তিনি মামলা দেয়ার জন্য রাজবাড়ী ও বালিয়াকান্দি থানায় গেলেও মামলা নেয়নি। এসময় তিনি ও তার পাশে থাকা স্ত্রী হাসি বেগম কান্নায় ভেঙে পড়েন।
খানখানাপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের আইসি শহীদুল ইসলাম জানান, গত ৪ অক্টোবর এলাকাবাসীর কাছ থেকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় কঙ্কাল একটি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। লাশটি ছেলের না মেয়ের বোঝার উপায় নেই। লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের পর আঞ্জুমান ই কাদেরিয়া ও মাধ্যমে দাফন করা হয়েছে। এব্যাপারে রাজবাড়ী সদর থানায় একটি জিডি করা হয়েছে। এছাড়া লাশের নমুনা সংগ্রহে রেখে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
রাজবাড়ী সদর থানার ওসি স্বপন কুমার মজুমদার জানান, নিখোঁজ সাগরের পরিবার লাশের পাশে আলামত হিসেবে পাওয়া জুতা ও প্যান্টের অংশ বিশেষ দেখে লাশটি সাগরের বলে দাবি করেছে। তবে এটুকু প্রমাণ যথেষ্ঠ বলে মনে হচ্ছে না। লাশের ডিএনএ এবং সাগরের বাবা মায়ের ডিএনএ মিলে গেলে তবেই লাশটি তাদের ছেলে বলে প্রমাণিত হবে। সেক্ষেত্রে সাগরের বাবা মা চাইলে হত্যা মামলা দায়ের করতে পারবেন।
বালিয়াকান্দি থানার ওসি আজমল হুদা জানান, সাগর নিখোঁজের ঘটনায় বালিয়াকান্দি থানায় একটি জিডি হওয়ার পর পুলিশ তাকে উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। যেহেতু রাজবাড়ীতে উদ্ধারকৃত লাশটি সাগরের বলে প্রমাণিত হয়নি তাই বালিয়াকান্দি থানায় সে এখনও নিখোঁজ। সে হিসেবেই পুলিশ তার কাজ করছে।