Dhaka 4:51 pm, Wednesday, 8 February 2023

অসময়ে পদ্মায় পানি বৃদ্ধি ॥ রাজবাড়ীতে নদী ভাঙন ॥ আতঙ্কে এলাকাবাসী ॥ হুমকিতে শহর রক্ষা বাঁধ

সংবাদদাতা-
  • প্রকাশের সময় : 09:30:57 pm, Tuesday, 24 September 2019
  • / 1699 জন সংবাদটি পড়েছেন


জনতার আদালত অনলাইন ॥ অসময়ে পদ্মা নদীতে পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে রাজবাড়ীতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত দুদিনে রাজবাড়ী সদর উপজেলার গোদারবাজার ও মহাদেবপুর পয়েন্টে অন্ততঃ একশ মিটার এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। পানি বৃদ্ধিসহ ভাঙন আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা করছে এলাকাবাসী। হুমকির মুখে রয়েছে শহর রক্ষা বেরি বাঁধ। গত জুলাই মাসে নদী ভাঙন রোধে পাঁচটি প্যাকেজের মাধ্যমে ৭১ কোটি টাকা ব্যয়ে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা হলেও ভাঙনরোধ করা সম্ভব হয়নি।
এলাকাবাসী ও রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, চলতি বর্ষা মৌসুমে জুলাই মাসে শহর রক্ষা বেরি বাঁধ সংলগ্ন গোদারবাজার এলাকায় ভাঙন দেখা দেয়। ভাঙন প্রতিরোধে রাজবাড়ী শহর সংলগ্ন গোদারবাজার থেকে বরাট ইউনিয়নের সোনাকান্দর এলাকা পর্যন্ত ৭১ কোটি টাকা ব্যয়ে পাঁচটি প্যাকেজের কাজ হাতে নেয় পাউবো। গত দুদিনে পদ্মা নদীর পানি হঠাৎ করে বৃদ্ধি পাওয়ায় আবারও ভাঙন শুরু হয়েছে পদ্মায়। রোববার গোদারবাজার এনজিএল ইটভাটা সংলগ্ন এলাকায় অন্ততঃ ৭০ মিটার এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এছাড়া মহাদেবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকায় ভেঙেছে ৩০ মিটার এলাকায়। সেখানে গাছাপালা ইতিমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। হুমকিতে আছে প্রাথমিক বিদ্যালয়টি। এ দুটি এলাকার মানুষেরা এখন চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। হুমকির মুখে রয়েছে শহর রক্ষা বেরি বাঁধসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বসতঘর, গাছপালা ও ফসলি জমি। গত চারদিন ধরে পানি বাড়ছে পদ্মা নদীতে। বর্তমানে পানি বিপদসীমার নীচে থাকলেও এভাবে বাড়তে থাকলে দুই একদিনের মধ্যে বিপদসীমার উপরে চলে যাবে।
সরেজমিনে গোদারবাজার এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, এনজিএল নামক একটি ইটভাটার সাথেই ভাঙন শুরু হয়েছে। ভাঙনে নদী ভাঙন প্রতিরোধে তৈরি সিসি ব্লক বিলীন হয়ে গেছে নদীগর্ভে। জুলাই মাসে ফেলা জিওব্যাগও নেই। এসময় এনজিএল ইটভাটার শ্রমিকরা জানায়, রোববার দুপুরের দিকে ভাটার পাশে ফাটল দেখা দেয়। ওই সময়ই তারা কিছু ইট সরিয়ে ফেলেন। কিন্তু তারপরও প্রায় ২০ হাজার ইট নদীতে চলে গেছে। তারা অভিযোগ করেন, বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষকে জানালেও তারা কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
গোদারবাজার এলাকার নদী তীরবর্তী বাসিন্দা বানু আক্তার জানান, তার স্বামী নেই। এক ছেলে প্রতিবন্ধী। কোনো মতে সংসার চালান। নদী তীরেই তার বাড়ি। নদীতে ভেঙে গেলে যাওয়ার কোনো জায়গা থাকবে না। সবাইকে গাছতলায় দাঁড়াতে হবে।
রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, পদ্মা নদীর দুটি পয়েন্টে ভাঙন দেখা দেওয়ার পর জরুরী ঘোষণা পূর্বক মহাদেবপুর পয়েন্টে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। গোদারবাজার পয়েন্টে প্রকল্পভুক্ত ঠিকাদারদের দিয়ে কাজ চলমান রাখা হয়েছে।
তিনি জানান, পদ্মা নদীতে পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। পানির গতিবেগও অনেক বেশি। পানি এভাবে বাড়তে থাকলে বিপদসীমা অতিক্রম করে যাবে। এতে বিভিন্ন স্থানে নদী ভাঙন দেখা দিতে পারে। এজন্য তারা সার্বিকভাবে প্রস্তুতি নিয়ে আছেন। আপাততঃ সবকিছু তাদের নিয়ন্ত্রণে আছে এবং আতঙ্কের কিছু নেই বলে দাবি করেন তিনি।
প্রসঙ্গত সাত বছর আগে ২০১২ সালে রাজবাড়ী শহর সংলগ্ন গোদারবাজার ঘাট থেকে স্লুইসগেট পর্যন্ত আড়াই কিলোমিটার এলাকা নদী ভাঙন প্রতিরোধে ৪৭ কোটি ৭৬ লক্ষ টাকা ব্যয়ে রাজবাড়ী শহর রক্ষা প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ করেছিল রাজবাড়ী পানি উন্ন্য়ন বোর্ড। ২০০৯ সালের জুলাই মাসে শুরু হয়ে কাজটি শেষ হয় ২০১২ সালের জুন মাসে। এর মধ্যে গত কয়েক বছরে নদী তীর সংরক্ষণ বাঁধের প্রায় ১৩শ মিটার এলাকার সিসি ব্লক নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এরপর থেকে ভাঙছে নদী। মানুষের মাঝে ভাঙন আতঙ্ক তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

অসময়ে পদ্মায় পানি বৃদ্ধি ॥ রাজবাড়ীতে নদী ভাঙন ॥ আতঙ্কে এলাকাবাসী ॥ হুমকিতে শহর রক্ষা বাঁধ

প্রকাশের সময় : 09:30:57 pm, Tuesday, 24 September 2019


জনতার আদালত অনলাইন ॥ অসময়ে পদ্মা নদীতে পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে রাজবাড়ীতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত দুদিনে রাজবাড়ী সদর উপজেলার গোদারবাজার ও মহাদেবপুর পয়েন্টে অন্ততঃ একশ মিটার এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। পানি বৃদ্ধিসহ ভাঙন আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা করছে এলাকাবাসী। হুমকির মুখে রয়েছে শহর রক্ষা বেরি বাঁধ। গত জুলাই মাসে নদী ভাঙন রোধে পাঁচটি প্যাকেজের মাধ্যমে ৭১ কোটি টাকা ব্যয়ে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা হলেও ভাঙনরোধ করা সম্ভব হয়নি।
এলাকাবাসী ও রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, চলতি বর্ষা মৌসুমে জুলাই মাসে শহর রক্ষা বেরি বাঁধ সংলগ্ন গোদারবাজার এলাকায় ভাঙন দেখা দেয়। ভাঙন প্রতিরোধে রাজবাড়ী শহর সংলগ্ন গোদারবাজার থেকে বরাট ইউনিয়নের সোনাকান্দর এলাকা পর্যন্ত ৭১ কোটি টাকা ব্যয়ে পাঁচটি প্যাকেজের কাজ হাতে নেয় পাউবো। গত দুদিনে পদ্মা নদীর পানি হঠাৎ করে বৃদ্ধি পাওয়ায় আবারও ভাঙন শুরু হয়েছে পদ্মায়। রোববার গোদারবাজার এনজিএল ইটভাটা সংলগ্ন এলাকায় অন্ততঃ ৭০ মিটার এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এছাড়া মহাদেবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকায় ভেঙেছে ৩০ মিটার এলাকায়। সেখানে গাছাপালা ইতিমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। হুমকিতে আছে প্রাথমিক বিদ্যালয়টি। এ দুটি এলাকার মানুষেরা এখন চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। হুমকির মুখে রয়েছে শহর রক্ষা বেরি বাঁধসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বসতঘর, গাছপালা ও ফসলি জমি। গত চারদিন ধরে পানি বাড়ছে পদ্মা নদীতে। বর্তমানে পানি বিপদসীমার নীচে থাকলেও এভাবে বাড়তে থাকলে দুই একদিনের মধ্যে বিপদসীমার উপরে চলে যাবে।
সরেজমিনে গোদারবাজার এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, এনজিএল নামক একটি ইটভাটার সাথেই ভাঙন শুরু হয়েছে। ভাঙনে নদী ভাঙন প্রতিরোধে তৈরি সিসি ব্লক বিলীন হয়ে গেছে নদীগর্ভে। জুলাই মাসে ফেলা জিওব্যাগও নেই। এসময় এনজিএল ইটভাটার শ্রমিকরা জানায়, রোববার দুপুরের দিকে ভাটার পাশে ফাটল দেখা দেয়। ওই সময়ই তারা কিছু ইট সরিয়ে ফেলেন। কিন্তু তারপরও প্রায় ২০ হাজার ইট নদীতে চলে গেছে। তারা অভিযোগ করেন, বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষকে জানালেও তারা কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
গোদারবাজার এলাকার নদী তীরবর্তী বাসিন্দা বানু আক্তার জানান, তার স্বামী নেই। এক ছেলে প্রতিবন্ধী। কোনো মতে সংসার চালান। নদী তীরেই তার বাড়ি। নদীতে ভেঙে গেলে যাওয়ার কোনো জায়গা থাকবে না। সবাইকে গাছতলায় দাঁড়াতে হবে।
রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, পদ্মা নদীর দুটি পয়েন্টে ভাঙন দেখা দেওয়ার পর জরুরী ঘোষণা পূর্বক মহাদেবপুর পয়েন্টে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। গোদারবাজার পয়েন্টে প্রকল্পভুক্ত ঠিকাদারদের দিয়ে কাজ চলমান রাখা হয়েছে।
তিনি জানান, পদ্মা নদীতে পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। পানির গতিবেগও অনেক বেশি। পানি এভাবে বাড়তে থাকলে বিপদসীমা অতিক্রম করে যাবে। এতে বিভিন্ন স্থানে নদী ভাঙন দেখা দিতে পারে। এজন্য তারা সার্বিকভাবে প্রস্তুতি নিয়ে আছেন। আপাততঃ সবকিছু তাদের নিয়ন্ত্রণে আছে এবং আতঙ্কের কিছু নেই বলে দাবি করেন তিনি।
প্রসঙ্গত সাত বছর আগে ২০১২ সালে রাজবাড়ী শহর সংলগ্ন গোদারবাজার ঘাট থেকে স্লুইসগেট পর্যন্ত আড়াই কিলোমিটার এলাকা নদী ভাঙন প্রতিরোধে ৪৭ কোটি ৭৬ লক্ষ টাকা ব্যয়ে রাজবাড়ী শহর রক্ষা প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ করেছিল রাজবাড়ী পানি উন্ন্য়ন বোর্ড। ২০০৯ সালের জুলাই মাসে শুরু হয়ে কাজটি শেষ হয় ২০১২ সালের জুন মাসে। এর মধ্যে গত কয়েক বছরে নদী তীর সংরক্ষণ বাঁধের প্রায় ১৩শ মিটার এলাকার সিসি ব্লক নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এরপর থেকে ভাঙছে নদী। মানুষের মাঝে ভাঙন আতঙ্ক তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে।