Dhaka ০৮:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ৫ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

দীর্ঘ ৬ বছর পর আদালতের নির্দেশে ট্রাক্টরটি ফেরত পেলেন কৃষক আজিজ

সংবাদদাতা-
  • প্রকাশের সময় : ১০:১৫:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অগাস্ট ২০১৯
  • / ১৭৫২ জন সংবাদটি পড়েছেন


জনতার আদালত অনলাইন ॥ দীর্ঘ ছয় বছর পর আদালতের নির্দেশে বহু কাক্সিক্ষত ট্রাক্টরটি ফেরত পেয়েছেন কৃষক আব্দুল আজিজ। সোমবার বিকেলে রাজবাড়ীর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক আবু হাসান খায়রুল্লাহ ট্রাক্টরটি ফিরিয়ে দিতে আসামি পক্ষকে নির্দেশ দেন। কৃষক আব্দুল আজিজ রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার রতনদিয়া ইউনিয়নের লস্করদিয়া গ্রামের বাসিন্দা।
মামলা ও আদালত সূত্র জানায়, ২০১১ সালের ১৩ অক্টোবর তারিখে ফরিদপুরের পাপড়ি মটরস থেকে কৃষক আব্দুল আজিজ ১২ লাখ ৫৫ হাজার টাকা মূল্যের ট্রাক্টরটি কিস্তিতে ক্রয় করেন। কয়েকটি কিস্তি পাপড়ি মটরস এর ফরিদপুর অফিসে দেয়ার পর তাকে জানানো হয়; কালুখালী শাখায় জমা দিতে। সে মোতাবেক পরবর্তী কিস্তি কালুখালী শাখায় জমা দেন। কোম্পানীর নির্দিষ্ট সময় ৩০/৭/২০১২ তারিখের মধ্যে তিনি সমস্ত কিস্তি পরিশোধ করেন। পরে কালুখালী পাপড়ি মটরস, ম্যানেজার মাসুদ হাসান ও আর এসএল এর ঊর্ধ্বতন নির্বাহী মনিরুল ইসলাম তাকে ট্রাক্টরটি সার্ভিসিং করানোর জন্য নিয়ে যেতে বলেন। ২০১৩ সালের ৪ জুন তারিখে কালুখালী শাখায় সার্ভিসিংয়ের জন্য ট্রাক্টরটি দিয়ে আসেন। পরে আনতে গেলে কালক্ষেপণ করতে থাকে। একই বছরের ২৩ নভেম্বর তারিখে কিস্তি বকেয়া আছে অজুহাত দেখিয়ে ট্রাক্টরটি আর ফেরত দেয়া হবেনা বলে পাপড়ি মোটরস কর্মকর্তারা তাকে জানিয়ে দেয়।
এরপর অনেক জায়গায় ঘুরে ও দেন দরবার করেও কৃষক আব্দুল আজিজ ট্রাক্টরটি আর ফেরত না পেয়ে ২০১৩ সালের ২৮ নভেম্বর তারিখে তিনি নিজে বাদী হয়ে কালুখালী পাপড়ি মটরস এর ম্যানেজার মাসুদ হাসান, কুষ্টিয়া আরএসএল এর ঊর্ধ্বতন নির্বাহী শাহিন রহমান, রানার মটরসের ফিল্ড ম্যানেজার মাহবুব ও আর এসএল এর ঊর্ধ্বতন নির্বাহী মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে রাজবাড়ীর জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ২ নং আমলী আদালতে মামলা করেন।
মামলার দীর্ঘ সাক্ষ্য প্রমাণ ও কাগজপত্র পর্যালোচনা করে আদালতের বিচারক ট্রাক্টরটি ফিরিয়ে দিতে আসামি পক্ষকে নির্দেশ দেন। একই সাথে কৃষক আব্দুল আজিজ যেন কোন রূপ হয়রানীর শিকার না হয় সেজন্যও আসামি পক্ষকে সতর্ক করা হয়।
আদালতের নির্দেশের পর আসামি পক্ষ কৃষক আব্দুল আজিজকে ট্রাক্টরটি হস্তান্তর করে।
বাদী পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন রাজবাড়ী বার এর সিনিয়র আইনজীবী স্বপন কুমার সোম।
কৃষক আবুল আজিজ শেখ তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ট্রাক্টরটি ফেরত পেতে আমি কত জায়গায় ঘুরেছি। হয়রানীর শিকার হয়েছি। ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। দীর্ঘ ছয় বছর ধরে আমি আদালতে ঘুরেছি। অবশেষে আমি ন্যায় বিচার পেয়েছি। ট্রাক্টরটি পেয়ে আমি আজ খুবই আনন্দিত।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

দীর্ঘ ৬ বছর পর আদালতের নির্দেশে ট্রাক্টরটি ফেরত পেলেন কৃষক আজিজ

প্রকাশের সময় : ১০:১৫:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অগাস্ট ২০১৯


জনতার আদালত অনলাইন ॥ দীর্ঘ ছয় বছর পর আদালতের নির্দেশে বহু কাক্সিক্ষত ট্রাক্টরটি ফেরত পেয়েছেন কৃষক আব্দুল আজিজ। সোমবার বিকেলে রাজবাড়ীর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক আবু হাসান খায়রুল্লাহ ট্রাক্টরটি ফিরিয়ে দিতে আসামি পক্ষকে নির্দেশ দেন। কৃষক আব্দুল আজিজ রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার রতনদিয়া ইউনিয়নের লস্করদিয়া গ্রামের বাসিন্দা।
মামলা ও আদালত সূত্র জানায়, ২০১১ সালের ১৩ অক্টোবর তারিখে ফরিদপুরের পাপড়ি মটরস থেকে কৃষক আব্দুল আজিজ ১২ লাখ ৫৫ হাজার টাকা মূল্যের ট্রাক্টরটি কিস্তিতে ক্রয় করেন। কয়েকটি কিস্তি পাপড়ি মটরস এর ফরিদপুর অফিসে দেয়ার পর তাকে জানানো হয়; কালুখালী শাখায় জমা দিতে। সে মোতাবেক পরবর্তী কিস্তি কালুখালী শাখায় জমা দেন। কোম্পানীর নির্দিষ্ট সময় ৩০/৭/২০১২ তারিখের মধ্যে তিনি সমস্ত কিস্তি পরিশোধ করেন। পরে কালুখালী পাপড়ি মটরস, ম্যানেজার মাসুদ হাসান ও আর এসএল এর ঊর্ধ্বতন নির্বাহী মনিরুল ইসলাম তাকে ট্রাক্টরটি সার্ভিসিং করানোর জন্য নিয়ে যেতে বলেন। ২০১৩ সালের ৪ জুন তারিখে কালুখালী শাখায় সার্ভিসিংয়ের জন্য ট্রাক্টরটি দিয়ে আসেন। পরে আনতে গেলে কালক্ষেপণ করতে থাকে। একই বছরের ২৩ নভেম্বর তারিখে কিস্তি বকেয়া আছে অজুহাত দেখিয়ে ট্রাক্টরটি আর ফেরত দেয়া হবেনা বলে পাপড়ি মোটরস কর্মকর্তারা তাকে জানিয়ে দেয়।
এরপর অনেক জায়গায় ঘুরে ও দেন দরবার করেও কৃষক আব্দুল আজিজ ট্রাক্টরটি আর ফেরত না পেয়ে ২০১৩ সালের ২৮ নভেম্বর তারিখে তিনি নিজে বাদী হয়ে কালুখালী পাপড়ি মটরস এর ম্যানেজার মাসুদ হাসান, কুষ্টিয়া আরএসএল এর ঊর্ধ্বতন নির্বাহী শাহিন রহমান, রানার মটরসের ফিল্ড ম্যানেজার মাহবুব ও আর এসএল এর ঊর্ধ্বতন নির্বাহী মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে রাজবাড়ীর জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ২ নং আমলী আদালতে মামলা করেন।
মামলার দীর্ঘ সাক্ষ্য প্রমাণ ও কাগজপত্র পর্যালোচনা করে আদালতের বিচারক ট্রাক্টরটি ফিরিয়ে দিতে আসামি পক্ষকে নির্দেশ দেন। একই সাথে কৃষক আব্দুল আজিজ যেন কোন রূপ হয়রানীর শিকার না হয় সেজন্যও আসামি পক্ষকে সতর্ক করা হয়।
আদালতের নির্দেশের পর আসামি পক্ষ কৃষক আব্দুল আজিজকে ট্রাক্টরটি হস্তান্তর করে।
বাদী পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন রাজবাড়ী বার এর সিনিয়র আইনজীবী স্বপন কুমার সোম।
কৃষক আবুল আজিজ শেখ তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ট্রাক্টরটি ফেরত পেতে আমি কত জায়গায় ঘুরেছি। হয়রানীর শিকার হয়েছি। ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। দীর্ঘ ছয় বছর ধরে আমি আদালতে ঘুরেছি। অবশেষে আমি ন্যায় বিচার পেয়েছি। ট্রাক্টরটি পেয়ে আমি আজ খুবই আনন্দিত।