Dhaka ০২:২১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১২ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

রাজবাড়ীতে স্কুলছাত্রীকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যাচেষ্টা মামলার মূল আসামিসহ গ্রেফতার ২

সংবাদদাতা-
  • প্রকাশের সময় : ০৯:২২:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ জুন ২০১৯
  • / ১৪৮৫ জন সংবাদটি পড়েছেন


জনতার আদালত অনলাইন ॥ রাজবাড়ী সদর উপজেলার পাঁচুরিয়া ইউনিয়নের খোলাবাড়িয়া গ্রামের নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা চেষ্টা মামলার মূল আসামি শিল্পী বেগমকে গ্রেফতার করেছে রাজবাড়ী সদর থানার পুলিশ। রোববার বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে সদর উপজেলার গোয়ালন্দ মোড় এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। সে একই গ্রামের জাহাঙ্গীর মিজির স্ত্রী। এর আগে শনিবার গভীর রাতে একই উপজেলার খানখানাপুর এলাকা থেকে ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে সেতু নামে এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়। সেতু সম্পর্কে শিল্পী বেগমের বোনের ছেলে। তার বাবার নাম বাবলু মিয়া।
রাজবাড়ী সদর থানার ওসি স্বপন কুমার মজুমদার জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে শিল্পীকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। অপর আসামী সেতুকে সন্দেহজনকভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের খুঁজে বের করতে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
প্রসঙ্গত, অশ্লীল ছবি তুলে ব্লাকমেইল করার পর দাবিকৃত টাকা না পেয়ে বোরখা পরা চারজন লোক গত ৬ জুন ওই ছাত্রীকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়। এ ঘটনায় ৭ জুন তারিখে ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে শিল্পী বেগমের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও চারজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলায় বাদী অভিযোগ করেন, গত ১২ এপ্রিল তারিখে স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার সময় অজ্ঞাত কয়েকজন লোক তার মেয়েকে জোরপূর্বক রাস্তার পাশে জঙ্গলে নিয়ে ছোড়ার ভয় দেখিয়ে অশ্লীল ছবি ধারণ করে। সেই ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে শিল্পী বেগম তার মেয়ের কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে।
গত ৫ জুন তারিখে বাড়ির পাশে পুকুর থেকে গোসল করে বাড়ি ফেরার পথে অজ্ঞাত একজন লোক পেছন থেকে তার মেয়ের মাথায় সজোরে আঘাত করে। ওইদিনই স্থানীয়ভাবে তাকে চিকিৎসা দেয়া হয়।
সর্বশেষ গত ৬ জুন তারিখ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তার মেয়ে বাড়ির বারান্দায় বসে জামফল খাওয়ার সময় অজ্ঞাতনামা চারজন বোরকা পরিহিত লোক জোরপূর্বক মুখ চেপে ধরে তাকে নিয়ে বাড়ির পেছনে একটি পাট ক্ষেতে নিয়ে যায়। সেখানে তার মেয়ের ওড়না দিয়ে হাত, পা ও মুখ বেঁধে ম্যাচের কাঠি দিয়ে গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। তার মেয়ে মাটিতে গরাগরি করার কারণে আগুন অগ্রসর হতে পারেনি। পরে তার মেয়ের গোংরানীর শব্দে তার স্ত্রী এগিয়ে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। পরবর্তীতে তাকে স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে নিয়ে সুশ্রƒষা দেয়া হয়।
স্কুলছাত্রীর বাবা জানান, শিল্পী বেগমের সাথে তার কোনো শত্রুতা নেই। এদের কাজ মানুষকে ব্লাকমেইল করা। আমার মেয়ের কাছ থেকে টাকা আদায়ের জন্য একটা ফাঁদ পেতেছিল।
শনিবার রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার আসমা সিদ্দিকা মিলি, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজাউল করিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

রাজবাড়ীতে স্কুলছাত্রীকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যাচেষ্টা মামলার মূল আসামিসহ গ্রেফতার ২

প্রকাশের সময় : ০৯:২২:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ জুন ২০১৯


জনতার আদালত অনলাইন ॥ রাজবাড়ী সদর উপজেলার পাঁচুরিয়া ইউনিয়নের খোলাবাড়িয়া গ্রামের নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা চেষ্টা মামলার মূল আসামি শিল্পী বেগমকে গ্রেফতার করেছে রাজবাড়ী সদর থানার পুলিশ। রোববার বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে সদর উপজেলার গোয়ালন্দ মোড় এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। সে একই গ্রামের জাহাঙ্গীর মিজির স্ত্রী। এর আগে শনিবার গভীর রাতে একই উপজেলার খানখানাপুর এলাকা থেকে ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে সেতু নামে এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়। সেতু সম্পর্কে শিল্পী বেগমের বোনের ছেলে। তার বাবার নাম বাবলু মিয়া।
রাজবাড়ী সদর থানার ওসি স্বপন কুমার মজুমদার জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে শিল্পীকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। অপর আসামী সেতুকে সন্দেহজনকভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের খুঁজে বের করতে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
প্রসঙ্গত, অশ্লীল ছবি তুলে ব্লাকমেইল করার পর দাবিকৃত টাকা না পেয়ে বোরখা পরা চারজন লোক গত ৬ জুন ওই ছাত্রীকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়। এ ঘটনায় ৭ জুন তারিখে ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে শিল্পী বেগমের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও চারজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলায় বাদী অভিযোগ করেন, গত ১২ এপ্রিল তারিখে স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার সময় অজ্ঞাত কয়েকজন লোক তার মেয়েকে জোরপূর্বক রাস্তার পাশে জঙ্গলে নিয়ে ছোড়ার ভয় দেখিয়ে অশ্লীল ছবি ধারণ করে। সেই ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে শিল্পী বেগম তার মেয়ের কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে।
গত ৫ জুন তারিখে বাড়ির পাশে পুকুর থেকে গোসল করে বাড়ি ফেরার পথে অজ্ঞাত একজন লোক পেছন থেকে তার মেয়ের মাথায় সজোরে আঘাত করে। ওইদিনই স্থানীয়ভাবে তাকে চিকিৎসা দেয়া হয়।
সর্বশেষ গত ৬ জুন তারিখ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তার মেয়ে বাড়ির বারান্দায় বসে জামফল খাওয়ার সময় অজ্ঞাতনামা চারজন বোরকা পরিহিত লোক জোরপূর্বক মুখ চেপে ধরে তাকে নিয়ে বাড়ির পেছনে একটি পাট ক্ষেতে নিয়ে যায়। সেখানে তার মেয়ের ওড়না দিয়ে হাত, পা ও মুখ বেঁধে ম্যাচের কাঠি দিয়ে গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। তার মেয়ে মাটিতে গরাগরি করার কারণে আগুন অগ্রসর হতে পারেনি। পরে তার মেয়ের গোংরানীর শব্দে তার স্ত্রী এগিয়ে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। পরবর্তীতে তাকে স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে নিয়ে সুশ্রƒষা দেয়া হয়।
স্কুলছাত্রীর বাবা জানান, শিল্পী বেগমের সাথে তার কোনো শত্রুতা নেই। এদের কাজ মানুষকে ব্লাকমেইল করা। আমার মেয়ের কাছ থেকে টাকা আদায়ের জন্য একটা ফাঁদ পেতেছিল।
শনিবার রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার আসমা সিদ্দিকা মিলি, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজাউল করিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।