Dhaka ১১:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
যুদ্ধের খরচ জোগাতে পর্নোগ্রাফিকে বৈধ করার কথা ভাবছে ইউক্রেন জাবিতে মাঠ সংস্কারের কাজ শেষের আগেই টাকা উত্তোলনের অভিযোগ আমরা জাতীয় পার্টির মতো পোষা বিরোধী দল হবো না: সারজিস অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল জব্বার ভূঞাসহ পাঁচ আইন কর্মকর্তার পদত্যাগ ঘুষ নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল, কালুখালীর প্রশাসনিক কর্মকর্তা বদলি কাজে-কর্মে স্মরণীয় ইউএনও মুস্তাফিজুর, বিদায়ে আবেগঘন পরিবেশ কালীগঞ্জে প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় ক্লিনিক সিলগালা, জরিমানা ১ লাখ নিয়ন্ত্রণে আসছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, শনাক্তে থাকবে কিউআর কোড: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পাংশায় ইসলামী চক্ষু হাসপাতালের নতুন ভিশন সেন্টার উদ্বোধন এক উপজেলার সব ইউনিয়ন পরিষদের ভোট একসঙ্গে

রাজবাড়ীতে পুত্রবধূ হত্যার দায়ে শ্বশুর শাশুড়ীর যাবজ্জীবন

সংবাদদাতা-
  • প্রকাশের সময় : ০৫:৪৩:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৮
  • / 714

জনতার আদালত অনলাইন ॥ রাজবাড়ীতে পুত্রবধূ শাহানা আক্তার আদুরিকে হত্যার দায়ে শ্বশুর শাশুড়ীকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার বিকেলে রাজবাড়ীর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আমিনুল হক এ রায় ঘোষণা করেন। দন্ডপ্রাপ্তরা হলো রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের বিল গজারিয়া গ্রামের বাসিন্দা জামাল হাওলাদার ও তার স্ত্রী আমেনা খাতুন। নিহত আদুরি একই গ্রামের মৃত শীতল মন্ডলের মেয়ে ও রাসেল হাওলাদারের স্ত্রী ছিলেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি পুত্রবধূ শাহানা আক্তার আদুরিকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। ঘটনার পরদিন ১৯ ফেব্রুয়ারি নিহতের ভাই ওজুদ মন্ডল বাদী হয়ে জামাল হাওলাদার ও তার স্ত্রী আমেনা খাতুনের বিরুদ্ধে পাংশা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার দীর্ঘ সাক্ষ্য প্রমাণ শেষে আদালতের বিচারক এ রায় ঘোষণা করেন।
নিহত আদুরির পারিবারিক সূত্র জানায়, পিতৃমাতৃহীন অসহায় আদুরিকে গ্রামের লোকজন একই গ্রামের জামাল হাওলাদেরর ছেলে রাসেল হাওলাদারের সঙ্গে বিয়ে দিয়েছিল। স্বামী রাসেল চাকরীর সুবাদে ঢাকায় থাকত। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই বিভিন্ন কাজের অজুহাতে শ্বশুর জামাল হাওলাদার পুত্রবধূ আদুরিকে অমানুষিক শারীরিক নির্যাতন করতো। নির্যাতন দেখে প্রতিবেশিরা এগিয়ে এলে জামাল হাওলাদার বিভিন্ন কথা বলে ক্ষমা চেয়ে নিত। কিন্তু আবার কিছু দিন পর শুরু হতো নির্যাতন। ২০১৪ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে জামাল হাওলাদারের বাড়িতে আগুন দেখে এলাকাবাসী দৌড়ে যায়। গিয়ে দেখে, বাড়ির উঠানে আগুন জ্বলছে। পাশেই দাঁড়িয়ে ছিল জামাল হাওলাদার। তারা আগুন নিভিয়ে দেখতে পায় আদুরির নিথর দেহ। পুড়ে কয়লা হয়ে গেছে। ঘরের ভেতরে গিয়ে চৌকিতে রক্ত দেখা যায়। একটি বড় পাথরের সঙ্গেও রক্ত। পুড়িয়ে মারার আগে আদুরিকে নির্মম নির্যাতন করা হয়েছিল বলে ধারণা তাদের। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে আদুরির লাশ উদ্ধার করে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

রাজবাড়ীতে পুত্রবধূ হত্যার দায়ে শ্বশুর শাশুড়ীর যাবজ্জীবন

প্রকাশের সময় : ০৫:৪৩:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৮

জনতার আদালত অনলাইন ॥ রাজবাড়ীতে পুত্রবধূ শাহানা আক্তার আদুরিকে হত্যার দায়ে শ্বশুর শাশুড়ীকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার বিকেলে রাজবাড়ীর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আমিনুল হক এ রায় ঘোষণা করেন। দন্ডপ্রাপ্তরা হলো রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের বিল গজারিয়া গ্রামের বাসিন্দা জামাল হাওলাদার ও তার স্ত্রী আমেনা খাতুন। নিহত আদুরি একই গ্রামের মৃত শীতল মন্ডলের মেয়ে ও রাসেল হাওলাদারের স্ত্রী ছিলেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি পুত্রবধূ শাহানা আক্তার আদুরিকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। ঘটনার পরদিন ১৯ ফেব্রুয়ারি নিহতের ভাই ওজুদ মন্ডল বাদী হয়ে জামাল হাওলাদার ও তার স্ত্রী আমেনা খাতুনের বিরুদ্ধে পাংশা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার দীর্ঘ সাক্ষ্য প্রমাণ শেষে আদালতের বিচারক এ রায় ঘোষণা করেন।
নিহত আদুরির পারিবারিক সূত্র জানায়, পিতৃমাতৃহীন অসহায় আদুরিকে গ্রামের লোকজন একই গ্রামের জামাল হাওলাদেরর ছেলে রাসেল হাওলাদারের সঙ্গে বিয়ে দিয়েছিল। স্বামী রাসেল চাকরীর সুবাদে ঢাকায় থাকত। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই বিভিন্ন কাজের অজুহাতে শ্বশুর জামাল হাওলাদার পুত্রবধূ আদুরিকে অমানুষিক শারীরিক নির্যাতন করতো। নির্যাতন দেখে প্রতিবেশিরা এগিয়ে এলে জামাল হাওলাদার বিভিন্ন কথা বলে ক্ষমা চেয়ে নিত। কিন্তু আবার কিছু দিন পর শুরু হতো নির্যাতন। ২০১৪ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে জামাল হাওলাদারের বাড়িতে আগুন দেখে এলাকাবাসী দৌড়ে যায়। গিয়ে দেখে, বাড়ির উঠানে আগুন জ্বলছে। পাশেই দাঁড়িয়ে ছিল জামাল হাওলাদার। তারা আগুন নিভিয়ে দেখতে পায় আদুরির নিথর দেহ। পুড়ে কয়লা হয়ে গেছে। ঘরের ভেতরে গিয়ে চৌকিতে রক্ত দেখা যায়। একটি বড় পাথরের সঙ্গেও রক্ত। পুড়িয়ে মারার আগে আদুরিকে নির্মম নির্যাতন করা হয়েছিল বলে ধারণা তাদের। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে আদুরির লাশ উদ্ধার করে।