নিয়মিত আদা-পানি পানে যেসব উপকার, জানুন কী বলছে গবেষণা

- প্রকাশের সময় : ০৯:৪২:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬
- / 6
রান্নার মসলা হিসেবে পরিচিত আদা শুধু খাবারের স্বাদ ও ঘ্রাণ বাড়ায় না, বরং দীর্ঘদিন ধরে ঘরোয়া পানীয় হিসেবেও ব্যবহৃত হয়ে আসছে। আদা দিয়ে তৈরি পানি বা আদা-পানি অনেকের কাছে হজমের অস্বস্তি কমানো ও বমিভাব দূর করার পরিচিত উপায়। তবে নিয়মিত আদা-পানি পান করলে ঠিক কী কী উপকার পাওয়া যায়, তা নিয়ে বৈজ্ঞানিক গবেষণার তথ্য জানা গুরুত্বপূর্ণ।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সেন্টার ফর কমপ্লিমেন্টারি অ্যান্ড ইন্টিগ্রেটিভ হেলথের (এনসিসিআইএইচ) তথ্য অনুযায়ী, আদা নিয়ে বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত উপকারিতা যাচাই করতে গবেষণা হয়েছে। এর মধ্যে গর্ভাবস্থাজনিত বমিভাব কমাতে আদার কার্যকারিতার পক্ষে তুলনামূলক ভালো প্রমাণ রয়েছে। তবে এসব গবেষণার অধিকাংশই আদার বিভিন্ন প্রস্তুতি বা সম্পূরক নিয়ে করা হয়েছে; সাধারণ আদা-পানির ক্ষেত্রে একই মাত্রার উপকার নিশ্চিত নয়।
বমিভাব কমাতে সহায়ক
আদার অন্যতম পরিচিত সম্ভাব্য উপকারিতা হলো বমিভাব কমাতে সহায়তা করা। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে আদা বমিভাবের তীব্রতা কমাতে পারে। বিশেষ করে গর্ভাবস্থায় বমিভাবের ক্ষেত্রে এর উপকারিতার পক্ষে প্রমাণ রয়েছে। তবে দীর্ঘস্থায়ী বমি বা অন্য কোনো রোগের কারণে বমিভাব হলে শুধু আদা-পানির ওপর নির্ভর করা উচিত নয়।
হজমের অস্বস্তিতে কিছুটা স্বস্তি
অনেকেই খাওয়ার পর পেট ভার লাগা বা হজমের অস্বস্তি কমাতে আদা-পানি পান করেন। আদার কিছু সক্রিয় উপাদান পরিপাকতন্ত্রের কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে সাধারণ আদা-পানি নিয়মিত পান করলে সবার হজমের সমস্যা দূর হবে—এমন পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই। দীর্ঘদিন পেটের সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
শরীরে পানির চাহিদা পূরণে সহায়ক
পরিমিত আদা মিশিয়ে তৈরি পানি শরীরে তরল সরবরাহের একটি উপায় হতে পারে। বিশেষ করে চিনি ছাড়া আদা-পানি পান করলে তা দৈনন্দিন পানীয়ের বিকল্প হিসেবে রাখা যায়। তবে শরীরে পানির ঘাটতি পূরণে সাধারণ পানিই যথেষ্ট এবং আদা মেশালেই পানির পুষ্টিগুণ বা উপকারিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়—এমন দাবি করার সুযোগ নেই।
প্রদাহ ও ব্যথা নিয়ে গবেষণা
আদায় জিঞ্জেরলসহ বেশ কিছু সক্রিয় উপাদান রয়েছে, যেগুলো নিয়ে প্রদাহ ও ব্যথা কমানোর সম্ভাবনা যাচাই করা হয়েছে। বিভিন্ন গবেষণার পর্যালোচনায় হাঁটুর অস্টিওআর্থ্রাইটিসের ব্যথা কমানোর ক্ষেত্রে আদার কিছু সম্ভাব্য উপকারের কথা উঠে এসেছে। তবে এসব ফলাফলকে সাধারণ আদা-পানির নিশ্চিত উপকার হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। আদা-পানি কোনো দীর্ঘমেয়াদি রোগের স্বীকৃত চিকিৎসার বিকল্পও নয়।
ওজন কমানো ও শরীর পরিষ্কার রাখার দাবি কতটা সত্য?
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আদা-পানি পান করলে দ্রুত ওজন কমে, শরীরের বিষাক্ত পদার্থ বের হয়ে যায় কিংবা বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ করা যায়—এমন নানা দাবি দেখা যায়। কিন্তু এসব দাবির পক্ষে শক্তিশালী বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। চিনি ছাড়া আদা-পানি উচ্চ ক্যালরিযুক্ত পানীয়ের পরিবর্তে পান করলে সামগ্রিক ক্যালরি গ্রহণ কমাতে সহায়ক হতে পারে। তবে শুধু আদা-পানি পান করে ওজন কমানো বা শরীরের রোগ নিরাময়ের নিশ্চয়তা নেই।
কীভাবে পান করবেন, কী বিষয়ে সতর্ক থাকবেন?
পরিষ্কার পানিতে অল্প পরিমাণ তাজা আদা দিয়ে ভিজিয়ে বা হালকা গরম করে আদা-পানি তৈরি করা যায়। এতে অতিরিক্ত চিনি যোগ না করাই ভালো। তবে সবার জন্য আদা-পানির নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসামূলক দৈনিক মাত্রা প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের এনসিসিআইএইচের তথ্য অনুযায়ী, মুখে আদা গ্রহণের ফলে কারও কারও পেটে অস্বস্তি, বুকজ্বালা, ডায়রিয়া কিংবা মুখ ও গলায় জ্বালাপোড়া হতে পারে। তাই পান করার পর এমন সমস্যা দেখা দিলে তা বন্ধ করা উচিত। নিয়মিত ওষুধ সেবনকারী, রক্ত পাতলা করার ওষুধ গ্রহণকারী, পিত্তথলির সমস্যা রয়েছে এমন ব্যক্তি এবং গর্ভবতীদের নিয়মিত বেশি পরিমাণ আদা গ্রহণ বা আদার সম্পূরক ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
সব মিলিয়ে, আদা-পানি পরিমিতভাবে দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসে রাখা যেতে পারে। তবে এর উপকারিতা নিয়ে অতিরঞ্জিত দাবি না করে মনে রাখতে হবে, সুস্থ থাকার জন্য সুষম খাবার, পর্যাপ্ত পানি পান, নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম ও পর্যাপ্ত ঘুমের বিকল্প নেই। কোনো রোগের লক্ষণ দেখা দিলে ঘরোয়া পানীয়ের ওপর নির্ভর না করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।





















