Dhaka ০৮:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
ঝিনাইদহে ১০৪ মোবাইল ফোন ও টাকা উদ্ধার মান্দায় ৯৫০ গ্রাম গাঁজাসহ নারী আটক প্রেমিকার তরকারিতে বিষ মেশানোর অভিযোগ, অস্ট্রেলীয় নারী অভিযুক্ত বলিউড অভিনেতা ইমরান খানকে ভারত ছাড়ার নির্দেশ জেলার ২-এ রজনীকান্তের সঙ্গে হৃতিকের চমক, ৪০ বছর পর একসঙ্গে পর্দায় আইনগত সহায়তায় ন্যায়বিচারের পথ সুগম করতে হবে: আইনমন্ত্রী ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা নির্ধারণ, নতুন অধ্যাদেশ জারি ডিসেম্বরের মধ্যে খুলে দেওয়া হবে পঞ্চবটি-মুক্তারপুর এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে : সড়কমন্ত্রী কালুখালীর মদাপুরে ১৩ পূজামণ্ডপের নেতাদের সঙ্গে বিএনপির মতবিনিময় পত্নীতলায় ৫০০ লিটার ওয়াশ ও ৯০ লিটার চোলাই মদ উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৩

একটি কবরের দাম সাড়ে ৪ কোটি টাকা!

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০৯:১০:০৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / 220

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকার বনানী কবরস্থানে সাধারণ এলাকায় ২৫ বছরের জন্য একটি কবর সংরক্ষণ করতে হলে গুনতে হচ্ছে সাড়ে ৪ কোটি টাকা। কবরস্থানের এক-তৃতীয়াংশের বেশি স্থান সংরক্ষিত থাকায় সাধারণ মানুষের কবর দেওয়ার সুযোগ দিন দিন কমে আসছে। ফলে ১৮ মাস থেকে দুই বছর পরই একই স্থানে পুনঃকবর দেওয়া হচ্ছে।

বনানী কবরস্থান দুটি অংশে বিভক্ত—সংরক্ষিত এলাকা ও সাধারণ এলাকা। ডিএনসিসির কবরস্থান নীতিমালা ২০২২ অনুযায়ী সংরক্ষিত এলাকায় ২৫ বছরের জন্য একটি কবর সংরক্ষণে ফি নির্ধারণ করা হয়েছে দেড় কোটি টাকা। তবে সাধারণ এলাকায় এই ফি তিন গুণ বেড়ে সাড়ে ৪ কোটি টাকা।

ডিএনসিসির প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ বলেন, কবরস্থানগুলো বহু পুরোনো হওয়ায় নতুন করে জায়গা বাড়ানোর সুযোগ নেই। সংরক্ষণ নিরুৎসাহিত করতেই সাধারণ এলাকায় কবর সংরক্ষণের মূল্য বেশি রাখা হয়েছে।

ডিএনসিসির প্রধান সমাজকল্যাণ ও বস্তি উন্নয়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মামুন-উল-হাসান জানান, বনানী কবরস্থানের সাধারণ এলাকা উন্মুক্ত রাখতে সংরক্ষণে বেশি ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বনানী কবরস্থানে জায়গার তীব্র সংকট রয়েছে। ২০০৬ সালেই সংরক্ষিত এলাকার স্থান শেষ হয়ে যায়। বর্তমানে আগে সংরক্ষণ করা কবরের ওপরই পুনঃকবর দেওয়া হচ্ছে। কবরস্থানে চারটি ব্লক রয়েছে এবং শিশুদের জন্য আলাদা অংশ নির্ধারিত। প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৩০টি কবর খোঁড়া হয়।

নীতিমালা অনুযায়ী, প্রথমে ৫০০ টাকা ফি দিয়ে দুই বছরের জন্য কবর দেওয়া হয়। পরে সংরক্ষণ করতে চাইলে ১৫ বছরের জন্য ৩ কোটি এবং ২৫ বছরের জন্য সাড়ে ৪ কোটি টাকা দিতে হয়। কবর রেজিস্ট্রেশনে মৃত ব্যক্তির জন্য ৫০০ টাকা ফি নির্ধারণ রয়েছে। পরবর্তীতে পরিবারের সদস্য মারা গেলে ৫০ হাজার ৫০০ টাকায় পুনঃকবর দেওয়া যায়। স্বামী-স্ত্রী, মা-বাবা, ভাইবোন ও সন্তানরা একই কবরে পুনঃকবরের সুযোগ পান।

বনানী কবরস্থানের মোহরার হারুনর রশিদ জানান, মৃত্যুর হার অনুযায়ী কবরস্থানে পর্যাপ্ত জায়গা নেই। দুই বছর পার হলে যাচাই-বাছাই করে পুনরায় সেখানে কবর দেওয়া হয়। এতে ৫০০ টাকা ফিসহ বাঁশ ও চাটাই বাবদ মোট খরচ পড়ে প্রায় ২ হাজার টাকা।

এদিকে ঢাকায় কবর সংরক্ষণের আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় অনেকেই গ্রামের বাড়িতে স্বজনদের দাফন করতে আগ্রহী হচ্ছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

একটি কবরের দাম সাড়ে ৪ কোটি টাকা!

প্রকাশের সময় : ০৯:১০:০৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকার বনানী কবরস্থানে সাধারণ এলাকায় ২৫ বছরের জন্য একটি কবর সংরক্ষণ করতে হলে গুনতে হচ্ছে সাড়ে ৪ কোটি টাকা। কবরস্থানের এক-তৃতীয়াংশের বেশি স্থান সংরক্ষিত থাকায় সাধারণ মানুষের কবর দেওয়ার সুযোগ দিন দিন কমে আসছে। ফলে ১৮ মাস থেকে দুই বছর পরই একই স্থানে পুনঃকবর দেওয়া হচ্ছে।

বনানী কবরস্থান দুটি অংশে বিভক্ত—সংরক্ষিত এলাকা ও সাধারণ এলাকা। ডিএনসিসির কবরস্থান নীতিমালা ২০২২ অনুযায়ী সংরক্ষিত এলাকায় ২৫ বছরের জন্য একটি কবর সংরক্ষণে ফি নির্ধারণ করা হয়েছে দেড় কোটি টাকা। তবে সাধারণ এলাকায় এই ফি তিন গুণ বেড়ে সাড়ে ৪ কোটি টাকা।

ডিএনসিসির প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ বলেন, কবরস্থানগুলো বহু পুরোনো হওয়ায় নতুন করে জায়গা বাড়ানোর সুযোগ নেই। সংরক্ষণ নিরুৎসাহিত করতেই সাধারণ এলাকায় কবর সংরক্ষণের মূল্য বেশি রাখা হয়েছে।

ডিএনসিসির প্রধান সমাজকল্যাণ ও বস্তি উন্নয়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মামুন-উল-হাসান জানান, বনানী কবরস্থানের সাধারণ এলাকা উন্মুক্ত রাখতে সংরক্ষণে বেশি ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বনানী কবরস্থানে জায়গার তীব্র সংকট রয়েছে। ২০০৬ সালেই সংরক্ষিত এলাকার স্থান শেষ হয়ে যায়। বর্তমানে আগে সংরক্ষণ করা কবরের ওপরই পুনঃকবর দেওয়া হচ্ছে। কবরস্থানে চারটি ব্লক রয়েছে এবং শিশুদের জন্য আলাদা অংশ নির্ধারিত। প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৩০টি কবর খোঁড়া হয়।

নীতিমালা অনুযায়ী, প্রথমে ৫০০ টাকা ফি দিয়ে দুই বছরের জন্য কবর দেওয়া হয়। পরে সংরক্ষণ করতে চাইলে ১৫ বছরের জন্য ৩ কোটি এবং ২৫ বছরের জন্য সাড়ে ৪ কোটি টাকা দিতে হয়। কবর রেজিস্ট্রেশনে মৃত ব্যক্তির জন্য ৫০০ টাকা ফি নির্ধারণ রয়েছে। পরবর্তীতে পরিবারের সদস্য মারা গেলে ৫০ হাজার ৫০০ টাকায় পুনঃকবর দেওয়া যায়। স্বামী-স্ত্রী, মা-বাবা, ভাইবোন ও সন্তানরা একই কবরে পুনঃকবরের সুযোগ পান।

বনানী কবরস্থানের মোহরার হারুনর রশিদ জানান, মৃত্যুর হার অনুযায়ী কবরস্থানে পর্যাপ্ত জায়গা নেই। দুই বছর পার হলে যাচাই-বাছাই করে পুনরায় সেখানে কবর দেওয়া হয়। এতে ৫০০ টাকা ফিসহ বাঁশ ও চাটাই বাবদ মোট খরচ পড়ে প্রায় ২ হাজার টাকা।

এদিকে ঢাকায় কবর সংরক্ষণের আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় অনেকেই গ্রামের বাড়িতে স্বজনদের দাফন করতে আগ্রহী হচ্ছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন