Dhaka ১২:৪০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
দীর্ঘদিনের প্রেমিকাকে বিয়ে করলেন মার্ভেল তারকা সিমু লিউ পুলিশ সদর দফতরের মিডিয়া বিভাগের নতুন এআইজি মুনিরা বাংলাদেশে গাড়ি তৈরির কারখানা স্থাপন করবে বিশ্বখ্যাত কোম্পানি টয়োটা ভবিষ্যতে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা সরাতে গণভোট লাগবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সভাপতির স্বাক্ষর জাল করে ৮০ লাখ টাকার নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ বেসরকারি খাত ও সরকারের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারিত্ব জরুরি: অর্থমন্ত্রী জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ মাধ্যমিক শিক্ষক মধুখালীর মনিরুল ইসলাম মালয়েশিয়ায় ‘যেমনে-তেমনে’ কর্মী পাঠানো যাবে না: প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশে উচ্চশিক্ষা বিষয়ক কর্মশালা কোটালীপাড়ায় শিশু কল্যাণ বোর্ডের অর্ধবার্ষিক সভা

বগুড়ায় দেড় বছরে এইচআইভি শনাক্ত ৯৩ জন, আক্রান্তদের বেশিরভাগই পুরুষ

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০২:৩৮:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
  • / 55

বগুড়ায় গত ১৯ মাসে ২ হাজার ১৬৪ জনের এইচআইভি পরীক্ষা করে ৯৩ জনের শরীরে সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে ৮১ জন পুরুষ, ১০ জন নারী এবং দুজন তৃতীয় লিঙ্গের। একই সময়ে আটজনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে গত সাত মাসেই মারা গেছেন তিনজন।

শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালের এইচআইভি টেস্টিং অ্যান্ড কাউন্সেলিং (এইচটিসি) সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, শনাক্ত রোগীদের প্রায় ৮৭ শতাংশই পুরুষ। এ সময় শুধু বগুড়া জেলারই ৯২ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। পাশাপাশি ৫৯৭ জন এইচআইভি-সন্দেহভাজন ব্যক্তি সেন্টারে নিবন্ধন করেছেন।

চিকিৎসকদের মতে, ঝুঁকিপূর্ণ যৌন আচরণ, অরক্ষিত যৌন সম্পর্ক, অনিরাপদ রক্ত গ্রহণ এবং ব্যবহৃত সুঁই বা সিরিঞ্জ ভাগাভাগি করার কারণে এইচআইভি সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে। প্রতিদিন গড়ে ১০ থেকে ১৫ জন এইচআইভি পরীক্ষার জন্য এইচটিসি সেন্টারে আসেন। যাদের শরীরে সংক্রমণ শনাক্ত হয়, তাদের তাৎক্ষণিক কাউন্সেলিং এবং বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া হয়।

শজিমেক হাসপাতাল সূত্র জানায়, বগুড়া ছাড়াও বৃহত্তর রাজশাহী ও রংপুর অঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে রোগীরা এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। এইচআইভি পরীক্ষা, কাউন্সেলিং এবং চিকিৎসাসেবা একসঙ্গে দেওয়া হয় এই সেন্টারে।

চিকিৎসকদের ভাষ্য, আক্রান্তদের মধ্যে তরুণ ও কর্মক্ষম বয়সী মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। তাই ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে নিয়মিত পরীক্ষা, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সময়মতো চিকিৎসা নিশ্চিত করা জরুরি।

এইচটিসি সেন্টারের কাউন্সেলর আব্দুস সালাম বলেন, এইচআইভি পজিটিভ শনাক্ত হওয়ার পর অনেক রোগী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। নিয়মিত কাউন্সেলিং তাদের মানসিকভাবে শক্ত থাকতে এবং চিকিৎসা চালিয়ে যেতে সহায়তা করে।

শজিমেক হাসপাতালের এইচটিসি সেন্টারের চিকিৎসক ডা. মো. সুলতান ইবনে সাঈদ বলেন, অরক্ষিত যৌন সম্পর্ক এইচআইভি সংক্রমণের অন্যতম প্রধান কারণ। এছাড়া আক্রান্ত মায়ের কাছ থেকেও শিশুর শরীরে সংক্রমণ হতে পারে। প্রতিরোধে নিরাপদ যৌন আচরণ, পরীক্ষিত রক্ত গ্রহণ, অন্যের ব্যবহৃত সুঁই বা সিরিঞ্জ ব্যবহার না করা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

চিকিৎসকদের মতে, এইচআইভি নিয়ে সামাজিক কুসংস্কার ও বৈষম্য দূর করার পাশাপাশি আক্রান্ত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে চিকিৎসা ও কাউন্সেলিংয়ের আওতায় আনতে পারলে সংক্রমণ অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

বগুড়ায় দেড় বছরে এইচআইভি শনাক্ত ৯৩ জন, আক্রান্তদের বেশিরভাগই পুরুষ

প্রকাশের সময় : ০২:৩৮:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

বগুড়ায় গত ১৯ মাসে ২ হাজার ১৬৪ জনের এইচআইভি পরীক্ষা করে ৯৩ জনের শরীরে সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে ৮১ জন পুরুষ, ১০ জন নারী এবং দুজন তৃতীয় লিঙ্গের। একই সময়ে আটজনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে গত সাত মাসেই মারা গেছেন তিনজন।

শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালের এইচআইভি টেস্টিং অ্যান্ড কাউন্সেলিং (এইচটিসি) সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, শনাক্ত রোগীদের প্রায় ৮৭ শতাংশই পুরুষ। এ সময় শুধু বগুড়া জেলারই ৯২ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। পাশাপাশি ৫৯৭ জন এইচআইভি-সন্দেহভাজন ব্যক্তি সেন্টারে নিবন্ধন করেছেন।

চিকিৎসকদের মতে, ঝুঁকিপূর্ণ যৌন আচরণ, অরক্ষিত যৌন সম্পর্ক, অনিরাপদ রক্ত গ্রহণ এবং ব্যবহৃত সুঁই বা সিরিঞ্জ ভাগাভাগি করার কারণে এইচআইভি সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে। প্রতিদিন গড়ে ১০ থেকে ১৫ জন এইচআইভি পরীক্ষার জন্য এইচটিসি সেন্টারে আসেন। যাদের শরীরে সংক্রমণ শনাক্ত হয়, তাদের তাৎক্ষণিক কাউন্সেলিং এবং বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া হয়।

শজিমেক হাসপাতাল সূত্র জানায়, বগুড়া ছাড়াও বৃহত্তর রাজশাহী ও রংপুর অঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে রোগীরা এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। এইচআইভি পরীক্ষা, কাউন্সেলিং এবং চিকিৎসাসেবা একসঙ্গে দেওয়া হয় এই সেন্টারে।

চিকিৎসকদের ভাষ্য, আক্রান্তদের মধ্যে তরুণ ও কর্মক্ষম বয়সী মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। তাই ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে নিয়মিত পরীক্ষা, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সময়মতো চিকিৎসা নিশ্চিত করা জরুরি।

এইচটিসি সেন্টারের কাউন্সেলর আব্দুস সালাম বলেন, এইচআইভি পজিটিভ শনাক্ত হওয়ার পর অনেক রোগী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। নিয়মিত কাউন্সেলিং তাদের মানসিকভাবে শক্ত থাকতে এবং চিকিৎসা চালিয়ে যেতে সহায়তা করে।

শজিমেক হাসপাতালের এইচটিসি সেন্টারের চিকিৎসক ডা. মো. সুলতান ইবনে সাঈদ বলেন, অরক্ষিত যৌন সম্পর্ক এইচআইভি সংক্রমণের অন্যতম প্রধান কারণ। এছাড়া আক্রান্ত মায়ের কাছ থেকেও শিশুর শরীরে সংক্রমণ হতে পারে। প্রতিরোধে নিরাপদ যৌন আচরণ, পরীক্ষিত রক্ত গ্রহণ, অন্যের ব্যবহৃত সুঁই বা সিরিঞ্জ ব্যবহার না করা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

চিকিৎসকদের মতে, এইচআইভি নিয়ে সামাজিক কুসংস্কার ও বৈষম্য দূর করার পাশাপাশি আক্রান্ত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে চিকিৎসা ও কাউন্সেলিংয়ের আওতায় আনতে পারলে সংক্রমণ অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।