বেনাপোল বন্দরে জব্দ ৩,৬৭৫ কেজি ভায়াগ্রা পাচারের শঙ্কা, বিশেষ নিরাপত্তা
- প্রকাশের সময় : ১১:৩২:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬
- / 71
বেনাপোল বন্দরে মিথ্যা ঘোষণায় ভারত থেকে আমদানি করা ৩ হাজার ৬৭৫ কেজি ভায়াগ্রার কাঁচামাল জব্দ হওয়ার পর তা পাচারের আশঙ্কায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। কাস্টমসের অনুরোধে জব্দ চালান রাখা সংশ্লিষ্ট পণ্যগারগুলোতে ২৪ ঘণ্টার অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় বন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ১৫ মার্চ ঢাকার কামরাঙ্গীরচরের আরাফাত এন্টারপ্রাইজ কোয়ার্টজ পাউডার ঘোষণা দিয়ে ভারত থেকে ১৬ মেট্রিক টন পণ্য আমদানি করে। চালানটির খালাসের দায়িত্বে ছিল হায়দার অ্যান্ড সন্স নামে একটি সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান।
সন্দেহের ভিত্তিতে চালানটির নমুনা পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হলে এতে ১৩ ধরনের রাসায়নিক শনাক্ত হয়। এর মধ্যে ৩ হাজার ৬৭৫ কেজি সিলডেনাফিল সাইট্রেট (ভায়াগ্রার কাঁচামাল) ছাড়াও বিভিন্ন জীবনরক্ষাকারী ওষুধের অননুমোদিত কাঁচামাল পাওয়া যায়। পরে চালানটি জব্দ করে কাস্টমস। বর্তমানে এটি বন্দরের ৩২ নম্বর পণ্যগারে সংরক্ষিত রয়েছে।
সূত্র জানায়, সম্প্রতি গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কাস্টমস জানতে পারে, জব্দ করা এই চালানটি অবৈধভাবে পণ্যগার থেকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হতে পারে। এ পরিপ্রেক্ষিতে গত ১ জুলাই বেনাপোল কাস্টমস হাউসের সহকারী কমিশনার অটল গোস্বামী বন্দর কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানান।
এর পর থেকেই ৩২ ও ৩৪ নম্বর শেডে অতিরিক্ত নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সেখানে আনসার সদস্য, বেসরকারি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান আল-আরাফার কর্মী এবং বন্দরের গোয়েন্দা সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন।
এর আগে ২০১৯ সালের ২৬ মে বায়েজিদ এন্টারপ্রাইজ সোডিয়াম গ্লাইকুলেট ঘোষণা দিয়ে ১০০ ড্রামে ২ হাজার ৭০০ কেজি রাসায়নিক আমদানি করলেও পরীক্ষায় সেটিও ভায়াগ্রা হিসেবে শনাক্ত হয়। সেই চালানটি এখনও বন্দরের ৩৪ নম্বর শেডে সংরক্ষিত রয়েছে।
বন্দর ব্যবহারকারীদের অভিযোগ, গত মাসে প্রায় ১৫ কোটি টাকার আমদানি পণ্য পাচারের ঘটনায় কাস্টমস, বন্দর, নিরাপত্তাকর্মী, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও আমদানিকারকসহ ৫৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার পর বন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের দাবি, অসাধু চক্রের যোগসাজশে বিভিন্ন সময় পণ্যগার থেকে মালামাল পাচারের ঘটনা ঘটেছে।
বেনাপোল আমদানি-রপ্তানি সমিতির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান বলেন, বিপুল পরিমাণ নিয়ন্ত্রিত ওষুধ বা ভায়াগ্রার কাঁচামাল দেশের বাজারে প্রবেশ করলে জনস্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তিনি এ ঘটনায় জড়িতদের পাশাপাশি সহযোগীদেরও আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
স্থানীয় ব্যবসায়ী রহমত বলেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর কর্মকাণ্ডের কারণে সাধারণ ব্যবসায়ীরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। ফলে অনেক ব্যবসায়ী বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম কমিয়ে দিয়েছেন।
বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) শামীম হোসেন বলেন, কাস্টমসের চিঠি পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট পণ্যগারগুলোতে ২৪ ঘণ্টার অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ভায়াগ্রা সন্দেহে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা আরেকটি চালান রাখা শেডেও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো ধরনের শিথিলতার সুযোগ রাখা হচ্ছে না।
বেনাপোল কাস্টমস হাউসের সহকারী কমিশনার অটল গোস্বামী বলেন, রাসায়নিক পরীক্ষায় জব্দ চালানে ৩ হাজার ৬৭৫ কেজি ভায়াগ্রার কাঁচামালসহ বিভিন্ন রাসায়নিক পাওয়া গেছে। বর্তমানে চালানটি কাস্টমসের হেফাজতে রয়েছে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম চলমান।




















