Dhaka ১১:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
দীর্ঘদিনের প্রেমিকাকে বিয়ে করলেন মার্ভেল তারকা সিমু লিউ পুলিশ সদর দফতরের মিডিয়া বিভাগের নতুন এআইজি মুনিরা বাংলাদেশে গাড়ি তৈরির কারখানা স্থাপন করবে বিশ্বখ্যাত কোম্পানি টয়োটা ভবিষ্যতে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা সরাতে গণভোট লাগবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সভাপতির স্বাক্ষর জাল করে ৮০ লাখ টাকার নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ বেসরকারি খাত ও সরকারের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারিত্ব জরুরি: অর্থমন্ত্রী জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ মাধ্যমিক শিক্ষক মধুখালীর মনিরুল ইসলাম মালয়েশিয়ায় ‘যেমনে-তেমনে’ কর্মী পাঠানো যাবে না: প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশে উচ্চশিক্ষা বিষয়ক কর্মশালা কোটালীপাড়ায় শিশু কল্যাণ বোর্ডের অর্ধবার্ষিক সভা

চার দিনের ভোগান্তির অবসান, আশ্রয় পেল শিশুসন্তানসহ সীমান্তে আটকে থাকা দম্পতি

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০৫:৪৪:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
  • / 108

অবশেষে কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার গয়টাপাড়া সীমান্তের শূন্যরেখার কাছে চার দিন ধরে অবস্থান করা দুই শিশুসন্তানসহ এক দম্পতিকে সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করা ওই পরিবারের দীর্ঘ ভোগান্তির অবসান ঘটেছে। তবে তাদের সঙ্গে থাকা আরও দুই যুবক এখনো শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে গয়টাপাড়া সীমান্ত এলাকা থেকে দম্পতি ও তাদের দুই শিশুসন্তানকে সরিয়ে নেওয়া হয়। শৌলমারী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ জহুরুল ইসলাম স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তবে কী প্রক্রিয়ায় এবং কোথায় তাদের নিয়ে যাওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানা যায়নি। গয়টাপাড়া বিজিবি ক্যাম্পের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে জামালপুর ৩৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়কের সঙ্গেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

গ্রাম পুলিশ জহুরুল ইসলাম বলেন, “বৃহস্পতিবার সকালে জামালপুর থেকে কয়েকটি গাড়ি আসে। পরে ওই দম্পতি ও তাদের দুই সন্তানকে গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বিজিবির গাড়িও ছিল। এখন ওই স্থানে শুধু দুই যুবক রয়েছেন। তাদের কোথায় নেওয়া হয়েছে, তা জানি না।”

গয়টাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা রুহুল ইসলাম জানান, মানবিক কারণে তিনি সীমান্তে অবস্থানরত পরিবারটিকে একটি মশারি দিয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার সকালে মশারিটি আনতে গিয়ে দেখেন, দম্পতি ও তাদের দুই সন্তান আর সেখানে নেই।

তিনি বলেন, “আজ সকালে গিয়ে দেখি বাবা-মা আর দুই শিশু নেই। কোথায় গেছে জানি না। তবে বাকি দুইজন এখনো আছে। সেখানে বিজিবি ও বিএসএফের সদস্যরা পাহারা দিচ্ছেন।”

স্থানীয় একটি সূত্র দাবি করেছে, বৃহস্পতিবার সকালে বিজিবি ওই দম্পতিকে রৌমারী থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। পরে পুলিশ তাদের পরিবারের সদস্যদের কাছে পৌঁছে দেয়। তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে রৌমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাওছার আলী বলেন, “আমার কাছে এ বিষয়ে কোনো তথ্য নেই। বিজিবির সঙ্গে যোগাযোগ করুন।”

এর আগে গত রোববার (১৪ জুন) ভোরে উপজেলার গয়টাপাড়া সীমান্ত দিয়ে নারী ও শিশুসহ ছয়জন এবং ইজলামারী সীমান্ত দিয়ে আরও তিনজনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। কাঁটাতারের এপারে নিয়ে আসা হলেও বিজিবি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের বাধার মুখে তাদের বাংলাদেশ ভূখণ্ডে প্রবেশ করানো সম্ভব হয়নি।

এরপর থেকেই নারী-শিশুসহ কয়েকজন সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করতে বাধ্য হন। টানা চার দিন খোলা আকাশের নিচে অবস্থানকালে তারা চরম দুর্ভোগের শিকার হন। এ সময় তাদের ঘিরে অবস্থান নেয় বিজিবি ও বিএসএফ সদস্যরা।

ভুক্তভোগী সুমি আক্তার ও বেলাল হোসেনের দাবি, তারা ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার বিরুনিয়া ইউনিয়নের কংশেরকুল গ্রামের বাসিন্দা। কয়েক সপ্তাহ আগে তারা সিলেট সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন। পরে ভারতের আসাম রাজ্যের গোয়াহাটি পুলিশ তাদের আটক করে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করে। এরপর গত রোববার ভোরে বিএসএফ তাদের সীমান্তের কাঁটাতার পার করে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করে। তবে বিজিবি ও স্থানীয়দের বাধার কারণে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেননি এবং শূন্যরেখাতেই আটকা পড়ে ছিলেন।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

চার দিনের ভোগান্তির অবসান, আশ্রয় পেল শিশুসন্তানসহ সীমান্তে আটকে থাকা দম্পতি

প্রকাশের সময় : ০৫:৪৪:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

অবশেষে কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার গয়টাপাড়া সীমান্তের শূন্যরেখার কাছে চার দিন ধরে অবস্থান করা দুই শিশুসন্তানসহ এক দম্পতিকে সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করা ওই পরিবারের দীর্ঘ ভোগান্তির অবসান ঘটেছে। তবে তাদের সঙ্গে থাকা আরও দুই যুবক এখনো শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে গয়টাপাড়া সীমান্ত এলাকা থেকে দম্পতি ও তাদের দুই শিশুসন্তানকে সরিয়ে নেওয়া হয়। শৌলমারী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ জহুরুল ইসলাম স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তবে কী প্রক্রিয়ায় এবং কোথায় তাদের নিয়ে যাওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানা যায়নি। গয়টাপাড়া বিজিবি ক্যাম্পের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে জামালপুর ৩৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়কের সঙ্গেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

গ্রাম পুলিশ জহুরুল ইসলাম বলেন, “বৃহস্পতিবার সকালে জামালপুর থেকে কয়েকটি গাড়ি আসে। পরে ওই দম্পতি ও তাদের দুই সন্তানকে গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বিজিবির গাড়িও ছিল। এখন ওই স্থানে শুধু দুই যুবক রয়েছেন। তাদের কোথায় নেওয়া হয়েছে, তা জানি না।”

গয়টাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা রুহুল ইসলাম জানান, মানবিক কারণে তিনি সীমান্তে অবস্থানরত পরিবারটিকে একটি মশারি দিয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার সকালে মশারিটি আনতে গিয়ে দেখেন, দম্পতি ও তাদের দুই সন্তান আর সেখানে নেই।

তিনি বলেন, “আজ সকালে গিয়ে দেখি বাবা-মা আর দুই শিশু নেই। কোথায় গেছে জানি না। তবে বাকি দুইজন এখনো আছে। সেখানে বিজিবি ও বিএসএফের সদস্যরা পাহারা দিচ্ছেন।”

স্থানীয় একটি সূত্র দাবি করেছে, বৃহস্পতিবার সকালে বিজিবি ওই দম্পতিকে রৌমারী থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। পরে পুলিশ তাদের পরিবারের সদস্যদের কাছে পৌঁছে দেয়। তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে রৌমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাওছার আলী বলেন, “আমার কাছে এ বিষয়ে কোনো তথ্য নেই। বিজিবির সঙ্গে যোগাযোগ করুন।”

এর আগে গত রোববার (১৪ জুন) ভোরে উপজেলার গয়টাপাড়া সীমান্ত দিয়ে নারী ও শিশুসহ ছয়জন এবং ইজলামারী সীমান্ত দিয়ে আরও তিনজনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। কাঁটাতারের এপারে নিয়ে আসা হলেও বিজিবি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের বাধার মুখে তাদের বাংলাদেশ ভূখণ্ডে প্রবেশ করানো সম্ভব হয়নি।

এরপর থেকেই নারী-শিশুসহ কয়েকজন সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করতে বাধ্য হন। টানা চার দিন খোলা আকাশের নিচে অবস্থানকালে তারা চরম দুর্ভোগের শিকার হন। এ সময় তাদের ঘিরে অবস্থান নেয় বিজিবি ও বিএসএফ সদস্যরা।

ভুক্তভোগী সুমি আক্তার ও বেলাল হোসেনের দাবি, তারা ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার বিরুনিয়া ইউনিয়নের কংশেরকুল গ্রামের বাসিন্দা। কয়েক সপ্তাহ আগে তারা সিলেট সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন। পরে ভারতের আসাম রাজ্যের গোয়াহাটি পুলিশ তাদের আটক করে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করে। এরপর গত রোববার ভোরে বিএসএফ তাদের সীমান্তের কাঁটাতার পার করে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করে। তবে বিজিবি ও স্থানীয়দের বাধার কারণে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেননি এবং শূন্যরেখাতেই আটকা পড়ে ছিলেন।