Dhaka ০৯:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
তিন বছরের শিশুকে শ্বাসরোধ করে হত্যা, লাশ লুকানো হয় ঘরের আলনার পেছনে জনগণের প্রতিটি পয়সা দেশের স্বার্থে ব্যয় করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার: ত্রাণমন্ত্রী বালিয়াকান্দীতে ঐতিহ্যবাহী লাঠিখেলা দেখতে হাজারো মানুষের ভিড় মান্দায় বৃদ্ধকে ফাঁদে ফেলে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ, গ্রেফতার ১ শৈলকুপায় ইটভাটায় ট্রাক্টরচাপায় মাদ্রাসাছাত্রের মৃত্যু ছয় দিন পর ধাওয়াপাড়া-নাজিরগঞ্জ নৌপথে ফেরি চলাচল শুরু সরকারি সোয়া কোটি টাকা আত্মসাৎ, কারাগারের জেলার বরখাস্ত রাজবাড়ীতে জিপিএ-৫ ও বৃত্তিপ্রাপ্ত ৮৩ শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দিল্লিতে আওয়ামী লীগ আর বাংলাদেশে জামায়াত দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র করছে: রাশেদ খান

জন্মের ১০ মাস পর বাবাকে দেখল শিশু, তাও কফিনবন্দি

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০৬:১২:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬
  • / 124

সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত রাজবাড়ীর প্রবাসী মুরাদ শেখের মরদেহ ১৬ দিন পর দেশে পৌঁছেছে। জন্মের ১০ মাস পর বাবাকে প্রথম দেখল তার শিশু সন্তান, তবে সেটিও কফিনবন্দি অবস্থায়। এ হৃদয়বিদারক ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নিহত মুরাদ শেখ (৩৬) গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচরের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের দরাপের ডাঙ্গী গ্রামের আব্দুল খালেক শেখের ছেলে। গত ২৩ এপ্রিল বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সৌদি আরবের দাম্মাম শহরের জুবাইল এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়।

শনিবার (৯ মে) ভোর সাড়ে ৪টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায় তার মরদেহ। পরে সকাল ৯টায় গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হলে স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। বেলা ১১টায় উজানচর দুদুখান পাড়া হাফেজিয়া মাদ্রাসা মাঠে জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

নিহতের স্ত্রী আঞ্জুয়ারা খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমি যখন ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা, তখন পরিবারের ভবিষ্যতের কথা ভেবে মুরাদ সৌদি আরবে যায়। ছেলের জন্মের খবর শুনে খুব খুশি হয়েছিল। বলেছিল দ্রুত দেশে ফিরে ছেলেকে কোলে নেবে। কিন্তু সে ফিরলো কফিনবন্দি হয়ে। জন্মের পর ছেলেকে একবারও কোলে নিতে পারেনি।”

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মুরাদের পরিবারে বৃদ্ধ মা, স্ত্রী, দুই মেয়ে ও ১০ মাস বয়সী এক ছেলে রয়েছে। ছেলেটি জন্মের আগেই সৌদি আরবে পাড়ি জমান মুরাদ।

মুরাদের বড় মেয়ে মাইশা খাতুন জানায়, দুর্ঘটনার মাত্র দুই ঘণ্টা আগেও বাবার সঙ্গে ভিডিও কলে কথা হয়েছিল। “বাবা বলেছিল পরে আবার কথা বলবে। কিন্তু সেই কথা আর হয়নি,” বলে কান্নায় ভেঙে পড়ে সে।

নিহতের বড় ভাই গোলাম মোস্তফা বলেন, “পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিল মুরাদ। তার মৃত্যুতে স্ত্রী-সন্তানরা অসহায় হয়ে পড়েছে। কীভাবে তাদের সংসার চলবে, তা নিয়ে আমরা দুশ্চিন্তায় আছি।”

স্বজনরা জানান, সৌদি আরবে অবস্থানরত কয়েকজন প্রবাসীর সহযোগিতায় মরদেহ দেশে পাঠানো সম্ভব হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

জন্মের ১০ মাস পর বাবাকে দেখল শিশু, তাও কফিনবন্দি

প্রকাশের সময় : ০৬:১২:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬

সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত রাজবাড়ীর প্রবাসী মুরাদ শেখের মরদেহ ১৬ দিন পর দেশে পৌঁছেছে। জন্মের ১০ মাস পর বাবাকে প্রথম দেখল তার শিশু সন্তান, তবে সেটিও কফিনবন্দি অবস্থায়। এ হৃদয়বিদারক ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নিহত মুরাদ শেখ (৩৬) গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচরের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের দরাপের ডাঙ্গী গ্রামের আব্দুল খালেক শেখের ছেলে। গত ২৩ এপ্রিল বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সৌদি আরবের দাম্মাম শহরের জুবাইল এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়।

শনিবার (৯ মে) ভোর সাড়ে ৪টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায় তার মরদেহ। পরে সকাল ৯টায় গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হলে স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। বেলা ১১টায় উজানচর দুদুখান পাড়া হাফেজিয়া মাদ্রাসা মাঠে জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

নিহতের স্ত্রী আঞ্জুয়ারা খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমি যখন ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা, তখন পরিবারের ভবিষ্যতের কথা ভেবে মুরাদ সৌদি আরবে যায়। ছেলের জন্মের খবর শুনে খুব খুশি হয়েছিল। বলেছিল দ্রুত দেশে ফিরে ছেলেকে কোলে নেবে। কিন্তু সে ফিরলো কফিনবন্দি হয়ে। জন্মের পর ছেলেকে একবারও কোলে নিতে পারেনি।”

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মুরাদের পরিবারে বৃদ্ধ মা, স্ত্রী, দুই মেয়ে ও ১০ মাস বয়সী এক ছেলে রয়েছে। ছেলেটি জন্মের আগেই সৌদি আরবে পাড়ি জমান মুরাদ।

মুরাদের বড় মেয়ে মাইশা খাতুন জানায়, দুর্ঘটনার মাত্র দুই ঘণ্টা আগেও বাবার সঙ্গে ভিডিও কলে কথা হয়েছিল। “বাবা বলেছিল পরে আবার কথা বলবে। কিন্তু সেই কথা আর হয়নি,” বলে কান্নায় ভেঙে পড়ে সে।

নিহতের বড় ভাই গোলাম মোস্তফা বলেন, “পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিল মুরাদ। তার মৃত্যুতে স্ত্রী-সন্তানরা অসহায় হয়ে পড়েছে। কীভাবে তাদের সংসার চলবে, তা নিয়ে আমরা দুশ্চিন্তায় আছি।”

স্বজনরা জানান, সৌদি আরবে অবস্থানরত কয়েকজন প্রবাসীর সহযোগিতায় মরদেহ দেশে পাঠানো সম্ভব হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে।