বয়স্ক হলেও আই এম ফিট, ডোন্ট গেট নার্ভাস: সংসদে রুমিন ফারহানাকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী
- প্রকাশের সময় : ০৪:৪০:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬
- / 107
জাতীয় সংসদে হামের টিকা ও মৃত্যুর পরিসংখ্যান নিয়ে আলোচনায় স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার বক্তব্যের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “ডোন্ট গেট নার্ভাস, আই এম ফিট”—প্যানিক না ছড়িয়ে তথ্য যাচাই করে কথা বলার আহ্বান জানান তিনি।
বুধবার (৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে হামের বিস্তার, টিকার সংকট ও মৃত্যুর পরিসংখ্যান তুলে ধরে উদ্বেগ প্রকাশ করেন রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, সংসদে কোনো আতঙ্ক ছড়ানোর উদ্দেশ্যে নয়, বরং জনস্বাস্থ্যের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি তুলে ধরতেই এ আলোচনা করেছেন।
তিনি বলেন, “আমি তো ৩০০ জন সংসদ সদস্যের সামনে কথা বলছি, ৩০০ জন হামের রোগীর সামনে না।” সংসদে জনস্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলাও যদি ভয়ের কারণ হয়, তাহলে সংসদ কীভাবে চলবে—এ প্রশ্ন তোলেন তিনি।
রুমিন ফারহানা আরও বলেন, মৃত্যুগুলোকে শুধু পরিসংখ্যান হিসেবে দেখলে হবে না; প্রতিটি সংখ্যার পেছনে একটি শিশুর জীবন ও একটি পরিবারের বেদনা জড়িয়ে আছে। তিনি দাবি করেন, গত ২০ দিনে ৯৮ জন শিশুর সন্দেহজনকভাবে হামে মৃত্যু হয়েছে এবং নিশ্চিত মৃত্যু ১৬ জন। বিভিন্ন হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী গত দুই সপ্তাহে মৃত্যুর সংখ্যা ৬১ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি জানান, দেশে ১০ ধরনের টিকার সংকট দেখা দিয়েছে। ইপিআই কর্মসূচির কেন্দ্রীয় গুদামে বিসিজি, পেন্টা, ওপিভি, পিসিভি, এমআর ও টিডি—এই ছয় ধরনের টিকার মজুদ শূন্যে নেমে এসেছে। আইপিভি ও টিসিভি টিকার মজুদ জুন পর্যন্ত চলতে পারে বলেও জানান তিনি।
জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যাননি এবং সংসদ সদস্যের বক্তব্যের প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। “আমি কিন্তু একজন এজড মানুষ, লুকিং ভেরি ইয়াং, বাট এজড। ডোন্ট গেট নার্ভাস, আই এম ফিট।”
তিনি জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউনিসেফের হিসাব অনুযায়ী এখন পর্যন্ত ৪১ জনের মৃত্যু নিশ্চিতভাবে হামজনিত। তিনি নিজেও ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও মহাখালী সংক্রামক রোগ হাসপাতালে হামের ওয়ার্ড পরিদর্শন করেছেন এবং একটি শিশুর মৃত্যুর পর আবেগাপ্লুত হয়েছেন বলেও জানান।
মন্ত্রী আরও বলেন, একটি পত্রিকার তথ্যের ওপর নির্ভর না করে তথ্য যাচাই করে বক্তব্য দেওয়ার আহ্বান জানান। মানুষের মধ্যে আতঙ্ক নয়, সচেতনতা তৈরি করাই সরকারের লক্ষ্য বলে উল্লেখ করেন তিনি।
টিকার মজুদ প্রসঙ্গে তিনি জানান, সরকার শূন্য অবস্থা থেকে সরবরাহ পুনর্গঠন করছে। ইতোমধ্যে ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ অনুমোদন হয়েছে এবং ইউনিসেফের মাধ্যমে সরাসরি টিকা সংগ্রহ করা হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ ও বিশ্বব্যাংক এ বিষয়ে সহযোগিতা করছে বলেও জানান তিনি।
তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, মানুষকে আতঙ্কিত না করে সচেতন করাই সরকারের দায়িত্ব।





















