Dhaka ০৮:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
দেশের কল্যাণে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কাজ করা মানুষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ : প্রধানমন্ত্রী নিরাপদ অভিবাসন ও মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থান নিশ্চিতের আহ্বান রাষ্ট্রপতির গাজীপুরে ওষুধ কারখানার আগুন ৪ ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে পোরশায় হাতুড়ে চিকিৎসক দিয়ে সিজার, নবজাতকের মৃত্যু : ক্লিনিক মালিকসহ গ্রেপ্তার ৪ ঝিনাইদহে দুই সন্তানের জননীর আত্মহত্যা কালুখালীর শিকজান বাজারে ১৫ টাকা কেজি দরে চাল বিতরণ দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে উদযাপনে পুলিশের পরামর্শ ২৬ অক্টোবর থেকে কক্সবাজার যাবে মহানগর এক্সপ্রেস, থামবে যেসব স্টেশনে আ. লীগের সঙ্গে বৈঠক: সারজিসকে বহিষ্কার, হাসনাতকে শোকজ করেন নাহিদ মোবাইল ফোনে গেম খেলার সময় বিস্ফোরণ, আহত ২

মাংস দেওয়ার নামে ৭৭ লাখ টাকা নিয়ে উধাও সমিতি

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ১২:৪৭:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬
  • / 134

ঈদকে সামনে রেখে মাংস দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সারা বছর কিস্তিতে টাকা জমা নিয়ে প্রায় ৭৭ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে উধাও হয়ে গেছে একটি সমবায় সমিতির পরিচালকরা। ঘটনাটি ঘটেছে বগুড়া শহর-এর মালগ্রাম চাপড়পাড়া এলাকায়।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) নির্ধারিত দিনে মাংস নিতে এসে প্রতারণার বিষয়টি জানতে পারেন ভুক্তভোগীরা। এতে প্রায় ১২০০ পরিবারের সদস্যদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মালগ্রাম নতুনপাড়া এলাকার আব্দুল হাকিম, আকরাম ও শাহিন নামের তিন ব্যক্তি ‘ফোর স্টার বিজনেস সমবায় সমিতি’ নামে একটি সংগঠন গড়ে তোলেন। তারা ঈদ উপলক্ষে সারা বছর সাপ্তাহিক কিস্তিতে টাকা জমা নিয়ে শেষে মাংস দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

সমিতির সদস্যদের দাবি, প্রতি কার্ডের মূল্য ছিল ৫ হাজার টাকা। অনেক পরিবার একাধিক কার্ড নেওয়ায় মোট প্রায় ৭৭ লাখ টাকা জমা পড়ে। তবে নির্ধারিত ১৫ মার্চ মাংস বিতরণ না করে তা পিছিয়ে ১৭ মার্চ করা হলেও সেদিনও কোনো কর্তৃপক্ষকে পাওয়া যায়নি।

চাপড়পাড়া এলাকার বাসিন্দা পারুল বলেন, অনেক কষ্ট করে প্রতি সপ্তাহে অল্প অল্প করে টাকা জমা দিয়েছিলেন, যাতে ঈদে পরিবার নিয়ে ভালোভাবে কাটাতে পারেন। কিন্তু এখন সবই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

অন্য ভুক্তভোগী আখলি বেগম জানান, ১০ থেকে ১২ কেজি মাংস পাওয়ার আশা ছিল। কিন্তু এখন শুনছেন তারা পালিয়ে গেছে, ফলে ঈদে মাংস খাওয়া নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ঘটনার পর সমিতির কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। তাদের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে স্টেডিয়াম ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক কামরুজ্জামান জানান, ভুক্তভোগীদের থানায় অভিযোগ দায়েরের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভুক্তভোগীরা দ্রুত তাদের সঞ্চিত অর্থ ফেরত দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এবং প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

মাংস দেওয়ার নামে ৭৭ লাখ টাকা নিয়ে উধাও সমিতি

প্রকাশের সময় : ১২:৪৭:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬

ঈদকে সামনে রেখে মাংস দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সারা বছর কিস্তিতে টাকা জমা নিয়ে প্রায় ৭৭ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে উধাও হয়ে গেছে একটি সমবায় সমিতির পরিচালকরা। ঘটনাটি ঘটেছে বগুড়া শহর-এর মালগ্রাম চাপড়পাড়া এলাকায়।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) নির্ধারিত দিনে মাংস নিতে এসে প্রতারণার বিষয়টি জানতে পারেন ভুক্তভোগীরা। এতে প্রায় ১২০০ পরিবারের সদস্যদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মালগ্রাম নতুনপাড়া এলাকার আব্দুল হাকিম, আকরাম ও শাহিন নামের তিন ব্যক্তি ‘ফোর স্টার বিজনেস সমবায় সমিতি’ নামে একটি সংগঠন গড়ে তোলেন। তারা ঈদ উপলক্ষে সারা বছর সাপ্তাহিক কিস্তিতে টাকা জমা নিয়ে শেষে মাংস দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

সমিতির সদস্যদের দাবি, প্রতি কার্ডের মূল্য ছিল ৫ হাজার টাকা। অনেক পরিবার একাধিক কার্ড নেওয়ায় মোট প্রায় ৭৭ লাখ টাকা জমা পড়ে। তবে নির্ধারিত ১৫ মার্চ মাংস বিতরণ না করে তা পিছিয়ে ১৭ মার্চ করা হলেও সেদিনও কোনো কর্তৃপক্ষকে পাওয়া যায়নি।

চাপড়পাড়া এলাকার বাসিন্দা পারুল বলেন, অনেক কষ্ট করে প্রতি সপ্তাহে অল্প অল্প করে টাকা জমা দিয়েছিলেন, যাতে ঈদে পরিবার নিয়ে ভালোভাবে কাটাতে পারেন। কিন্তু এখন সবই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

অন্য ভুক্তভোগী আখলি বেগম জানান, ১০ থেকে ১২ কেজি মাংস পাওয়ার আশা ছিল। কিন্তু এখন শুনছেন তারা পালিয়ে গেছে, ফলে ঈদে মাংস খাওয়া নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ঘটনার পর সমিতির কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। তাদের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে স্টেডিয়াম ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক কামরুজ্জামান জানান, ভুক্তভোগীদের থানায় অভিযোগ দায়েরের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভুক্তভোগীরা দ্রুত তাদের সঞ্চিত অর্থ ফেরত দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এবং প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।