Dhaka ১১:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
ন্যাশনাল ব্যাংককে ৭ হাজার কোটি টাকার তারল্য সহায়তা সোনালী ব্যাংকের জুরাইনে বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিনের দাফন সম্পন্ন ফেব্রুয়ারিতে পদ্মা ব্যারাজ উদ্বোধনের আশা সংসদীয় কমিটির মালয়েশিয়ায় চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরলেন মির্জা আব্বাস কালীগঞ্জে জামায়াতের কর্মী সমাবেশ অনুষ্ঠিত কালীগঞ্জে ভোক্তা অধিকারের অভিযান, ৪ প্রতিষ্ঠানকে ২৬ হাজার টাকা জরিমানা দেশের কল্যাণে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কাজ করা মানুষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ : প্রধানমন্ত্রী নিরাপদ অভিবাসন ও মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থান নিশ্চিতের আহ্বান রাষ্ট্রপতির গাজীপুরে ওষুধ কারখানার আগুন ৪ ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে পোরশায় হাতুড়ে চিকিৎসক দিয়ে সিজার, নবজাতকের মৃত্যু : ক্লিনিক মালিকসহ গ্রেপ্তার ৪

মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা মামলার আসামি হলেন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়ক

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : ০২:৩৫:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬
  • / 303

বীর মুক্তিযোদ্ধা হত্যা মামলার আসামি আবুল কালাম দাড়িয়াকে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের নবগঠিত কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি জানাজানি হলে উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

ক্ষুব্ধ মুক্তিযোদ্ধারা দ্রুত সময়ের মধ্যে এই কমিটি ভেঙে দিয়ে হত্যা মামলার রায় দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন।

সম্প্রতি কোটালীপাড়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। এতে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম দাড়িয়াকে আহ্বায়ক করা হয়েছে। তিনি ১৯৭৩ সালের ১১ মার্চ দায়ের করা চার মুক্তিযোদ্ধা হত্যা মামলার ৩ নম্বর আসামি।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা হেমায়েত উদ্দিন (বীর বিক্রম), ফারুকুজ্জামান সরদার, মীর দেলোয়ার হোসেন, আবুল হাসেম দাড়িয়া, মোহন সরদার, মিলন সরদার, মোজাম সরদার, কুটিমিয়া সরদার, সামচুল হক মিয়া, নজির আহমেদ, ফজর আলী, আবুল হোসেন, নোয়াবালী মিয়া, জিল্লুর মোল্লা, ফুরু মিয়া, ফরমান আলী, মোতালেব মোল্লা, আবু বক্কর, মুজিবুর রহমান, মকবুল দাড়িয়া, লিয়াকত হোসেন ও ইয়াকুব আলী (ইকুব)। তাদের মধ্যে ২৩ জনের মধ্যে ২০ জন মারা গেছেন। বর্তমানে জীবিত রয়েছেন ২ নম্বর আসামি ফারুকুজ্জামান সরদার, ৩ নম্বর আসামি আবুল কালাম দাড়িয়া এবং ৭ নম্বর আসামি মিলন সরদার।

মামলাটি দায়ের করেন কমলেশ বেদজ্ঞের রাজনৈতিক সহযোদ্ধা লুৎফর রহমান গঞ্জর। বর্তমানে মামলাটি বাদী পরিবর্তন হয়ে দ্রুত বিচার আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। এখন বাদী হিসেবে বিচারপ্রার্থী হয়ে মামলাটি পরিচালনা করছেন কমলেশ বেদজ্ঞের মেয়ে সুতপা বেদজ্ঞ।

সুতপা বেদজ্ঞ বলেন, তার পিতা কমলেশ বেদজ্ঞ কমিউনিস্ট পার্টির নেতা ছিলেন। ১৯৭৩ সালের ১০ মার্চ কোটালীপাড়ায় জনসভা শেষে নৌকাযোগে গোপালগঞ্জ শহরে ফেরার পথে টুপরিয়া এলাকায় পৌঁছালে হেমায়েত উদ্দিনের নেতৃত্বে আসামিরা তার পিতাসহ ওয়ালিউর রহমান লেবু, বিষ্ণুপদ কর্মকার ও রামপ্রসাদ চক্রবর্তী মানিককে হত্যা করেন। পরদিন ১১ মার্চ কোটালীপাড়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। দীর্ঘ ৫৩ বছরেও তারা বিচার পাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে একজন হত্যা মামলার আসামিকে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়ক করায় তিনি লজ্জাবোধ করছেন। দ্রুত কমিটি ভেঙে দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মান্নান শেখ বলেন, তাদের না জানিয়ে একজন বিতর্কিত ব্যক্তিকে আহ্বায়ক করে কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা নতুন করে আহ্বায়ক কমিটি গঠনের দাবি জানান।

এ বিষয়ে আবুল কালাম দাড়িয়া বলেন, রাতের আধারে কমিটি গঠনের অভিযোগ সঠিক নয়। সকল সদস্যের মতামতের ভিত্তিতেই আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, ১৯৭৩ সালের ১০ মার্চের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তিনি জড়িত ছিলেন না এবং শত্রুতাবশত তাকে আসামি করা হয়েছিল।

জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়ক ফিরোজ খান বলেন, বেশ কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধার উপস্থিতিতে উপজেলা আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে আহ্বায়ক যে হত্যা মামলার আসামি—এ তথ্য তার জানা ছিল না। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা মামলার আসামি হলেন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়ক

প্রকাশের সময় : ০২:৩৫:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬

বীর মুক্তিযোদ্ধা হত্যা মামলার আসামি আবুল কালাম দাড়িয়াকে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের নবগঠিত কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি জানাজানি হলে উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

ক্ষুব্ধ মুক্তিযোদ্ধারা দ্রুত সময়ের মধ্যে এই কমিটি ভেঙে দিয়ে হত্যা মামলার রায় দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন।

সম্প্রতি কোটালীপাড়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। এতে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম দাড়িয়াকে আহ্বায়ক করা হয়েছে। তিনি ১৯৭৩ সালের ১১ মার্চ দায়ের করা চার মুক্তিযোদ্ধা হত্যা মামলার ৩ নম্বর আসামি।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা হেমায়েত উদ্দিন (বীর বিক্রম), ফারুকুজ্জামান সরদার, মীর দেলোয়ার হোসেন, আবুল হাসেম দাড়িয়া, মোহন সরদার, মিলন সরদার, মোজাম সরদার, কুটিমিয়া সরদার, সামচুল হক মিয়া, নজির আহমেদ, ফজর আলী, আবুল হোসেন, নোয়াবালী মিয়া, জিল্লুর মোল্লা, ফুরু মিয়া, ফরমান আলী, মোতালেব মোল্লা, আবু বক্কর, মুজিবুর রহমান, মকবুল দাড়িয়া, লিয়াকত হোসেন ও ইয়াকুব আলী (ইকুব)। তাদের মধ্যে ২৩ জনের মধ্যে ২০ জন মারা গেছেন। বর্তমানে জীবিত রয়েছেন ২ নম্বর আসামি ফারুকুজ্জামান সরদার, ৩ নম্বর আসামি আবুল কালাম দাড়িয়া এবং ৭ নম্বর আসামি মিলন সরদার।

মামলাটি দায়ের করেন কমলেশ বেদজ্ঞের রাজনৈতিক সহযোদ্ধা লুৎফর রহমান গঞ্জর। বর্তমানে মামলাটি বাদী পরিবর্তন হয়ে দ্রুত বিচার আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। এখন বাদী হিসেবে বিচারপ্রার্থী হয়ে মামলাটি পরিচালনা করছেন কমলেশ বেদজ্ঞের মেয়ে সুতপা বেদজ্ঞ।

সুতপা বেদজ্ঞ বলেন, তার পিতা কমলেশ বেদজ্ঞ কমিউনিস্ট পার্টির নেতা ছিলেন। ১৯৭৩ সালের ১০ মার্চ কোটালীপাড়ায় জনসভা শেষে নৌকাযোগে গোপালগঞ্জ শহরে ফেরার পথে টুপরিয়া এলাকায় পৌঁছালে হেমায়েত উদ্দিনের নেতৃত্বে আসামিরা তার পিতাসহ ওয়ালিউর রহমান লেবু, বিষ্ণুপদ কর্মকার ও রামপ্রসাদ চক্রবর্তী মানিককে হত্যা করেন। পরদিন ১১ মার্চ কোটালীপাড়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। দীর্ঘ ৫৩ বছরেও তারা বিচার পাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে একজন হত্যা মামলার আসামিকে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়ক করায় তিনি লজ্জাবোধ করছেন। দ্রুত কমিটি ভেঙে দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মান্নান শেখ বলেন, তাদের না জানিয়ে একজন বিতর্কিত ব্যক্তিকে আহ্বায়ক করে কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা নতুন করে আহ্বায়ক কমিটি গঠনের দাবি জানান।

এ বিষয়ে আবুল কালাম দাড়িয়া বলেন, রাতের আধারে কমিটি গঠনের অভিযোগ সঠিক নয়। সকল সদস্যের মতামতের ভিত্তিতেই আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, ১৯৭৩ সালের ১০ মার্চের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তিনি জড়িত ছিলেন না এবং শত্রুতাবশত তাকে আসামি করা হয়েছিল।

জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়ক ফিরোজ খান বলেন, বেশ কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধার উপস্থিতিতে উপজেলা আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে আহ্বায়ক যে হত্যা মামলার আসামি—এ তথ্য তার জানা ছিল না। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।