Dhaka ০৪:৫২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
মমত্ববোধ দিয়ে দেশ গড়ার আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নতুন বিমান সচিব নূরুন্নাহার চৌধুরী নতুন প্রজন্মের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে উদ্যোগ নেয়ার নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর ন্যাশনাল ব্যাংককে ৭ হাজার কোটি টাকার তারল্য সহায়তা সোনালী ব্যাংকের জুরাইনে বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিনের দাফন সম্পন্ন ফেব্রুয়ারিতে পদ্মা ব্যারাজ উদ্বোধনের আশা সংসদীয় কমিটির মালয়েশিয়ায় চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরলেন মির্জা আব্বাস কালীগঞ্জে জামায়াতের কর্মী সমাবেশ অনুষ্ঠিত কালীগঞ্জে ভোক্তা অধিকারের অভিযান, ৪ প্রতিষ্ঠানকে ২৬ হাজার টাকা জরিমানা দেশের কল্যাণে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কাজ করা মানুষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ : প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় এআই নীতিমালার খসড়া প্রকাশ

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ১০:৩২:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 199

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পর্যালোচনা ও মতামতের জন্য বাংলাদেশ জাতীয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নীতিমালার (২০২৬–২০৩০) খসড়া প্রকাশ করেছে।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) তথ্য অধিদপ্তরের এক বিবরণীতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিবরণীতে বলা হয়, দেশে নিরাপদ, নৈতিক ও উদ্ভাবন-কেন্দ্রিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। খসড়া নীতিমালার ওপর নাগরিক, সংশ্লিষ্ট শিল্পের স্টেকহোল্ডার, সুশীল সমাজ, শিক্ষাবিদসহ সব আগ্রহী পক্ষকে মতামত জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

তথ্য অধিদপ্তর জানায়, নতুন জাতীয় এআই নীতিমালা বাংলাদেশের ডিজিটাল নীতির ক্ষেত্রে একটি মৌলিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। পূর্ববর্তী এআই নীতিমালা ছিল মূলত সেবামুখী; নতুন কাঠামোটি দায়িত্বশীল এআই উন্নয়ন ও প্রয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় ভিত্তিগত চাহিদাকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রণয়ন করা হয়েছে।

এই নীতিমালা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা কাঠামো প্রতিষ্ঠা এবং ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫ কার্যকরের উদ্যোগের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। এসব পদক্ষেপ নিরাপদ ও ন্যায়সংগত এআই উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রযুক্তিগত অবকাঠামো নিশ্চিত করবে।

নীতিমালায় জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর আলোকে সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে নিরাপদ উপাত্ত আদান–প্রদানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে নাগরিকদের গোপনীয়তা সুরক্ষা ও গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় উপাত্ত সম্পদের ওপর ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এতে মানবাধিকার, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাকে অপরিহার্য মূলনীতি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এআই সিস্টেমের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক অ্যালগরিদমিক ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট বা প্রভাব যাচাইয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে এবং বৈষম্য রোধে সুনির্দিষ্ট সুরক্ষার বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। স্তরভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর মাধ্যমে সোশ্যাল স্কোরিং ও গণনজরদারির মতো অগ্রহণযোগ্য এআই ব্যবহারে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি আইন প্রয়োগ, স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান ও জনসেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে উচ্চ ঝুঁকির এআই ব্যবহারে প্রয়োজনীয় সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করার নির্দেশনা রয়েছে।

ডিপফেক, এআই–সৃষ্ট গুজব ও অপতথ্য, প্রযুক্তির মাধ্যমে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা এবং শিশু শোষণের মতো অপরাধ মোকাবিলায় জোরালো পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে, যা সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করতে ‘এআই ইনোভেশন ফান্ড’ গঠন এবং নিরাপদ পরীক্ষানিরীক্ষার জন্য ‘রেগুলেটরি স্যান্ডবক্স’ তৈরির প্রস্তাব রাখা হয়েছে। পাশাপাশি দক্ষ ও এআই-বান্ধব জনশক্তি গড়ে তুলতে মাধ্যমিক, উচ্চশিক্ষা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠ্যক্রমে এআই শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগের কথা বলা হয়েছে।

নীতিমালায় একটি নৈতিক ও উদ্ভাবনী এআই পরিবেশ গড়ে তোলার রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে, যা বাংলাদেশের ডিজিটাল রূপান্তর এবং জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এতে জনসেবার আধুনিকায়ন, কৃষি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন, দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং মানসম্মত কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এআই ব্যবহারে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া এই নীতিমালা বাংলাদেশের এআই শাসনব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক কাঠামোর সঙ্গে সংযুক্ত করবে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পর্যায়ে দায়িত্বশীল ও প্রতিযোগিতামূলক এআই অংশীদার হিসেবে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করতে পারবে বলে বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

জাতীয় এআই নীতিমালার খসড়া প্রকাশ

প্রকাশের সময় : ১০:৩২:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পর্যালোচনা ও মতামতের জন্য বাংলাদেশ জাতীয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নীতিমালার (২০২৬–২০৩০) খসড়া প্রকাশ করেছে।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) তথ্য অধিদপ্তরের এক বিবরণীতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিবরণীতে বলা হয়, দেশে নিরাপদ, নৈতিক ও উদ্ভাবন-কেন্দ্রিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। খসড়া নীতিমালার ওপর নাগরিক, সংশ্লিষ্ট শিল্পের স্টেকহোল্ডার, সুশীল সমাজ, শিক্ষাবিদসহ সব আগ্রহী পক্ষকে মতামত জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

তথ্য অধিদপ্তর জানায়, নতুন জাতীয় এআই নীতিমালা বাংলাদেশের ডিজিটাল নীতির ক্ষেত্রে একটি মৌলিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। পূর্ববর্তী এআই নীতিমালা ছিল মূলত সেবামুখী; নতুন কাঠামোটি দায়িত্বশীল এআই উন্নয়ন ও প্রয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় ভিত্তিগত চাহিদাকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রণয়ন করা হয়েছে।

এই নীতিমালা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা কাঠামো প্রতিষ্ঠা এবং ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫ কার্যকরের উদ্যোগের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। এসব পদক্ষেপ নিরাপদ ও ন্যায়সংগত এআই উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রযুক্তিগত অবকাঠামো নিশ্চিত করবে।

নীতিমালায় জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর আলোকে সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে নিরাপদ উপাত্ত আদান–প্রদানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে নাগরিকদের গোপনীয়তা সুরক্ষা ও গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় উপাত্ত সম্পদের ওপর ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এতে মানবাধিকার, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাকে অপরিহার্য মূলনীতি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এআই সিস্টেমের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক অ্যালগরিদমিক ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট বা প্রভাব যাচাইয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে এবং বৈষম্য রোধে সুনির্দিষ্ট সুরক্ষার বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। স্তরভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর মাধ্যমে সোশ্যাল স্কোরিং ও গণনজরদারির মতো অগ্রহণযোগ্য এআই ব্যবহারে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি আইন প্রয়োগ, স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান ও জনসেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে উচ্চ ঝুঁকির এআই ব্যবহারে প্রয়োজনীয় সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করার নির্দেশনা রয়েছে।

ডিপফেক, এআই–সৃষ্ট গুজব ও অপতথ্য, প্রযুক্তির মাধ্যমে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা এবং শিশু শোষণের মতো অপরাধ মোকাবিলায় জোরালো পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে, যা সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করতে ‘এআই ইনোভেশন ফান্ড’ গঠন এবং নিরাপদ পরীক্ষানিরীক্ষার জন্য ‘রেগুলেটরি স্যান্ডবক্স’ তৈরির প্রস্তাব রাখা হয়েছে। পাশাপাশি দক্ষ ও এআই-বান্ধব জনশক্তি গড়ে তুলতে মাধ্যমিক, উচ্চশিক্ষা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠ্যক্রমে এআই শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগের কথা বলা হয়েছে।

নীতিমালায় একটি নৈতিক ও উদ্ভাবনী এআই পরিবেশ গড়ে তোলার রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে, যা বাংলাদেশের ডিজিটাল রূপান্তর এবং জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এতে জনসেবার আধুনিকায়ন, কৃষি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন, দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং মানসম্মত কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এআই ব্যবহারে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া এই নীতিমালা বাংলাদেশের এআই শাসনব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক কাঠামোর সঙ্গে সংযুক্ত করবে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পর্যায়ে দায়িত্বশীল ও প্রতিযোগিতামূলক এআই অংশীদার হিসেবে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করতে পারবে বলে বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়।