একীভূত ৫ ব্যাংকের আমানতকারীরা দুই বছরের মুনাফা পাবেন না
- প্রকাশের সময় : ১০:০২:৩০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬
- / 210
একীভূত হওয়ার প্রক্রিয়ায় থাকা পাঁচটি ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীরা ২০২৪ ও ২০২৫ সালের জন্য তাদের জমাকৃত আমানতের ওপর কোনো মুনাফা পাবেন না। আন্তর্জাতিক ব্যাংক একীভূতকরণ নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশ ব্যাংক আমানতের ওপর দুই বছরের মুনাফা ‘হেয়ারকাট’ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে নির্ধারিত সময়ের মুনাফা বাদ দিয়েই আমানতের চূড়ান্ত স্থিতি নির্ধারণ করা হবে।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দিয়ে পাঁচটি ব্যাংকের প্রশাসকদের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। একই সঙ্গে ব্যাংকগুলোর সব আমানতকারীর হিসাব নতুন করে পুনর্গণনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ব্যাংক খাতে চলমান ‘ব্যাংক রেজুলেশন স্কিম’ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
যে পাঁচটি ব্যাংক একীভূত হচ্ছে সেগুলো হলো ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক। এসব ব্যাংক একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ নামে একটি নতুন ব্যাংক গঠন করা হয়েছে। একীভূতকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে ধাপে ধাপে পুরোনো পাঁচটি ব্যাংক বিলুপ্ত হয়ে যাবে এবং তাদের দায়, সম্পদ ও জনবল নবগঠিত ব্যাংকের অধীনে চলে যাবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, ১ জানুয়ারি ২০২৪ থেকে ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত সময়ের জন্য আমানতের ওপর কোনো মুনাফা গণনা করা হবে না। নির্ধারিত হেয়ারকাট প্রয়োগ করে আমানতের স্থিতি পুনর্গণনা করতে হবে এবং দ্রুত এই প্রক্রিয়া শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা জানান, এই দুই বছরের মুনাফা বাদ দিয়েই সব আমানতকারীর হিসাব চূড়ান্ত করা হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক ঘোষিত রেজুলেশন স্কিম অনুযায়ী, নবগঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধন নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে পরিশোধিত মূলধন হবে ৩৫ হাজার কোটি টাকা। সরকার ইতোমধ্যে ২০ হাজার কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধন হিসেবে সরবরাহ করেছে, যা ‘ক’ শ্রেণির শেয়ার হিসেবে বিবেচিত হবে।
স্কিমে আরও বলা হয়েছে, পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারী ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্থায়ী আমানতের একটি অংশ থেকে সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকা এবং অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক আমানতকারীদের স্থায়ী আমানতের অংশ থেকে আরও সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকা শেয়ারে রূপান্তর করা হবে। এসব শেয়ার যথাক্রমে ‘খ’ ও ‘গ’ শ্রেণির শেয়ার হিসেবে গণ্য হবে।
এ ছাড়া স্কিম অনুযায়ী, পাঁচ ব্যাংকের ২ লাখ টাকা পর্যন্ত আমানত একীভূতকরণ কার্যকর হওয়ার পর যে কোনো সময় উত্তোলনযোগ্য থাকবে। ২ লাখ টাকার বেশি আমানতের ক্ষেত্রে প্রতি তিন মাস পরপর ১ লাখ টাকা করে উত্তোলন করা যাবে, যার সর্বোচ্চ সময়সীমা হবে দুই বছর। প্রাতিষ্ঠানিক আমানতকারীদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা ও ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতেই এই রেজুলেশন স্কিম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।





















