বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ভর্তিতে ‘না’ যুক্তরাজ্যের ৯ বিশ্ববিদ্যালয়ে
- প্রকাশের সময় : ১১:৪৭:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২৫
- / 78
যুক্তরাজ্যের বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশি ও পাকিস্তানি শিক্ষার্থীদের ভর্তি আবেদন বাতিল ও স্থগিত করা শুরু করেছে। যুক্তরাজ্যের নতুন কঠোর ভিসা নীতি কার্যকর হওয়ার পর ভিসা অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ থেকেই তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ব্রিটিশ মাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমস এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, অন্তত ৯টি বিশ্ববিদ্যালয় উচ্চঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান থেকে শিক্ষার্থী ভর্তিতে বিধিনিষেধ জারি করেছে। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর প্রকৃত শিক্ষার্থী ভর্তি নিশ্চিত করার চাপ বাড়ায় তারা সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।
তালিকায় রয়েছে—উলভারহ্যাম্পটন ইউনিভার্সিটি, সান্ডারল্যান্ড ইউনিভার্সিটি, কভেন্ট্রি ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব ইস্ট লন্ডন, হার্টফোর্ডশায়ার ইউনিভার্সিটি, লন্ডন মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি, অক্সফোর্ড ব্রুকস ইউনিভার্সিটি, বিপিপি ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব চেস্টার এবং গ্লাসগো ক্যালেডোনিয়ান ইউনিভার্সিটি।
চেস্টার ইউনিভার্সিটি আগামী বছরের শরৎ পর্যন্ত পাকিস্তানি শিক্ষার্থীদের ভর্তি স্থগিত করেছে। উলভারহ্যাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, তারা বাংলাদেশ ও পাকিস্তান থেকে স্নাতক পর্যায়ের নতুন আবেদন গ্রহণ করছে না। ইস্ট লন্ডন ইউনিভার্সিটি পাকিস্তানি শিক্ষার্থীদের ভর্তি সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে।
সান্ডারল্যান্ড ও কভেন্ট্রি বিশ্ববিদ্যালয়ও বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের শিক্ষার্থী নিয়োগ স্থগিত করেছে। লন্ডন মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি জানিয়েছে, সাম্প্রতিক ভিসা বাতিলের মধ্যে ৬০ শতাংশই বাংলাদেশি হওয়ায় তারা বাংলাদেশ থেকে ভর্তি বন্ধ করেছে। হার্টফোর্ডশায়ার বিশ্ববিদ্যালয় আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দুই দেশের শিক্ষার্থী ভর্তিতে স্থগিতাদেশ দিয়েছে।
ফিন্যান্সিয়াল টাইমস জানায়, গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ২২ শতাংশ এবং পাকিস্তানি শিক্ষার্থীদের ১৮ শতাংশ ভিসা আবেদন বাতিল করা হয়েছে। একই সময়ে ২৩ হাজার ৩৬টি আবেদন নাকচের অর্ধেকই এসেছে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান থেকে। এছাড়া আশ্রয় প্রার্থনার আবেদনও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যাদের অধিকাংশই কাজ বা শিক্ষার্থী ভিসায় যুক্তরাজ্যে গিয়েছিলেন।
যুক্তরাজ্যের নতুন ভিসা কমপ্লায়েন্স নীতি অনুযায়ী, কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যানের হার ৫ শতাংশের বেশি হলে তাদের স্পনসর লাইসেন্স হ্রাস, ভর্তি স্থগিত কিংবা লাইসেন্স বাতিলের ঝুঁকি থাকে। এ কারণেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এখন বেশি সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।




















