গুগলে কনটেন্ট সরানোর অনুরোধ প্রসঙ্গে সরকারের ব্যাখ্যা
- প্রকাশের সময় : ১১:১৮:৪০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫
- / 76
গুগলে কনটেন্ট সরানোর অনুরোধ নিয়ে বিভিন্ন আলোচনার পর অন্তর্বর্তী সরকার অফিসিয়াল ব্যাখ্যা দিয়েছে। শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) রাতে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে সরকার জানায়, বিভ্রান্তিকর তথ্য, প্রোপাগান্ডা ও বেআইনি চরিত্রহননের বাইরে কোনো সংবাদমাধ্যম, সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্ট, ভিডিও বা রাজনৈতিক সমালোচনামূলক কনটেন্ট সরাতে তারা কখনোই গুগল বা অন্য কোনো প্ল্যাটফর্মকে অনুরোধ করেনি।
বিবৃতিতে বলা হয়, মানহানিকর বা ভুয়া তথ্যচালিত প্রচারণার বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির রিপোর্ট বিটিআরসিতে যায়। তবে বিটিআরসি বা এনটিএমসি—কোনো সংস্থারই সরাসরি কনটেন্ট ডাউন করার ক্ষমতা নেই। ফলে যেকোনো অনুরোধ প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মকে জানাতে হয় এবং তারা নিজের নীতিমালা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেয়।
সরকার জানায়, গুগলের ট্রান্সপারেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী জানুয়ারি-জুন ২০২৫ সময়ে বাংলাদেশ থেকে মাত্র ২৭৯টি অনুরোধ গেছে। এটি পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের জুন-ডিসেম্বর ২০২২ সময়কার ৮৬৭ অনুরোধের এক-তৃতীয়াংশেরও কম। ২০২৪ সালের জুলাই-ডিসেম্বরে বাংলাদেশ মাত্র ১৫৩টি অনুরোধ পাঠিয়েছিল, যা আগের সর্বনিম্ন সংখ্যারও অর্ধেকের কম। এসব অনুরোধের প্রায় ৬৫ শতাংশ ‘Not enough information’ ক্যাটাগরিতে রয়েছে।
সরকার জানায়, জানুয়ারি-জুন ২০২৫ সময়ে দেশভেতর ও বাইরের মিসইনফরমেশন ক্যাম্পেইন, প্রতিবেশী দেশের মিডিয়ার প্রচারণা, সাম্প্রদায়িক উসকানি, অনলাইন সন্ত্রাসের আহ্বান এবং রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে নিরাপত্তাজনিত রিপোর্ট প্ল্যাটফর্মগুলোতে পাঠাতে হয়েছে। পাশাপাশি অনলাইন জুয়া ও গ্যাম্বলিং সংক্রান্ত কিছু কনটেন্ট অপসারণের অনুরোধও জানানো হয়েছিল।
বিবৃতিতে বলা হয়, দেশের সাইবার স্পেস নিরাপদ রাখা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষা সরকারের দৈনিক দায়িত্বের অংশ। এ কারণেই দায়িত্বশীলতার সঙ্গে প্ল্যাটফর্মগুলোকে রিপোর্ট করা হয়েছে।
সরকার সংবাদমাধ্যমের প্রতি অসন্তোষ জানিয়ে বলে, গুগলের রিপোর্ট প্রকাশের আগে সরকারের বক্তব্য বা ব্যাখ্যা নেয়া হয়নি। এতে বাস্তবতা আড়াল হয়ে গেছে এবং গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়ে খণ্ডিত সংবাদ প্রচারিত হয়েছে, যা দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার মানদণ্ড পূরণ করে না।
বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সূচকে বাংলাদেশের বাকস্বাধীনতা ও ইন্টারনেট স্বাধীনতার উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি স্বীকৃত হয়েছে। বিশেষ করে ফ্রিডম হাউসের Freedom on the Net 2025 রিপোর্টে বলা হয়েছে, ইন্টারনেট স্বাধীনতায় এ বছর বাংলাদেশ বিশ্বে সর্বোচ্চ অগ্রগতি অর্জন করেছে। দেশের স্কোর ৪০ থেকে বেড়ে ৪৫–এ পৌঁছেছে, যা গত সাত বছরে সবচেয়ে বেশি উন্নতি।




















