রেমিট্যান্স বেড়েছে, জাল নোট-হুন্ডি রোধে সতর্কতা
- প্রকাশের সময় : ১২:৫৭:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৫
- / 96
সরকারের নানা উদ্যোগে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ বেড়েছে, যা দেশের অর্থনীতিতে নতুন আশার আলো জ্বালিয়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে রেমিট্যান্স এসেছে ১০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি, যা গত অর্থবছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। এতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।
তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে মাথাচাড়া দিচ্ছে হুন্ডি ও জাল নোটের আশঙ্কা। সম্প্রতি হুন্ডি চক্রের সক্রিয়তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে, যা বৈধ পথে রেমিট্যান্স প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। বাংলাদেশ ব্যাংক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি গভীরভাবে মনিটর করছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্বাচনের সময় টাকার প্রবাহ বাড়ে—এ সুযোগে হুন্ডি ব্যবসায়ীরা সক্রিয় হয়। এতে বৈধ অর্থনৈতিক চ্যানেল দুর্বল হওয়ার ঝুঁকি থাকে। পাশাপাশি নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে জাল নোট বাজারে ছড়ানোর আশঙ্কাও রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে হুন্ডি ও জাল নোট রোধে কঠোর মনিটরিং শুরু করেছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে এক যৌথ বৈঠকে এসব অপরাধ দমন ও বৈধ লেনদেন বাড়ানোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে রেমিট্যান্স এসেছে জুলাইয়ে ২৪৭ কোটি ৭৮ লাখ ডলার, আগস্টে ২৪২ কোটি ১৯ লাখ, সেপ্টেম্বরে ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ এবং অক্টোবরে ২৫৬ কোটি ৩৪ লাখ ডলার। আগের অর্থবছরে মোট রেমিট্যান্স ছিল ৩০ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২৭ শতাংশ বেশি।
বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, ক্যাশলেস লেনদেন জাল নোট প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। তাই সীমান্ত ও নগর এলাকায় ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহার বাড়াতে প্রচার চালানো হচ্ছে।
অর্থনীতিবিদ এম হেলাল আহমেদ জনি বলেন, “নির্বাচনের আগে রেমিট্যান্স বাড়ে, কিন্তু বৈধ পথে প্রবাহ বজায় রাখতে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সমন্বিত পদক্ষেপ জরুরি। ব্যাংক ও খোলাবাজারে ডলারের দামের সমতা প্রবাসীদের বৈধ পথে অর্থ পাঠাতে উৎসাহিত করছে।”
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, “বাজারে বিপুল পরিমাণ জাল নোট ছড়িয়ে পড়বে—এমন আশঙ্কা বাস্তবসম্মত নয়। তবু সীমান্ত ও বাণিজ্যকেন্দ্রগুলোতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি হুন্ডি নিয়ন্ত্রণে প্রবাসীদের সচেতন করা ও ব্যাংকগুলোর ওপর কঠোর নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।”
কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রবাসী ও সাধারণ মানুষকে বড় লেনদেনে ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছে। ইনফরমাল বা হুন্ডি চ্যানেলে পাঠানো অর্থকে অবৈধ গণ্য করা হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে। একই সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় ক্যাশলেস লেনদেন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে জাল নোটের ঝুঁকি কমে এবং অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।























