Dhaka ১১:৩৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
নওগাঁ সীমান্তে ১১ বোতল ভারতীয় কিংডিল সিরাপ উদ্ধার জ্বালানি তেলের দামবৃদ্ধিতে বেড়েছে সবজির দাম ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে একদিনে যুক্তরাজ্যে ৭৮১ অভিবাসনপ্রত্যাশী রোহিঙ্গাদের জন্য ওআইসির সহায়তা চায় বাংলাদেশ জাতিসংঘে নেতানিয়াহুর ভাষণের প্রতিবাদ, অস্কারজয়ী অভিনেত্রীসহ গ্রেপ্তার ৩০ জাতিসংঘে বিরল ইতিহাস গড়লেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব দেখতে চায় বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার প্রতিবাদে পাংশায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ জাতিসংঘে খলিলুর রহমানের কার্যালয়ের ‘লিগ্যাল অফিসার’ হলেন জাইমা পাঁচ ডিজিটাল ব্যাংকের অনুমোদন

রোহিঙ্গাদের জন্য ওআইসির সহায়তা চায় বাংলাদেশ

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ১০:১০:২৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 6

আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) গাম্বিয়ার করা রোহিঙ্গা মামলার আইনি কার্যক্রম পরিচালনার তহবিলে সহায়তা এবং বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসন না হওয়া পর্যন্ত জীবনরক্ষাকারী মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখতে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) সদস্য দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে অনুষ্ঠিত ওআইসির পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বার্ষিক সমন্বয় সভায় এ আহ্বান জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। ঢাকায় পাওয়া এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সভায় হুমায়ুন কবির বলেন, গাম্বিয়ার করা আইসিজে মামলার আইনি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় তহবিলে সহযোগিতা করা জরুরি। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন না হওয়া পর্যন্ত তাদের জন্য জীবনরক্ষাকারী মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখতেও ওআইসি সদস্য দেশগুলোর সহযোগিতা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখনো জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে। তাদের দ্রুত ও নিরাপদ প্রত্যাবাসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে ওআইসি সদস্য দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

ওআইসির বৃহত্তর অগ্রাধিকারগুলোর প্রসঙ্গ তুলে ধরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাণিজ্য, বিনিয়োগ, যোগাযোগব্যবস্থা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ক্ষেত্রে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে আরও জোরালো সহযোগিতার আহ্বান জানান।

তিনি জানান, ২০২৪ সালে ওআইসি সদস্য দেশগুলোর মোট বাণিজ্যের মাত্র ২০ শতাংশ নিজেদের মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে, যা ২৫ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম। এ ক্ষেত্রে আন্তঃওআইসি বাণিজ্য বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

ডিজিটাল বৈষম্য কমাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান হুমায়ুন কবির।

তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির (আইইউটি) বাজেট ১৫ থেকে ২০ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ৬০ শতাংশ শিক্ষার্থী আন্তর্জাতিক বৃত্তি পেয়ে থাকে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

২০২৬ থেকে ২০৩৫ মেয়াদের প্রস্তাবিত ওআইসি কর্মপরিকল্পনার প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন জানিয়ে খাদ্য নিরাপত্তা, ডিজিটাল রূপান্তর, স্বাস্থ্য, বিজ্ঞান এবং ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের সঙ্গে সহযোগিতার ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের আহ্বান জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

মানবাধিকার, সহনশীলতা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান প্রতিষ্ঠায় ইসলামবিদ্বেষ পর্যবেক্ষণে ওআইসি অবজারভেটরির ভূমিকা আরও শক্তিশালী করার প্রতিও সমর্থন জানান তিনি।

এ ছাড়া ১৯৬৭ সালের আগের সীমানার ভিত্তিতে আল-কুদস আল-শরিফকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন হুমায়ুন কবির।

ওআইসির বর্তমান চেয়ার হিসেবে তুরস্কের নেতৃত্বের প্রশংসা করার পাশাপাশি পরবর্তী চেয়ার হিসেবে ইরাককে স্বাগত জানান তিনি।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

রোহিঙ্গাদের জন্য ওআইসির সহায়তা চায় বাংলাদেশ

প্রকাশের সময় : ১০:১০:২৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) গাম্বিয়ার করা রোহিঙ্গা মামলার আইনি কার্যক্রম পরিচালনার তহবিলে সহায়তা এবং বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসন না হওয়া পর্যন্ত জীবনরক্ষাকারী মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখতে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) সদস্য দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে অনুষ্ঠিত ওআইসির পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বার্ষিক সমন্বয় সভায় এ আহ্বান জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। ঢাকায় পাওয়া এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সভায় হুমায়ুন কবির বলেন, গাম্বিয়ার করা আইসিজে মামলার আইনি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় তহবিলে সহযোগিতা করা জরুরি। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন না হওয়া পর্যন্ত তাদের জন্য জীবনরক্ষাকারী মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখতেও ওআইসি সদস্য দেশগুলোর সহযোগিতা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখনো জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে। তাদের দ্রুত ও নিরাপদ প্রত্যাবাসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে ওআইসি সদস্য দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

ওআইসির বৃহত্তর অগ্রাধিকারগুলোর প্রসঙ্গ তুলে ধরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাণিজ্য, বিনিয়োগ, যোগাযোগব্যবস্থা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ক্ষেত্রে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে আরও জোরালো সহযোগিতার আহ্বান জানান।

তিনি জানান, ২০২৪ সালে ওআইসি সদস্য দেশগুলোর মোট বাণিজ্যের মাত্র ২০ শতাংশ নিজেদের মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে, যা ২৫ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম। এ ক্ষেত্রে আন্তঃওআইসি বাণিজ্য বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

ডিজিটাল বৈষম্য কমাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান হুমায়ুন কবির।

তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির (আইইউটি) বাজেট ১৫ থেকে ২০ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ৬০ শতাংশ শিক্ষার্থী আন্তর্জাতিক বৃত্তি পেয়ে থাকে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

২০২৬ থেকে ২০৩৫ মেয়াদের প্রস্তাবিত ওআইসি কর্মপরিকল্পনার প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন জানিয়ে খাদ্য নিরাপত্তা, ডিজিটাল রূপান্তর, স্বাস্থ্য, বিজ্ঞান এবং ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের সঙ্গে সহযোগিতার ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের আহ্বান জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

মানবাধিকার, সহনশীলতা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান প্রতিষ্ঠায় ইসলামবিদ্বেষ পর্যবেক্ষণে ওআইসি অবজারভেটরির ভূমিকা আরও শক্তিশালী করার প্রতিও সমর্থন জানান তিনি।

এ ছাড়া ১৯৬৭ সালের আগের সীমানার ভিত্তিতে আল-কুদস আল-শরিফকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন হুমায়ুন কবির।

ওআইসির বর্তমান চেয়ার হিসেবে তুরস্কের নেতৃত্বের প্রশংসা করার পাশাপাশি পরবর্তী চেয়ার হিসেবে ইরাককে স্বাগত জানান তিনি।