Dhaka ০৫:৪৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
সব নাগরিককে এক ডিজিটাল আইডির আওতায় আনতে চায় সরকার : রেহান আসিফ ৯ বছর পর মুক্তি মিলছে গাজীপুর সাফারি পার্কের দুই লেপার্ডের ডিআইজিসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন ২৪ কর্মকর্তাকে বদলি সবার জন্য সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করা অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের পূর্বশর্ত : রাষ্ট্রপতি কানাডার উৎসবে সেরা অভিনেত্রী তুষি, ‘রইদ’ পেল তিন পুরস্কার শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণে ভারতের রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকতে হবে : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী গুণী শিক্ষক হিসেবে সংবর্ধনা পাচ্ছেন আব্দুর রাজ্জাক একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে বাবার আহাজারি, ‘আমার বাচ্চা ফেরত দেন, আর কিছু চাই না’ এলপিজির দাম বাড়ল সাতদিন ধরে চলে ‘বরের মেলা’: সেজেগুজে থাকেন পাত্ররা, পছন্দ করে কিনে নেন কনেরা!

গোপালগঞ্জ বিদ্যুৎ অফিসে পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : ১২:০৮:১৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
  • / 94

 

গোপালগঞ্জে তীব্র লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবনে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। বাসাবাড়ি থেকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান- সবখানে তৈরি হয়েছে অচলাবস্থা। বিশেষ করে বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব পড়েছে জেলার অর্থনীতিতে।

এমন অবস্থায় নিরাপত্তা চেয়ে চিঠি দেওয়ার পর জনরোষে হামলার শঙ্কায় গোপালগঞ্জ বিদ্যুৎ অফিসে পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাত থেকে গোপালগঞ্জ ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো) কার্যালয় ও বিদ্যুৎ সঞ্চালন কেন্দ্রে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছেন পুলিশ সদস্যরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যুৎ অফিসে পুলিশ সদস্যরা অবস্থান করছেন। বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ায় যে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

গোপালগঞ্জ ওজোপাডিকো সূত্রে জানা গেছে, গোপালগঞ্জ পৌর এলাকায় ওজোপাডিকোর গ্রাহক রয়েছেন ৩০ হাজারেরও বেশি। গ্রাহক চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজন প্রায় ১৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। তবে জাতীয় গ্রিড থেকে বর্তমানে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৮ থেকে ১০ মেগাওয়াট। ফলে চাহিদার তুলনায় প্রায় অর্ধেক বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়ায় বাধ্য হয়ে ঘন ঘন লোডশেডিং হচ্ছে। এক ঘণ্টা পরপর লোডশেডিং হওয়ায় দিনে ১২ থেকে ১৫ বার পর্যন্ত বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছে বিদ্যুৎনির্ভর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান।

জানা গেছে, লোডশেডিংয়ে ব্যবহ হচ্ছে জনজীবন। বিদ্যুৎ না থাকায় ঠিকভাবে পড়াশোনা করতে পারছেন না শিক্ষার্থীরা। বিশেষ করে ফ্রিল্যান্সিং ও অনলাইনভিত্তিক পেশায় যুক্ত তরুণরা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না থাকায় কাজ চালিয়ে যেতে পারছেন না। ফলে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন তারা। তীব্র গরমে বিদ্যুৎ না থাকায় শিশু ও বয়স্কদের কষ্ট আরও বেড়েছে। রাতে একাধিকবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় স্বাভাবিক ঘুম ব্যাহত হচ্ছে। ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে।

অপর দিকে, লোডশেডিংয়ের কারণে গোপালগঞ্জ বিসিক শিল্প নগরীর ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প, বেকারিগুলো পণ্য উৎপাদন করতে পারছে না। এতে ব্যবসায়ীক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে তাদের।

ব্যবসায়ী মিলন সরকার বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় দোকানের স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে। ফ্রিজ, কম্পিউটারসহ কোনো যন্ত্র ঠিকমতো চালানো যাচ্ছে না। ঘন ঘন বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ায় ব্যবসায় ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।

প্রতিষ্ঠান মালিক মুরসালিন ভুঁইয়া বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশ কাজ বিদ্যুৎনির্ভর। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় কাজ বন্ধ রাখতে হচ্ছে। জেনারেটর চালাতে অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে। এভাবে চললে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়বে।

শিক্ষিকা লাবনী অধিকারী বলেন, তীব্র গরমের মধ্যে এক ঘণ্টা পরপর বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। বাসায় শিশু ও বয়স্ক মানুষ রয়েছে। বিদ্যুৎ না থাকলে প্রচণ্ড কষ্ট হয়। দ্রুত এই সমস্যার সমাধান করা দরকার।

ষাটোর্ধ্ব আরেক ভুক্তভোগী জমির হোসেন বলেন, দিনে কতবার বিদ্যুৎ যায় তার হিসাব নেই। কোনো কাজ ঠিকমতো করা যাচ্ছে না। গরমের মধ্যে মানুষের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে।

গোপালগঞ্জ ওজোপাডিকোর নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদার তুলনায় আমরা কম বিদ্যুৎ পাচ্ছি। গড়ে চাহিদার প্রায় অর্ধেক বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। এ কারণে বাধ্য হয়ে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।

নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি বলেন, বিদ্যুৎ না থাকলে অনেক সময় সাধারণ জনগণ ক্ষেপে গিয়ে বিদ্যুৎ অফিসে হামলা করতে পারে। সে আশঙ্কায় নিরাপত্তা জোরদারের জন্য পুলিশ সুপার বরাবর চিঠি দেওয়া হয়েছে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

গোপালগঞ্জ বিদ্যুৎ অফিসে পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার

প্রকাশের সময় : ১২:০৮:১৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

 

গোপালগঞ্জে তীব্র লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবনে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। বাসাবাড়ি থেকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান- সবখানে তৈরি হয়েছে অচলাবস্থা। বিশেষ করে বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব পড়েছে জেলার অর্থনীতিতে।

এমন অবস্থায় নিরাপত্তা চেয়ে চিঠি দেওয়ার পর জনরোষে হামলার শঙ্কায় গোপালগঞ্জ বিদ্যুৎ অফিসে পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাত থেকে গোপালগঞ্জ ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো) কার্যালয় ও বিদ্যুৎ সঞ্চালন কেন্দ্রে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছেন পুলিশ সদস্যরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যুৎ অফিসে পুলিশ সদস্যরা অবস্থান করছেন। বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ায় যে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

গোপালগঞ্জ ওজোপাডিকো সূত্রে জানা গেছে, গোপালগঞ্জ পৌর এলাকায় ওজোপাডিকোর গ্রাহক রয়েছেন ৩০ হাজারেরও বেশি। গ্রাহক চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজন প্রায় ১৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। তবে জাতীয় গ্রিড থেকে বর্তমানে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৮ থেকে ১০ মেগাওয়াট। ফলে চাহিদার তুলনায় প্রায় অর্ধেক বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়ায় বাধ্য হয়ে ঘন ঘন লোডশেডিং হচ্ছে। এক ঘণ্টা পরপর লোডশেডিং হওয়ায় দিনে ১২ থেকে ১৫ বার পর্যন্ত বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছে বিদ্যুৎনির্ভর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান।

জানা গেছে, লোডশেডিংয়ে ব্যবহ হচ্ছে জনজীবন। বিদ্যুৎ না থাকায় ঠিকভাবে পড়াশোনা করতে পারছেন না শিক্ষার্থীরা। বিশেষ করে ফ্রিল্যান্সিং ও অনলাইনভিত্তিক পেশায় যুক্ত তরুণরা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না থাকায় কাজ চালিয়ে যেতে পারছেন না। ফলে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন তারা। তীব্র গরমে বিদ্যুৎ না থাকায় শিশু ও বয়স্কদের কষ্ট আরও বেড়েছে। রাতে একাধিকবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় স্বাভাবিক ঘুম ব্যাহত হচ্ছে। ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে।

অপর দিকে, লোডশেডিংয়ের কারণে গোপালগঞ্জ বিসিক শিল্প নগরীর ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প, বেকারিগুলো পণ্য উৎপাদন করতে পারছে না। এতে ব্যবসায়ীক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে তাদের।

ব্যবসায়ী মিলন সরকার বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় দোকানের স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে। ফ্রিজ, কম্পিউটারসহ কোনো যন্ত্র ঠিকমতো চালানো যাচ্ছে না। ঘন ঘন বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ায় ব্যবসায় ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।

প্রতিষ্ঠান মালিক মুরসালিন ভুঁইয়া বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশ কাজ বিদ্যুৎনির্ভর। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় কাজ বন্ধ রাখতে হচ্ছে। জেনারেটর চালাতে অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে। এভাবে চললে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়বে।

শিক্ষিকা লাবনী অধিকারী বলেন, তীব্র গরমের মধ্যে এক ঘণ্টা পরপর বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। বাসায় শিশু ও বয়স্ক মানুষ রয়েছে। বিদ্যুৎ না থাকলে প্রচণ্ড কষ্ট হয়। দ্রুত এই সমস্যার সমাধান করা দরকার।

ষাটোর্ধ্ব আরেক ভুক্তভোগী জমির হোসেন বলেন, দিনে কতবার বিদ্যুৎ যায় তার হিসাব নেই। কোনো কাজ ঠিকমতো করা যাচ্ছে না। গরমের মধ্যে মানুষের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে।

গোপালগঞ্জ ওজোপাডিকোর নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদার তুলনায় আমরা কম বিদ্যুৎ পাচ্ছি। গড়ে চাহিদার প্রায় অর্ধেক বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। এ কারণে বাধ্য হয়ে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।

নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি বলেন, বিদ্যুৎ না থাকলে অনেক সময় সাধারণ জনগণ ক্ষেপে গিয়ে বিদ্যুৎ অফিসে হামলা করতে পারে। সে আশঙ্কায় নিরাপত্তা জোরদারের জন্য পুলিশ সুপার বরাবর চিঠি দেওয়া হয়েছে।