পাঠ্যবইয়ে জিয়াউর রহমানের নিবন্ধ ‘একটি জাতির জন্ম’ অন্তর্ভুক্তির পরামর্শ
- প্রকাশের সময় : ১২:৩৩:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬
- / 105
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বহুল আলোচিত নিবন্ধ ‘একটি জাতির জন্ম’ পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দিয়েছেন শিক্ষা ও ইতিহাসবিদসহ বিশিষ্টজনরা। তাদের মতে, এই নিবন্ধের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম মহান মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস সম্পর্কে সঠিক ধারণা লাভ করতে পারবে।
১৯৭২ সালে প্রথম স্বাধীনতা বার্ষিকী উপলক্ষে অধুনালুপ্ত ‘দৈনিক বাংলা’ পত্রিকায় নিবন্ধটি প্রকাশিত হয়। পরে ১৯৭৪ সালে স্বাধীনতা দিবসে ‘সাপ্তাহিক বিচিত্রা’য় এটি পুনর্মুদ্রণ করা হয়।
আগামীকাল ৩০ মে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর জীবন, মুক্তিযুদ্ধ ও জাতিগঠনে অবদান নিয়ে আলোচনা চলছে। এ সময় তাঁর ‘একটি জাতির জন্ম’ নিবন্ধটিকে মুক্তিযুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে পাঠ্যপুস্তকে যুক্ত করার দাবি উঠেছে।
বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক বলেন, এটি একটি চমৎকার লেখা এবং ঐতিহাসিক দলিল। তাই এটি পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।
ইতিহাসবিদ অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণের জন্য নিবন্ধটি পাঠ্যপুস্তকের অংশ হওয়া প্রয়োজন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী বলেন, নিবন্ধটিতে বিভ্রান্তিকর কিছু নেই এবং এটি বাংলাদেশ স্টাডিজ সম্পর্কিত বিষয়ে অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে।
ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইসরাফিল বলেন, নিবন্ধটিতে মুক্তিযুদ্ধের শুরুর পটভূমি চমৎকারভাবে তুলে ধরা হয়েছে। নতুন প্রজন্মের এই ইতিহাস জানা উচিত।
নিবন্ধে জিয়াউর রহমান ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪ সালের নির্বাচন, আইয়ুব খানের সামরিক শাসন, ১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধ, ষাটের দশকের জাতীয়তাবাদী আন্দোলন এবং ১৯৭০ সালের নির্বাচনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ঘটনার বর্ণনা দেন।
তিনি লেখেন, পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঢাকায় উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা ঘোষণা করার মধ্য দিয়েই বাঙালি জাতীয়তাবাদের বীজ বপন হয়েছিল।
নিবন্ধে আরও উল্লেখ করা হয়, ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ বাঙালিদের কাছে ‘গ্রিন সিগন্যাল’ হিসেবে এসেছিল। এরপর ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যা বাঙালিদের মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছে দেয়।
জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রথমে সেক্টর কমান্ডার এবং পরে ‘জেড ফোর্স’-এর নেতৃত্ব দেন। পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি হিসেবে বহুদলীয় গণতন্ত্র চালু এবং বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ধারণা প্রবর্তনের কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।





















