হাম সংক্রমণে ভয়াবহ পরিস্থিতি, বিশ্বে রেকর্ডের তালিকায় বাংলাদেশ
- প্রকাশের সময় : ০৫:৫৩:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬
- / 194
দেশে হামের সংক্রমণ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। গত আড়াই দশকের সব রেকর্ড ভেঙে চলতি বছরে হাম ও এর উপসর্গে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৫০ হাজার ছাড়িয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার পর্যন্ত দেশে সন্দেহভাজন হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫১ হাজার ৫৬৭ জনে। এর মধ্যে সাত হাজারের বেশি রোগীর শরীরে পরীক্ষাগারে হামের সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে।
আক্রান্তদের বড় একটি অংশ শিশু হওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে। সংক্রমণের পাশাপাশি বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যাও। গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ৪২৫ জনের। এর মধ্যে নিশ্চিত হাম রোগী ছিলেন ৬৮ জন।
জাতীয় টিকাদান-সংক্রান্ত কারিগরি উপদেষ্টা গ্রুপের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রাদুর্ভাব চলাকালে হামের উপসর্গ নিয়ে হওয়া মৃত্যুকেও হামজনিত মৃত্যু হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। গত এক দশকে এত কম সময়ে এত বেশি মৃত্যুর ঘটনা আর দেখা যায়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, গত ২৫ বছরে বাংলাদেশে কখনো এক বছরে ৫০ হাজার হাম রোগী শনাক্ত হয়নি। এর আগে ২০০৫ সালে সর্বোচ্চ ২৫ হাজার ৯৩৪ জন রোগী শনাক্ত হয়েছিল। এরপর কয়েক বছর সংক্রমণ কমলেও চলতি বছরের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন।
তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে যেখানে মাত্র ১৩২ জন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছিল, সেখানে এ বছর কয়েক মাসের মধ্যেই আক্রান্তের সংখ্যা কয়েকশ গুণ বেড়ে গেছে।
জনস্বাস্থ্যবিদরা বলছেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যার অনুপাতে বর্তমান সংক্রমণের হার বিশ্বের অনেক দেশের তুলনায় বেশি। এত অল্প সময়ে বিপুল সংখ্যক মানুষের আক্রান্ত হওয়া দেশের জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের সতর্ক সংকেত।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, গত বছরে পর্যাপ্ত টিকাদান না হওয়াই বর্তমান পরিস্থিতির অন্যতম প্রধান কারণ। পাশাপাশি শিশুদের পুষ্টিহীনতাও রোগের প্রকোপ বাড়িয়ে দিয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বছরে ৫০ হাজারের বেশি হাম রোগী শনাক্ত হওয়া দেশের তালিকায় বাংলাদেশ বর্তমানে পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে। এর আগে ভারত, ইউক্রেন, মাদাগাস্কার ও কঙ্গোর মতো দেশে এ ধরনের উচ্চ সংক্রমণ দেখা গিয়েছিল।
চিকিৎসকরা বলছেন, দ্রুত শিশুদের টিকার আওতায় আনা, আক্রান্তদের আলাদা রাখা এবং যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করা না গেলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। এ সংকট মোকাবিলায় সরকারের দ্রুত ও সমন্বিত পদক্ষেপ জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।




















