Dhaka ০৯:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
কানাডার উৎসবে সেরা অভিনেত্রী তুষি, ‘রইদ’ পেল তিন পুরস্কার শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণে ভারতের রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকতে হবে : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী গুণী শিক্ষক হিসেবে সংবর্ধনা পাচ্ছেন আব্দুর রাজ্জাক একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে বাবার আহাজারি, ‘আমার বাচ্চা ফেরত দেন, আর কিছু চাই না’ এলপিজির দাম বাড়ল সাতদিন ধরে চলে ‘বরের মেলা’: সেজেগুজে থাকেন পাত্ররা, পছন্দ করে কিনে নেন কনেরা! জান্তা বাহিনী ও আরাকান আর্মির সংঘাতের প্রভাব সরাসরি বাংলাদেশ সীমান্তে পড়ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আত্রাইয়ে মাদক, বাল্যবিবাহ ও সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় আখতারুজ্জামানকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ ২০৩০ সালের মধ্যে শীর্ষ ৩০ অর্থনীতির একটি হতে পারে বাংলাদেশ: ইইউ রাষ্ট্রদূত

ওয়াকফ সম্পত্তি আর লুটপাট করে খাওয়া যাবে না: ধর্মমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ১০:৫৮:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬
  • / 91

ওয়াকফ সম্পত্তির আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সরকার কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ। তিনি বলেন, ওয়াকফ সম্পত্তি আর ‘লুটপাট করে খাওয়া যাবে না’ এবং ওয়াকিফরা যে উদ্দেশ্যে সম্পত্তি দান করেছেন, সেই উদ্দেশ্যই বাস্তবায়ন করা হবে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে ধর্মমন্ত্রী বলেন, দেশে বর্তমানে প্রায় ৬ লাখ ১৪ হাজার ৫১৭ একর ওয়াকফ সম্পত্তি রয়েছে। এর মধ্যে ওয়াকফে আওলাদ শ্রেণির সম্পত্তি প্রায় ২ লাখ ১২ হাজার ৯৯ একর এবং ওয়াকফে লিল্লাহ শ্রেণির সম্পত্তি প্রায় ৩ লাখ ৭৭ হাজার ১২০ একর।

তিনি বলেন, বিপুল পরিমাণ এই সম্পত্তির বড় অংশ দীর্ঘদিন ধরে অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি ও প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণে বেহাল অবস্থায় রয়েছে। গত ১৭ বছরে সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা না হওয়ায় ওয়াকফ সম্পত্তির অবস্থা শোচনীয় হয়ে পড়েছে।

ধর্মমন্ত্রী বলেন, সরকার চায় ওয়াকিফরা যে উদ্দেশ্যে মসজিদ, মাদরাসা, এতিমখানা বা জনকল্যাণমূলক কাজে সম্পত্তি দান করে গেছেন, সেই লক্ষ্য যেন যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হয়। ওয়াকফ সম্পত্তি থেকে অর্জিত আয়ও যেন নির্ধারিত খাতেই ব্যয় হয়। এ ক্ষেত্রে দুর্নীতি, চুরি বা অন্যায়ের কোনো সুযোগ থাকবে না বলেও জানান তিনি।

ওয়াকফ সম্পত্তির ভাড়া বৈষম্যের উদাহরণ তুলে ধরে ধর্মমন্ত্রী বলেন, রাজধানীর গাউসিয়া মার্কেট একটি ওয়াকফ স্টেট। সেখানে ২২ দশমিক ৪০ বর্গফুটের ৫৮৮টি দোকান রয়েছে। অথচ এসব দোকানের মাসিক ভাড়া এখনো ১১২ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২ হাজার ১১৮ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ, যা আশপাশের বাজারদরের তুলনায় অত্যন্ত কম।

তিনি আরও বলেন, চকবাজার মসজিদ ওয়াকফে লিল্লাহর অধীন একটি দোকানের ভাড়া আগে ছিল ৩৫ হাজার টাকা। পরে ২০২৫ সালে ওই দোকানদারকে উচ্ছেদ করে নতুনভাবে দোকানটি ভাড়া দেয়া হলে মাসিক ভাড়া বেড়ে দাঁড়ায় ২ লাখ ৫২ হাজার টাকা। এতে বোঝা যায়, দীর্ঘদিন ধরে অনেক ওয়াকফ সম্পত্তি প্রকৃত বাজারমূল্যের তুলনায় অস্বাভাবিক কম ভাড়ায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

ধর্মমন্ত্রী বলেন, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় এমন অসংখ্য ওয়াকফ সম্পত্তি রয়েছে, যেগুলো থেকে যথাযথ আয় আদায় করা হচ্ছে না। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী এখন এসব সম্পত্তির ভাড়া বর্তমান বাজারদরের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে এবং ওয়াকফ সম্পত্তি থেকে কোনো ধরনের লুটপাট বা অনিয়ম বরদাশত করা হবে না।

মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রশাসকদের ইতিমধ্যে ভাড়া পুনর্নির্ধারণ ও সমন্বয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারের পদক্ষেপ সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে আগামী তিন মাসের মধ্যেই ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন ধর্মমন্ত্রী।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

ওয়াকফ সম্পত্তি আর লুটপাট করে খাওয়া যাবে না: ধর্মমন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ১০:৫৮:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

ওয়াকফ সম্পত্তির আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সরকার কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ। তিনি বলেন, ওয়াকফ সম্পত্তি আর ‘লুটপাট করে খাওয়া যাবে না’ এবং ওয়াকিফরা যে উদ্দেশ্যে সম্পত্তি দান করেছেন, সেই উদ্দেশ্যই বাস্তবায়ন করা হবে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে ধর্মমন্ত্রী বলেন, দেশে বর্তমানে প্রায় ৬ লাখ ১৪ হাজার ৫১৭ একর ওয়াকফ সম্পত্তি রয়েছে। এর মধ্যে ওয়াকফে আওলাদ শ্রেণির সম্পত্তি প্রায় ২ লাখ ১২ হাজার ৯৯ একর এবং ওয়াকফে লিল্লাহ শ্রেণির সম্পত্তি প্রায় ৩ লাখ ৭৭ হাজার ১২০ একর।

তিনি বলেন, বিপুল পরিমাণ এই সম্পত্তির বড় অংশ দীর্ঘদিন ধরে অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি ও প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণে বেহাল অবস্থায় রয়েছে। গত ১৭ বছরে সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা না হওয়ায় ওয়াকফ সম্পত্তির অবস্থা শোচনীয় হয়ে পড়েছে।

ধর্মমন্ত্রী বলেন, সরকার চায় ওয়াকিফরা যে উদ্দেশ্যে মসজিদ, মাদরাসা, এতিমখানা বা জনকল্যাণমূলক কাজে সম্পত্তি দান করে গেছেন, সেই লক্ষ্য যেন যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হয়। ওয়াকফ সম্পত্তি থেকে অর্জিত আয়ও যেন নির্ধারিত খাতেই ব্যয় হয়। এ ক্ষেত্রে দুর্নীতি, চুরি বা অন্যায়ের কোনো সুযোগ থাকবে না বলেও জানান তিনি।

ওয়াকফ সম্পত্তির ভাড়া বৈষম্যের উদাহরণ তুলে ধরে ধর্মমন্ত্রী বলেন, রাজধানীর গাউসিয়া মার্কেট একটি ওয়াকফ স্টেট। সেখানে ২২ দশমিক ৪০ বর্গফুটের ৫৮৮টি দোকান রয়েছে। অথচ এসব দোকানের মাসিক ভাড়া এখনো ১১২ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২ হাজার ১১৮ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ, যা আশপাশের বাজারদরের তুলনায় অত্যন্ত কম।

তিনি আরও বলেন, চকবাজার মসজিদ ওয়াকফে লিল্লাহর অধীন একটি দোকানের ভাড়া আগে ছিল ৩৫ হাজার টাকা। পরে ২০২৫ সালে ওই দোকানদারকে উচ্ছেদ করে নতুনভাবে দোকানটি ভাড়া দেয়া হলে মাসিক ভাড়া বেড়ে দাঁড়ায় ২ লাখ ৫২ হাজার টাকা। এতে বোঝা যায়, দীর্ঘদিন ধরে অনেক ওয়াকফ সম্পত্তি প্রকৃত বাজারমূল্যের তুলনায় অস্বাভাবিক কম ভাড়ায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

ধর্মমন্ত্রী বলেন, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় এমন অসংখ্য ওয়াকফ সম্পত্তি রয়েছে, যেগুলো থেকে যথাযথ আয় আদায় করা হচ্ছে না। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী এখন এসব সম্পত্তির ভাড়া বর্তমান বাজারদরের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে এবং ওয়াকফ সম্পত্তি থেকে কোনো ধরনের লুটপাট বা অনিয়ম বরদাশত করা হবে না।

মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রশাসকদের ইতিমধ্যে ভাড়া পুনর্নির্ধারণ ও সমন্বয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারের পদক্ষেপ সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে আগামী তিন মাসের মধ্যেই ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন ধর্মমন্ত্রী।