গোপালগঞ্জে হামের উপসর্গ নিয়ে ১০ মাসের শিশুর মৃত্যু, এলাকায় উদ্বেগ
- প্রকাশের সময় : ০৪:৫২:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬
- / 167
গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর উপজেলা-এ হামের উপসর্গ নিয়ে ১০ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় জেলা স্বাস্থ্য বিভাগও তৎপরতা শুরু করেছে।
জানা গেছে, উপজেলার টেংরাখোলা ইউনিয়নের হোগলাডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা তুহিন শেখের শিশুকন্যা গত ২৭ মার্চ ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।
শিশুটির মা নাজমা বেগম জানান, গত ১৯ মার্চ হঠাৎ জ্বর দেখা দিলে পরদিন শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। পরে শিশুটিকে মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসা দেওয়া হলেও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় স্থানীয় একটি ক্লিনিকে নেওয়া হয়। কিন্তু জ্বর ও শ্বাসকষ্ট বাড়তে থাকে এবং শরীরে হামের মতো ফুসকুড়ি দেখা দেয়।
পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হলে ২৬ মার্চ সকালে আবারও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা শিশুটির অবস্থা সংকটাপন্ন দেখে অক্সিজেন সাপোর্ট দেন এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখান থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হলে একটি বেসরকারি হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৭ মার্চ দুপুরে তার মৃত্যু হয়।
শিশুটির বাবা তুহিন শেখ বলেন, “সন্তানকে বাঁচাতে মুকসুদপুর থেকে ফরিদপুর হয়ে ঢাকায় নিয়ে গেছি। কিন্তু কোনো চিকিৎসাই তাকে বাঁচাতে পারল না।”
এদিকে শিশুটির মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সম্ভাব্য সংক্রমণ প্রতিরোধে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, শিশুটিকে জন্মের পর নিয়ম অনুযায়ী টিকা দেওয়া হয়েছিল। তবে ২৫ মার্চ হামের টিকা দেওয়ার নির্ধারিত দিনে অসুস্থ থাকায় টিকা দেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রায়হান ইসলাম শোভন বলেন, “শিশুটিকে জ্বর, শ্বাসকষ্ট ও হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ধারণে কেসস্টাডি করা হচ্ছে। গত তিন বছরে এ এলাকায় হামের কোনো নিশ্চিত রোগী পাওয়া যায়নি। তাই আতঙ্কিত না হয়ে সবাইকে সচেতন থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।”




















