৭২ হাজার লিটার জেট ফুয়েল চুরি, তদন্তে কুর্মিটোলা ডিপোতে পদ্মার টিম
- প্রকাশের সময় : ০১:১৭:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬
- / 133
নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল থেকে রাজধানীর কুর্মিটোলা ডিপোতে যাওয়ার পথে ৭২ হাজার লিটার জেট ফুয়েল চুরির অভিযোগে পদ্মা অয়েল পিএলসির একটি দল তদন্তে নেমেছে।
শনিবার (১৪ মার্চ) সকাল ৭টার দিকে তারা কুর্মিটোলা ডিপোতে গিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই-বাছাইসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন।
তদন্ত দলে রয়েছেন পদ্মা অয়েলের উপ-মহাব্যবস্থাপক (নিরীক্ষা) ও হেড অব ইন্টারনাল অডিট অ্যান্ড কমপ্লায়েন্স মো. শফিউল আজম এসিএ, ব্যবস্থাপক (পরিচালন) পেয়ার আহাম্মদ এবং কর্মকর্তা (ইঞ্জি.) কে এম আবদুর রহিম।
তদন্ত দলের সদস্যরা ডিপোর বিভিন্ন স্থানে থাকা সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করেন। পাশাপাশি তেলবাহী গাড়ির চলাচল সংক্রান্ত তথ্য মিলিয়ে দেখতে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সিসিটিভি ফুটেজও যাচাই-বাছাই করা হয়। এ সময় ডিপোতে থাকা তেলও পরিমাপ করে দেখা হয় এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলেন তদন্ত কর্মকর্তারা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তদন্ত দল বিশেষভাবে খতিয়ে দেখছে নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল ডিপো থেকে ছেড়ে আসা জেট ফুয়েলবাহী গাড়িগুলোর গতিপথ ও ডিপোতে প্রবেশ সংক্রান্ত তথ্য। কাগজে-কলমে গাড়িগুলো কুর্মিটোলা ডিপোতে পৌঁছেছে দেখানো হলেও বাস্তবে তা পৌঁছেছে কি না, সেটি যাচাই করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে পদ্মা অয়েলের উপ-মহাব্যবস্থাপক (নিরীক্ষা) মো. শফিউল আজম বলেন, সংবাদ প্রকাশের পরিপ্রেক্ষিতে সকাল থেকে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং এখনো তা চলমান রয়েছে।
পদ্মা অয়েলের কর্মকর্তারা জানান, জেট ফুয়েল সাধারণত বিমানের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তবে অপেক্ষাকৃত কমমূল্য হওয়ায় এটি অকটেনের সঙ্গে মিশিয়ে খোলা বাজারে বিক্রি করার অভিযোগ রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বুধবার (১১ মার্চ) নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল পদ্মা অয়েল ডিপো থেকে জেট ফুয়েল নিয়ে ছেড়ে যাওয়া অন্তত চারটি গাড়ি রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পাশে অবস্থিত কুর্মিটোলা ডিপোতে পৌঁছায়নি। গাড়িগুলোর নম্বর হলো— ৪১-০৭০০, ৪২-০২৫২, ৪১-০৬৪৯ ও ৪১-০৬৯৮। তবে কাগজে-কলমে সেগুলো ডিপোতে পৌঁছেছে বলে উল্লেখ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, গাড়িগুলোতে থাকা তেল অন্যত্র পাচার করা হয়েছে।
এ ঘটনায় কুর্মিটোলা এভিয়েশন ডিপোর ব্যবস্থাপক মো. সাইদুল হকের নেতৃত্বে একটি পুরনো সিন্ডিকেট জড়িত থাকতে পারে বলে অভিযোগ উঠেছে। তার বিরুদ্ধে এর আগেও তেল চুরির অভিযোগ রয়েছে।
এর আগে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি কুর্মিটোলা ডিপো থেকে ধারাবাহিকভাবে তেল চুরির অভিযোগে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)। কমিটিকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হলেও এখনো তা জমা দেওয়া হয়নি। তদন্তের অংশ হিসেবে গত ৮ মার্চ কমিটির সদস্যরা কুর্মিটোলা ডিপো পরিদর্শন করেন এবং সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন।




















