লিবিয়ায় মাফিয়া চক্রের হাতে জিম্মি সুনামগঞ্জের এক গ্রামের ১০ যুবক
- প্রকাশের সময় : ০১:০৮:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬
- / 148
ইতালি যাওয়ার স্বপ্ন নিয়ে দেশ ছেড়েছিলেন সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার এক গ্রামের কয়েকজন যুবক। কিন্তু ইতালি পৌঁছানো তো দূরের কথা, বর্তমানে তারা লিবিয়ায় একটি মাফিয়া চক্রের হাতে জিম্মি হয়ে নির্মম নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন।
জানা গেছে, জামালগঞ্জ উপজেলার ফেনারবাঁক ইউনিয়নের নাজিমনগর গ্রামের ১১ জনসহ মোট ১৩ জন যুবক মানবপাচারকারীদের সঙ্গে ১৩ থেকে ১৪ লাখ টাকায় চুক্তি করে ইতালি যাওয়ার উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়েন। তাদের মধ্যে একজন বর্তমানে লিবিয়ায় পুলিশের হাতে আটক রয়েছেন। অন্য ১২ জন গত প্রায় ১২ দিন ধরে লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলিতে একটি মাফিয়া চক্রের কাছে জিম্মি অবস্থায় আছেন।
স্বজনদের অভিযোগ, জিম্মিকারীরা হোয়াটসঅ্যাপ ভিডিও কলে নির্যাতনের দৃশ্য দেখিয়ে প্রত্যেকের পরিবারের কাছ থেকে ২৬ লাখ টাকা করে মুক্তিপণ দাবি করছে। তাদের সঙ্গে বাংলা ভাষাভাষী লোকদের দিয়ে ফোনে কথা বলানো হচ্ছে এবং বিকাশের মাধ্যমে টাকা পাঠাতে বলা হচ্ছে।
জিম্মি থাকা যুবকদের মধ্যে ১০ জনের বাড়ি নাজিমনগর গ্রামে। তারা হলেন জীবন মিয়া (২৫), আব্দুল কাইয়ুম (২৬), মনিরুল ইসলাম (২৪), মামুন মিয়া (২৭), আতাউর রহমান (২৮), এনামুল হক (২৬), আতাউর রহমান (২৯), আমিনুল ইসলাম (২৫), সফিকুল ইসলাম (৩২) ও নিলয় মিয়া (২২)।
স্বজনরা জানান, গত ২৮ জানুয়ারি তারা ইতালির উদ্দেশ্যে বাড়ি ছাড়েন। প্রথমে তাদের আবুধাবি নেওয়া হয়। পরে কুয়েত, সেখান থেকে মিশর হয়ে লিবিয়ায় নেওয়া হয়। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি সাগরপথে ইতালি পাঠানোর আগে একটি চক্র তাদের জিম্মি করে ফেলে। এরপর থেকেই তাদের ওপর নির্যাতন চালিয়ে মুক্তিপণ দাবি করা হচ্ছে।
জিম্মি যুবকদের পরিবারের দাবি, স্থানীয় কয়েকজন দালালের মাধ্যমে তাদের বিদেশে পাঠানোর চুক্তি হয়েছিল। কিন্তু এখন সেই দালালদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। পরিবারের সদস্যরা জমি-জমা বিক্রি ও ঋণ করে মুক্তিপণের টাকা জোগাড় করার চেষ্টা করছেন।
এ বিষয়ে জামালগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বন্দে আলী বলেন, এ ধরনের কোনো অভিযোগ এখনো থানায় পাওয়া যায়নি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে।




















