Dhaka ০৪:৪১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ মানে বাংলাদেশকে প্রস্তুত করা: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কালীগঞ্জে কোলা ইউনিয়ন বিএনপির মানবিক উদ্যোগ রূপপুর প্রকল্পে প্রথম পারমাণবিক বিক্রিয়ার অনুমতি টিকটকে যুক্ত হলো নতুন দুই সুবিধা পাঁচ ঘণ্টা প্ল্যাঙ্ক করে বিশ্বরেকর্ড ভাঙলেন ৬১ বছরের নারী শূন্য থেকে শিখরে: কত সম্পদ রেখে গেলেন নানা পাটেকার জবির দ্বিতীয় সমাবর্তন ৩০ জানুয়ারি, নিবন্ধন শুরু ১৫ অক্টোবর পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় রমজানে পণ্যের সংকট হবে না : বাণিজ্যমন্ত্রী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মেয়েদের জন্য খেলাধুলার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে : প্রতিমন্ত্রী ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৫ জনের মৃত্যু, হাতপাতালে ভর্তি ১৯৩৫

‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ আসলে কী?

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০২:২০:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 156

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভূমিধস জয় পেয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপি। দলটি এককভাবে পেয়েছে ২০৯টি আসন। তবে জোটবদ্ধভাবে পেয়েছে ২১২টি। অন্যদিকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলীয় জোট পেয়েছে ৭৭টি আসন। এর মধ্যে জামায়াত এককভাবে পেয়েছে ৬৮টি। আর জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি পেয়েছে ৬টি আসন।

আগামী মঙ্গলবার (১৭ ফ্রেব্রুয়ারি) নতুন সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ নিতে যাচ্ছে।

এদিকে, বাংলাদেশের রাজনীতিতে এবার দেখা যেতে পারে নতুন গণতান্ত্রিক চর্চার। জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ গঠন করতে পারে ১১ দলীয় বিরোধী জোট। এরই মধ্যে ওই জোটের দু-একজন নেতার পক্ষ থেকে এমন ইঙ্গিত মিলেছে।

ছায়া মন্ত্রিসভা আসলে কী?

‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ হলো বিরোধী দলের গঠিত একটি ‘বিকল্প মন্ত্রিসভা’ কাঠামো, যেখানে সরকারের প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের বিপরীতে একজন করে ‘ছায়া মন্ত্রী’ দায়িত্ব পালন করেন। তারা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের নীতি, কার্যক্রম ও ব্যয় পর্যালোচনা করে সমালোচনা ও বিকল্প প্রস্তাব তুলে ধরেন।

এ পদ্ধতি সবচেয়ে বেশি প্রচলিত যুক্তরাজ্যভিত্তিক ওয়েস্টমিনস্টার ধারার গণতন্ত্রে।

বাংলাদেশ প্রেক্ষাপট

বাংলাদেশের সংবিধানে ছায়া মন্ত্রিসভা নিয়ে কোনও বিধান নেই। ফলে এটি পুরোপুরি রাজনৈতিক দলের উদ্যোগের ওপর নির্ভরশীল। অতীতে বিভিন্ন সময়ে বড় রাজনৈতিক দলগুলো বিরোধী দলে থাকাকালে অনানুষ্ঠানিকভাবে কিছু নেতাকে নির্দিষ্ট খাতভিত্তিক দায়িত্ব দিলেও তা স্থায়ী বা সুসংগঠিত কাঠামো পায়নি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংসদ বর্জনের সংস্কৃতি, তীব্র রাজনৈতিক মেরুকরণ এবং সংসদীয় চর্চার সীমাবদ্ধতার কারণে এ ব্যবস্থা কার্যকর রূপ পায়নি।

কেন আলোচনায়?

সাম্প্রতিক সময়ে সরকারের বিভিন্ন নীতি ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে সমালোচনার প্রেক্ষাপটে বিরোধী রাজনীতির ভেতরে শক্তিশালী ও গঠনমূলক ভূমিকা রাখার প্রশ্নটি সামনে এসেছে। অনেকের মতে, একটি সক্রিয় ছায়া মন্ত্রিসভা থাকলে— নীতিগত বিতর্ক আরও কাঠামোবদ্ধ হতো, বিকল্প নীতিপ্রস্তাব নিয়মিত উপস্থাপিত হতো এবং সংসদে জবাবদিহিতা বাড়তো।

ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে যদি সংসদীয় সংস্কৃতি আরও প্রাতিষ্ঠানিক ও অংশগ্রহণমূলক হয়, তবে ছায়া মন্ত্রিসভা কার্যকর একটি রাজনৈতিক অনুশীলনে পরিণত হতে পারে। তবে তা নির্ভর করবে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও পারস্পরিক আস্থার ওপর।

ছায়া মন্ত্রিসভা- বাংলাদেশে এখনও একটি ধারণা; তবে গণতান্ত্রিক চর্চা জোরদার হলে এটি বাস্তব কাঠামোতেও রূপ নিতে পারে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ আসলে কী?

প্রকাশের সময় : ০২:২০:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভূমিধস জয় পেয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপি। দলটি এককভাবে পেয়েছে ২০৯টি আসন। তবে জোটবদ্ধভাবে পেয়েছে ২১২টি। অন্যদিকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলীয় জোট পেয়েছে ৭৭টি আসন। এর মধ্যে জামায়াত এককভাবে পেয়েছে ৬৮টি। আর জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি পেয়েছে ৬টি আসন।

আগামী মঙ্গলবার (১৭ ফ্রেব্রুয়ারি) নতুন সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ নিতে যাচ্ছে।

এদিকে, বাংলাদেশের রাজনীতিতে এবার দেখা যেতে পারে নতুন গণতান্ত্রিক চর্চার। জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ গঠন করতে পারে ১১ দলীয় বিরোধী জোট। এরই মধ্যে ওই জোটের দু-একজন নেতার পক্ষ থেকে এমন ইঙ্গিত মিলেছে।

ছায়া মন্ত্রিসভা আসলে কী?

‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ হলো বিরোধী দলের গঠিত একটি ‘বিকল্প মন্ত্রিসভা’ কাঠামো, যেখানে সরকারের প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের বিপরীতে একজন করে ‘ছায়া মন্ত্রী’ দায়িত্ব পালন করেন। তারা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের নীতি, কার্যক্রম ও ব্যয় পর্যালোচনা করে সমালোচনা ও বিকল্প প্রস্তাব তুলে ধরেন।

এ পদ্ধতি সবচেয়ে বেশি প্রচলিত যুক্তরাজ্যভিত্তিক ওয়েস্টমিনস্টার ধারার গণতন্ত্রে।

বাংলাদেশ প্রেক্ষাপট

বাংলাদেশের সংবিধানে ছায়া মন্ত্রিসভা নিয়ে কোনও বিধান নেই। ফলে এটি পুরোপুরি রাজনৈতিক দলের উদ্যোগের ওপর নির্ভরশীল। অতীতে বিভিন্ন সময়ে বড় রাজনৈতিক দলগুলো বিরোধী দলে থাকাকালে অনানুষ্ঠানিকভাবে কিছু নেতাকে নির্দিষ্ট খাতভিত্তিক দায়িত্ব দিলেও তা স্থায়ী বা সুসংগঠিত কাঠামো পায়নি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংসদ বর্জনের সংস্কৃতি, তীব্র রাজনৈতিক মেরুকরণ এবং সংসদীয় চর্চার সীমাবদ্ধতার কারণে এ ব্যবস্থা কার্যকর রূপ পায়নি।

কেন আলোচনায়?

সাম্প্রতিক সময়ে সরকারের বিভিন্ন নীতি ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে সমালোচনার প্রেক্ষাপটে বিরোধী রাজনীতির ভেতরে শক্তিশালী ও গঠনমূলক ভূমিকা রাখার প্রশ্নটি সামনে এসেছে। অনেকের মতে, একটি সক্রিয় ছায়া মন্ত্রিসভা থাকলে— নীতিগত বিতর্ক আরও কাঠামোবদ্ধ হতো, বিকল্প নীতিপ্রস্তাব নিয়মিত উপস্থাপিত হতো এবং সংসদে জবাবদিহিতা বাড়তো।

ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে যদি সংসদীয় সংস্কৃতি আরও প্রাতিষ্ঠানিক ও অংশগ্রহণমূলক হয়, তবে ছায়া মন্ত্রিসভা কার্যকর একটি রাজনৈতিক অনুশীলনে পরিণত হতে পারে। তবে তা নির্ভর করবে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও পারস্পরিক আস্থার ওপর।

ছায়া মন্ত্রিসভা- বাংলাদেশে এখনও একটি ধারণা; তবে গণতান্ত্রিক চর্চা জোরদার হলে এটি বাস্তব কাঠামোতেও রূপ নিতে পারে।