নতুন প্রজন্মের জন্য মুক্তিযুদ্ধের অনুপ্রেরণা প্রয়োজন : প্রধান উপদেষ্টা
- প্রকাশের সময় : ১১:৫১:০৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / 157
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, আমরা কেউই চিরস্থায়ী নই। কিন্তু নতুন প্রজন্মের জন্য মুক্তিযুদ্ধের অনুপ্রেরণা প্রয়োজন। তারা যেন জানে এই দেশ কোথা থেকে এলো, কীভাবে যুদ্ধ হয়েছে। যুদ্ধ তো একটা না, সামনে আরও যুদ্ধ আসবে। আমাদের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ যেন প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে অনুপ্রেরণা হিসেবে থাকে।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট এবং বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক ই আজমসহ সংশ্লিষ্ট সংগঠনের নেতারা।
বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর তাদের লক্ষ্য ছিল প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা খুঁজে বের করা এবং ভুয়াদের চিহ্নিত করা। বাংলাদেশের মানুষ মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা রাখেন, কিন্তু অতীতে কেউ কেউ সেই শ্রদ্ধাকে পুঁজি করে স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করেছেন। তিনি বলেন, এসব প্রতিষ্ঠানকে আবার প্রকৃত প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলাই সরকারের চেষ্টা।
বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পেরে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ইতিহাস সংরক্ষণ ও নতুন প্রজন্মকে তার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া একটি পবিত্র কাজ। কয়েক বছর পর নতুন মুক্তিযোদ্ধা আর পাওয়া যাবে না, কিন্তু তাদের স্মৃতি ধরে রাখতে এখন থেকেই পরিকল্পনা করতে হবে, যাতে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি জাতির মধ্যে অবিনশ্বর থাকে।
ফারুক ই আজম বলেন, অতীতে মুক্তিযোদ্ধাদের চেতনার নামে বৈষম্য সৃষ্টি হয়েছে এবং প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা বঞ্চিত হয়েছেন। বর্তমান দায়িত্ব গ্রহণের পর মুক্তিযোদ্ধাদের হারানো ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনতে কাজ চলছে।
বৈঠকে অংশ নেওয়া বীর মুক্তিযোদ্ধারা প্রধান উপদেষ্টাকে দায়িত্ব পালনের জন্য ধন্যবাদ জানান এবং বলেন, সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়নে গণভোট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তারা ব্যক্তিগতভাবে গণভোটে ‘হ্যাঁ’র পক্ষে প্রচার চালানোর কথাও জানান।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, দেশ নির্বাচনের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে এবং গণ-অভ্যুত্থানের সুযোগ কাজে লাগিয়ে সংবিধান সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সব রাজনৈতিক দলকে নিয়ে ঐকমত্য কমিশন কাজ করেছে এবং এখন গণভোটের মাধ্যমে তা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলছে। সংস্কার না হলে পরিবর্তন সম্ভব নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণে সংগঠনগুলোর সম্পদ যথাযথভাবে ব্যবহার করতে হবে এবং এগুলোকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। সরকারের পাশাপাশি নাগরিক হিসেবেও সবার কাজ করে যেতে হবে। তিনি জানান, সরকারে তার অবস্থান সাময়িক হলেও নাগরিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাবেন।
বৈঠকে মুক্তিযোদ্ধা নেতারা জানান, নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরা তাদের প্রধান লক্ষ্য। তারা স্মৃতিস্মারক সংরক্ষণ, ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের গেজেট বাতিলসহ বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরেন।




















