১ জানুয়ারি শুরু হচ্ছে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা
- প্রকাশের সময় : ০১:৩৬:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫
- / 196
পূর্বাচলের বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে আগামী ১ জানুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে ৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা (ডিআইটিএফ)-২০২৬। প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন।
সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান। এ সময় রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান হাসান আরিফ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (রপ্তানি) আব্দুর রহিম খান এবং ইপিবির মহাপরিচালক বেবি রাণী কর্মকার উপস্থিত ছিলেন।
বাণিজ্য সচিব জানান, এবারের মেলায় অনলাইনে বিভিন্ন ক্যাটাগরির স্টল ও প্যাভিলিয়ন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। দর্শনার্থীদের জন্য ই-টিকিটিং সুবিধা চালু থাকছে, যার মাধ্যমে অনলাইনে টিকিট কেটে কিউআর কোড স্ক্যান করে মেলায় প্রবেশ করা যাবে। যাতায়াতের সুবিধার্থে বিআরটিসির ডেডিকেটেড শাটল বাসের পাশাপাশি কনসেশনাল রেটে ‘পাঠাও’ সেবাও যুক্ত করা হয়েছে।
মেলায় রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর কার্যক্রম ও দেশের রপ্তানি খাতের সক্ষমতা তুলে ধরতে ‘এক্সপোর্ট এনক্লেভ’ নির্মাণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ৫২-এর ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে আহত ও শহীদদের স্মরণে বাংলাদেশ স্কয়ারে স্থিরচিত্র প্রদর্শনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সম্ভাবনাময় বিভিন্ন খাত ও পণ্যভিত্তিক সেমিনার আয়োজনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
বিদেশি উদ্যোক্তাদের জন্য ইলেকট্রনিক্স ও ফার্নিচার জোন, সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য সিটিং কর্নার এবং শিশুদের বিনোদনের জন্য দুটি শিশু পার্ক থাকবে। নারী, প্রতিবন্ধী এবং কুটির, তাঁত, বস্ত্র ও হস্তশিল্প উদ্যোক্তাদের জন্য সংরক্ষিত স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। মেলায় পলিথিন ব্যাগ ও সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিকল্প হিসেবে পরিবেশবান্ধব শপিং ব্যাগ সরবরাহ করা হবে।
মেলার লে-আউট অনুযায়ী মোট ৩২৪টি প্যাভিলিয়ন, স্টল ও রেস্টুরেন্ট দেশীয় ও বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বস্ত্র, ইলেকট্রনিক্স, ফার্নিচার, পাটজাত পণ্য, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, প্রসেসড ফুড, কসমেটিকস, খেলনা, হস্তশিল্পসহ নানা ধরনের পণ্য মেলায় প্রদর্শিত হবে।
দর্শনার্থীদের যাতায়াতের জন্য কুড়িল বিশ্বরোড, ফার্মগেট, নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদীসহ বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিআরটিসির ২০০টির বেশি শাটল বাস চলবে। মেলা প্রাঙ্গণ থেকে শেষ শাটল বাস ছাড়বে রাত ১১টায়। টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ৫০ টাকা এবং ১২ বছরের নিচে শিশুদের জন্য ২৫ টাকা। মুক্তিযোদ্ধা, প্রতিবন্ধী ও জুলাই আন্দোলনে আহত ব্যক্তিরা কার্ড প্রদর্শন করে বিনামূল্যে প্রবেশ করতে পারবেন।
মেলা প্রতিদিন সকাল ৯টা ৫৫ মিনিট থেকে রাত ৯টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত চলবে, সাপ্তাহিক ছুটির দিনে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ, র্যাব, সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি সিসিটিভি ক্যামেরা, আর্চওয়ে ও মেটাল ডিটেক্টরের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
পরিচ্ছন্নতা, চিকিৎসাসেবা, খাবারের মান নিয়ন্ত্রণ এবং পর্যাপ্ত পার্কিং সুবিধাসহ দর্শনার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সেবা নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে।






















