Dhaka ০৩:৪১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ মানে বাংলাদেশকে প্রস্তুত করা: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কালীগঞ্জে কোলা ইউনিয়ন বিএনপির মানবিক উদ্যোগ রূপপুর প্রকল্পে প্রথম পারমাণবিক বিক্রিয়ার অনুমতি টিকটকে যুক্ত হলো নতুন দুই সুবিধা পাঁচ ঘণ্টা প্ল্যাঙ্ক করে বিশ্বরেকর্ড ভাঙলেন ৬১ বছরের নারী শূন্য থেকে শিখরে: কত সম্পদ রেখে গেলেন নানা পাটেকার জবির দ্বিতীয় সমাবর্তন ৩০ জানুয়ারি, নিবন্ধন শুরু ১৫ অক্টোবর পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় রমজানে পণ্যের সংকট হবে না : বাণিজ্যমন্ত্রী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মেয়েদের জন্য খেলাধুলার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে : প্রতিমন্ত্রী ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৫ জনের মৃত্যু, হাতপাতালে ভর্তি ১৯৩৫

এক সপ্তাহে ৩০ টাকা, এক মাসে ৬০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে পেঁয়াজের দাম

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০৫:৫০:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর ২০২৫
  • / 97

চাঁপাইনবাবগঞ্জে পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতা কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। এক সপ্তাহের ব্যবধানে বিভিন্ন মানের পেঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি কমপক্ষে ৩০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। বুধবার (১২ নভেম্বর) জেলা শহরের পুরাতন বাজারে ভালো মানের দেশি পেঁয়াজ (ছাঁচি) খুচরা বিক্রি হয়েছে কেজিপ্রতি ১১০ টাকায়। ৯৫ টাকার নিচে কোনো পেঁয়াজ পাওয়া যায়নি।

সাধারণ ক্রেতারা এই দামে কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন। অথচ মাত্র ১০ দিন আগেও ভালো পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৭০-৮০ টাকায়, আর তিন সপ্তাহ আগে দাম ছিল ৬০-৭০ টাকা। জেলার বিভিন্ন হাটবাজার ও মুদি দোকানে পেঁয়াজের দাম বাড়ার ধারা এখনো চলছে। বিক্রেতারা বলছেন, পাইকারি পর্যায়ে দাম না কমলে খুচরা বাজারে স্বস্তি ফিরবে না।

পাইকারি ব্যবসায়ী সেলিম রেজা বলেন, ‘বর্তমানে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির তেমন কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। দেশে উৎপাদিত পেঁয়াজের সরবরাহ যথেষ্ট আছে। কিন্তু পাইকারি পর্যায়ে দাম বেড়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে আমাদেরও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।’

খুচরা ব্যবসায়ীরা জানান, সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ থাকায় স্থানীয় বাজারে সরবরাহ কমে গেছে। এর প্রভাব পড়ছে পাইকারি বাজারে, যা সরাসরি খুচরা বিক্রেতা ও ক্রেতাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। শিবগঞ্জের খুচরা বিক্রেতা শামীম উদ্দিন বলেন, ‘পাইকারি বাজার থেকে পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ৯৫-৯৮ টাকায় কিনতে হচ্ছে। এতে আমরা ১০০-১১০ টাকার নিচে বিক্রি করতে পারছি না। ক্রেতারা হতাশ, বিক্রিও কমে গেছে।’

ক্রেতারা বলছেন, পেঁয়াজ দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য পণ্য। হঠাৎ দাম বেড়ে যাওয়ায় পরিবারের বাজেট সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে। ব্যবসায়ীরা মনে করেন, দ্রুত আমদানির অনুমতি দেওয়া হলে সরবরাহ বাড়বে এবং বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরবে; অন্যথায় দাম আরও বাড়তে পারে।

জেলার অন্যতম আমদানিকারক মেসার্স সাজ্জাদ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মাসুদ রানা বলেন, ‘দেশে এখন সর্বোচ্চ ১২০ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে। জানুয়ারির আগে নতুন পেঁয়াজ বাজারে আসবে না। তাই দ্রুত আমদানি শুরু না হলে দাম আরো বাড়বে। তবে এখনো সরকারের পক্ষ থেকে কোনো নির্দেশনা পাইনি।’

সোনামসজিদ বন্দর উদ্ভিদ সংরক্ষণ কেন্দ্রের উপ-পরিচালক সমীর চন্দ্র ঘোষ জানান, ‘গত আগস্টে এক দফা আমদানির অনুমতি দিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছিল। ৯ সেপ্টেম্বর বন্দরে শেষবারের মতো ২৫ টন পেঁয়াজ এসেছে। এরপর থেকে কোনো আইপি (ইমপোর্ট পারমিট) ইস্যু হয়নি।’

জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা শাহনাজ পারভিন বলেন, “বাজার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পাইকারি ও খুচরা বাজারে মনিটরিং জোরদার করা হবে, যাতে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি রোধ করা সম্ভব হয়।”

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

এক সপ্তাহে ৩০ টাকা, এক মাসে ৬০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে পেঁয়াজের দাম

প্রকাশের সময় : ০৫:৫০:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর ২০২৫

চাঁপাইনবাবগঞ্জে পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতা কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। এক সপ্তাহের ব্যবধানে বিভিন্ন মানের পেঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি কমপক্ষে ৩০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। বুধবার (১২ নভেম্বর) জেলা শহরের পুরাতন বাজারে ভালো মানের দেশি পেঁয়াজ (ছাঁচি) খুচরা বিক্রি হয়েছে কেজিপ্রতি ১১০ টাকায়। ৯৫ টাকার নিচে কোনো পেঁয়াজ পাওয়া যায়নি।

সাধারণ ক্রেতারা এই দামে কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন। অথচ মাত্র ১০ দিন আগেও ভালো পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৭০-৮০ টাকায়, আর তিন সপ্তাহ আগে দাম ছিল ৬০-৭০ টাকা। জেলার বিভিন্ন হাটবাজার ও মুদি দোকানে পেঁয়াজের দাম বাড়ার ধারা এখনো চলছে। বিক্রেতারা বলছেন, পাইকারি পর্যায়ে দাম না কমলে খুচরা বাজারে স্বস্তি ফিরবে না।

পাইকারি ব্যবসায়ী সেলিম রেজা বলেন, ‘বর্তমানে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির তেমন কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। দেশে উৎপাদিত পেঁয়াজের সরবরাহ যথেষ্ট আছে। কিন্তু পাইকারি পর্যায়ে দাম বেড়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে আমাদেরও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।’

খুচরা ব্যবসায়ীরা জানান, সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ থাকায় স্থানীয় বাজারে সরবরাহ কমে গেছে। এর প্রভাব পড়ছে পাইকারি বাজারে, যা সরাসরি খুচরা বিক্রেতা ও ক্রেতাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। শিবগঞ্জের খুচরা বিক্রেতা শামীম উদ্দিন বলেন, ‘পাইকারি বাজার থেকে পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ৯৫-৯৮ টাকায় কিনতে হচ্ছে। এতে আমরা ১০০-১১০ টাকার নিচে বিক্রি করতে পারছি না। ক্রেতারা হতাশ, বিক্রিও কমে গেছে।’

ক্রেতারা বলছেন, পেঁয়াজ দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য পণ্য। হঠাৎ দাম বেড়ে যাওয়ায় পরিবারের বাজেট সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে। ব্যবসায়ীরা মনে করেন, দ্রুত আমদানির অনুমতি দেওয়া হলে সরবরাহ বাড়বে এবং বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরবে; অন্যথায় দাম আরও বাড়তে পারে।

জেলার অন্যতম আমদানিকারক মেসার্স সাজ্জাদ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মাসুদ রানা বলেন, ‘দেশে এখন সর্বোচ্চ ১২০ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে। জানুয়ারির আগে নতুন পেঁয়াজ বাজারে আসবে না। তাই দ্রুত আমদানি শুরু না হলে দাম আরো বাড়বে। তবে এখনো সরকারের পক্ষ থেকে কোনো নির্দেশনা পাইনি।’

সোনামসজিদ বন্দর উদ্ভিদ সংরক্ষণ কেন্দ্রের উপ-পরিচালক সমীর চন্দ্র ঘোষ জানান, ‘গত আগস্টে এক দফা আমদানির অনুমতি দিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছিল। ৯ সেপ্টেম্বর বন্দরে শেষবারের মতো ২৫ টন পেঁয়াজ এসেছে। এরপর থেকে কোনো আইপি (ইমপোর্ট পারমিট) ইস্যু হয়নি।’

জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা শাহনাজ পারভিন বলেন, “বাজার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পাইকারি ও খুচরা বাজারে মনিটরিং জোরদার করা হবে, যাতে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি রোধ করা সম্ভব হয়।”