Dhaka ০৮:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
ঝিনাইদহে ১০৪ মোবাইল ফোন ও টাকা উদ্ধার মান্দায় ৯৫০ গ্রাম গাঁজাসহ নারী আটক প্রেমিকার তরকারিতে বিষ মেশানোর অভিযোগ, অস্ট্রেলীয় নারী অভিযুক্ত বলিউড অভিনেতা ইমরান খানকে ভারত ছাড়ার নির্দেশ জেলার ২-এ রজনীকান্তের সঙ্গে হৃতিকের চমক, ৪০ বছর পর একসঙ্গে পর্দায় আইনগত সহায়তায় ন্যায়বিচারের পথ সুগম করতে হবে: আইনমন্ত্রী ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা নির্ধারণ, নতুন অধ্যাদেশ জারি ডিসেম্বরের মধ্যে খুলে দেওয়া হবে পঞ্চবটি-মুক্তারপুর এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে : সড়কমন্ত্রী কালুখালীর মদাপুরে ১৩ পূজামণ্ডপের নেতাদের সঙ্গে বিএনপির মতবিনিময় পত্নীতলায় ৫০০ লিটার ওয়াশ ও ৯০ লিটার চোলাই মদ উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৩

তৃতীয় দিনের মতো শহীদ মিনারে প্রাথমিক শিক্ষকদের অবস্থান

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০২:৫৬:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ নভেম্বর ২০২৫
  • / 92

দশম গ্রেডসহ তিন দফা দাবি আদায়ে টানা তৃতীয় দিনের মতো কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি করছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা। একই সঙ্গে সারাদেশের সব বিদ্যালয়ে কর্মবিরতি চলছে। শিক্ষক নেতারা দাবি মেনে নেওয়া না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

শহীদ মিনারে দেখা গেছে, শিক্ষকরা পুরো চত্বরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে অবস্থান করছেন। অনেকে রোদ থেকে বাঁচতে গাছের ছায়ায় মাদুর বিছিয়ে শুয়ে-বসে আছেন। শিক্ষক নেতারা বেদিতে অবস্থান নিয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন। মাঝে মাঝে মাইকে দেশের উন্নয়ন ও দাবি আদায়ের কথাসহ গান-কবিতা পরিবেশিত হচ্ছে।

‘প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ’-এর ব্যানারে চারটি সংগঠন একসঙ্গে কর্মসূচি পরিচালনা করছে। পরিষদের নেতা মু. মাহবুবর রহমান বলেন, “দাবি পূরণ না হলে শিক্ষকরা বিদ্যালয়ে ফিরবে না। দশম গ্রেড আমাদের মর্যাদার প্রশ্ন। প্রাথমিক শিক্ষকরা এ মর্যাদার হকদার।”

আজ বিকেলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে শিক্ষকদের পক্ষ থেকে একটি প্রতিনিধিদল অংশ নেবে এবং দাবি-দাওয়া নিয়ে আলোচনা হবে।

প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদের নেতা আবুল কাশেম বলেন, “দশম গ্রেডের যুক্তি তুলে ধরে আমরা আলোচনা করব। মন্ত্রণালয় যদি দাবি মেনে নেয়, আমরা ক্লাসে ফিরে যাবো। অন্যথায় আন্দোলন চালিয়ে যাবো।”

রোববার রাতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সোমবারও সারাদেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্লাস বন্ধ রয়েছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা জানান, “সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেড দেওয়ার প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। তবে তারা এখন দশম গ্রেড চাচ্ছেন। বিষয়টি বাস্তবায়নযোগ্য কিনা, তা অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানাবেন।”

বর্তমানে সারাদেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৬৫ হাজার ৫৬৯টি। এসব বিদ্যালয়ে ৩ লাখ ৮৪ হাজারের বেশি শিক্ষক এবং প্রায় ৯৬ লাখ শিক্ষার্থী রয়েছে। শিক্ষকরা কর্মবিরতি দিলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা প্রভাবিত হচ্ছে। আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে তৃতীয় প্রান্তিক বা বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা। এছাড়া দীর্ঘ ১৬ বছর পর পঞ্চম শ্রেণিতে বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যা শিক্ষকদের কর্মবিরতির কারণে ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

তৃতীয় দিনের মতো শহীদ মিনারে প্রাথমিক শিক্ষকদের অবস্থান

প্রকাশের সময় : ০২:৫৬:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ নভেম্বর ২০২৫

দশম গ্রেডসহ তিন দফা দাবি আদায়ে টানা তৃতীয় দিনের মতো কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি করছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা। একই সঙ্গে সারাদেশের সব বিদ্যালয়ে কর্মবিরতি চলছে। শিক্ষক নেতারা দাবি মেনে নেওয়া না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

শহীদ মিনারে দেখা গেছে, শিক্ষকরা পুরো চত্বরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে অবস্থান করছেন। অনেকে রোদ থেকে বাঁচতে গাছের ছায়ায় মাদুর বিছিয়ে শুয়ে-বসে আছেন। শিক্ষক নেতারা বেদিতে অবস্থান নিয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন। মাঝে মাঝে মাইকে দেশের উন্নয়ন ও দাবি আদায়ের কথাসহ গান-কবিতা পরিবেশিত হচ্ছে।

‘প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ’-এর ব্যানারে চারটি সংগঠন একসঙ্গে কর্মসূচি পরিচালনা করছে। পরিষদের নেতা মু. মাহবুবর রহমান বলেন, “দাবি পূরণ না হলে শিক্ষকরা বিদ্যালয়ে ফিরবে না। দশম গ্রেড আমাদের মর্যাদার প্রশ্ন। প্রাথমিক শিক্ষকরা এ মর্যাদার হকদার।”

আজ বিকেলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে শিক্ষকদের পক্ষ থেকে একটি প্রতিনিধিদল অংশ নেবে এবং দাবি-দাওয়া নিয়ে আলোচনা হবে।

প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদের নেতা আবুল কাশেম বলেন, “দশম গ্রেডের যুক্তি তুলে ধরে আমরা আলোচনা করব। মন্ত্রণালয় যদি দাবি মেনে নেয়, আমরা ক্লাসে ফিরে যাবো। অন্যথায় আন্দোলন চালিয়ে যাবো।”

রোববার রাতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সোমবারও সারাদেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্লাস বন্ধ রয়েছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা জানান, “সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেড দেওয়ার প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। তবে তারা এখন দশম গ্রেড চাচ্ছেন। বিষয়টি বাস্তবায়নযোগ্য কিনা, তা অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানাবেন।”

বর্তমানে সারাদেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৬৫ হাজার ৫৬৯টি। এসব বিদ্যালয়ে ৩ লাখ ৮৪ হাজারের বেশি শিক্ষক এবং প্রায় ৯৬ লাখ শিক্ষার্থী রয়েছে। শিক্ষকরা কর্মবিরতি দিলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা প্রভাবিত হচ্ছে। আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে তৃতীয় প্রান্তিক বা বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা। এছাড়া দীর্ঘ ১৬ বছর পর পঞ্চম শ্রেণিতে বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যা শিক্ষকদের কর্মবিরতির কারণে ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।