নিজ কক্ষের সিসি ক্যামেরা বন্ধ, কর্মচারীদের দিয়ে জোরপূর্বক মুচলেকা, ভয় দেখান বদলির
ঘুষ নিয়ে ভাইরাল সেই শিক্ষা কর্মকর্তার ঘুষ-দুর্নীতি বন্ধ হয়নি
- প্রকাশের সময় : ০৩:০৫:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৫
- / 370
মাগুরা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আলমগীর কবিরের বিরুদ্ধে ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগ থামছে না। গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পরও অনৈতিক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রেখেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
শিক্ষক-কর্মচারীদের অভিযোগ, এমপিওভুক্তি, উচ্চতর স্কেল অনুমোদনসহ নানা কাজে নিয়মিত ঘুষ নেন তিনি। সম্প্রতি শিক্ষকদের তিন দিনের প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে খাবার, প্রশিক্ষণ সামগ্রী ও ইন্টারনেট বিলের অনিয়মের মাধ্যমে প্রায় ১০ লাখ টাকা তসরুপের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে—অনৈতিক লেনদেন ঢাকতে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার নিজ কক্ষ ও হিসাবরক্ষকের কক্ষের সিসি ক্যামেরা বন্ধ রাখা হয়েছে। যারা প্রতিবাদ করেন, তাদের বদলির ভয় দেখানো হয়। এ নিয়ে ভুক্তভোগী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরে লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন।
অভিযোগ ওঠার পর আলমগীর কবির অফিসের কর্মচারীদের ডেকে নিজের পক্ষে জোরপূর্বক মুচলেকা আদায় করেন—যাতে লেখা ছিল, প্রশিক্ষণে কোনো অনিয়ম হয়নি।
অফিস সহকারী নজরুল ইসলাম বলেন, “বদলির ভয় দেখিয়ে আমাদের দিয়ে মিথ্যা প্রত্যয়নপত্রে স্বাক্ষর করানো হয়।”
একই অভিযোগ সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা প্রদ্যুৎ কুমার দাসেরও। তিনি বলেন, “ট্রেনিং শেষে অনেক শিক্ষক অভিযোগ করেছেন। আমি নিজ চোখে ক্যামেরায় ঘুষ লেনদেন ও অনিয়মের ভিডিও দেখেছি।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, ২৫০ টাকার খাবার ১৫০ টাকায় দেওয়া হয়েছে, ১২০ টাকার নাস্তা ৫০ টাকায় শেষ করা হয়েছে। বাকিটা তসরুপ করা হয়। এরপর কর্মচারীদের দিয়ে মুচলেকা নেওয়া হয়, যাতে কেউ মুখ খুলতে না পারে।
একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী জানিয়েছেন, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও হিসাবরক্ষকের (রুম নং ২০৯) কক্ষের সিসি ক্যামেরা দীর্ঘদিন অচল। প্রমাণ হিসেবে তারা অচল ক্যামেরার ছবি ও ভিডিও পাঠিয়েছেন।
পুরনো ভিডিও আবার আলোচনায়
২০২২ সালে এমপিওভুক্তির ঘুষ লেনদেনের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। তখন বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে তিনি বিতর্কে আসেন। পরে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে শাস্তি এড়ান। অভিযোগ রয়েছে, ওই সময় থেকেই নিজ কক্ষের ক্যামেরা বন্ধ করে রাখেন তিনি।
৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর তিনি আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। এবার স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তোলেন এবং আরও সতর্কভাবে দুর্নীতির কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে দাবি সহকর্মীদের।
সব অভিযোগ অস্বীকার করে মাগুরা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আলমগীর কবির বলেন, গত জুন মাসে জেলা শিক্ষা অফিসের অধীনে শিক্ষকদের একটি ট্রেনিং সমাপ্ত হয়েছে। সেটি সুন্দর ভাবে সমাপ্ত হয়েছে। খাবারের মানসহ ফাইল ফোল্ডার থেকে শুরু করে সব কিছুই ভাল হয়েছে এবং রুচি সম্মত ছিল। এ বিষয়ে শিক্ষক শিক্ষিকারা কোনো অভিযোগ করেনি। পাশাপাশি ৩২ জন ট্রেনার সুন্দরভাবে ট্রেনিং সমাপ্ত করতে পারায় শিক্ষা অফিসকে থ্যাংস লেটার দিয়েছে। সব কিছু মিলিয়ে ট্রেনিংটা আমাদের ভালো হয়েছে। পাশাপাশি গত ৩ বছর আগে আমার অফিসের একজন সহকর্মী একটি মিথ্যা ভিডিও তথ্য যাচাই বাছাই ছাড়াই মিডিয়াতে প্রকাশ করিয়ে আমাকে বিব্রত করেছে। ওই সহকর্মী অন্যত্র বদলী হওয়ার কারণে বাইরে থেকে একের পর এক আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা।




















