রাজবাড়ী জেলা পরিষদে দুদক এর তদন্ত বিষয়ে আমার কিছু কথা

সম্মানিত রাজবাড়ী জেলাবাসী,

আমার সালাম নিন। গত কয়েকদিন আগে কিছু পত্রিকায় জেলা পরিষদে ২৩/০১/২০২২ ইং তারিখে দুর্নীতি দমন কমিশন কর্তৃক আমার বিরুদ্ধে সদস্যগণের দেওয়া অভিযোগের প্রেক্ষিতে সঠিকতা যাচাইয়ে তদন্ত আসবে মর্মে হেড লাইন করে, বড় করে ছবি দিয়ে এবং ফলাও করে খবর তৈরি করে প্রচার করা হয়েছে। দাপ্তরিকভাবে চিঠি পাওয়ার পর আমিও এটা জেনেছি। এই বিষয়ে আমার পরিষদ থেকে সংশ্লিষ্ট সকলেই ও সচেতন নাগরিক এই অসত্য ও মিথ্যার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে বলে। ০৪/০৫/২০২০ ইং তারিখে আমাকে হেয় করার ঘৃণ্য মানসে কয়েকজন জেলা পরিষদ সদস্য প্রভাবশালী ব্যক্তির প্ররোচনায় দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান বরাবর আমার বিরুদ্ধে ‘দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতা’র অভিযোগ এনে চিঠি দাখিল করেছিলেন। এই অভিযোগ পেশ করার সময় কিছু সদস্য স্বাক্ষর প্রদানে অসহায়ত্ব প্রকাশ করলে রাজবাড়ী এবং পাংশার ২ জন প্রভাবশালী নেতা তাদেরকে দলীয়ভাবে বহিস্কারসহ নানাবিধ ভয়ভীতি প্রদর্শণ করে আমার বিরুদ্ধে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করে ছিলো। সময় হলে তাদের নামও সামনে আসবে। যারা জোড়পূর্বকভাবে আমার সম্মানীত সদস্যগণকে স্বাক্ষর করিয়েছে মূলত তারাই ঘুষ ও দুর্নীতি করে থাকে। পরবর্তীতে জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষ সদস্যগণের আনিত অভিযোগের বিষয়ে অভিযোগকারীদেরকে সার্বিকভাবে অবহিত করলে অনেকেরই বিবেকের দ্বার খুলে যায়। অতঃপর ঐ সদস্যগণের মধ্যে ১৩নং ওয়ার্ড সদস্য (অব্যাহতি প্রাপ্ত) আহমদ হোসেন এবং ১১নং ওয়ার্ডের সদস্য মোঃ খায়রুল ইসলাম খায়ের বাদে সকল সদস্য স্বাক্ষর ও সীল প্রদান করতঃ স্থানীয় সরকারের ঢাকা বিভাগীয় পরিচালক (যুগ্ম-সচিব) বরাবর অভিযোগ প্রত্যাহার করে চিঠি প্রদান করেন। এছাড়াও জেলা পরিষদের ০৭/০১২/২০২১ ইং তারিখের সভায় এ সংক্রান্ত এজেন্ডায় দাখিলকৃত অভিযোগ প্রত্যাহার করার চিঠি প্রদান করা হয়েছে মর্মে উল্লেখ করে সদস্য রাসেদুল হক অমি’র প্রস্তাবে কার্য-বিবরনী সম্পন্ন হয়েছে। সম্মানিত সকল সদস্যগণ নিজের ভূল স্বীকার করে বর্তমানে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের মধ্য দিয়ে স্ব স্ব দায়িত্ব সম্মানের সহিত পালন করে যাচ্ছেন। অতঃপর তাদের অভিযোগকৃত আবেদন প্রত্যাহার করে নিয়েছে। আমরা একটা বিষয় জানি যে, সাধারণত দুদক কর্তৃপক্ষ যে কোন অভিযোগের বিপরীতে তাদের রুটিন ওয়ার্ক অনুসারেই নিয়মিত তদারকি করে থাকেন। তারই ধারাবাহিকতায় যে তদন্তটা ২৩/০১/২০২২ ইং তারিখে সম্পন্ন করার কথা ছিলো সেই তদন্তের তারিখ পরিবর্তন হয়েছে।

কিন্তু, এহেন বিষয় নিয়ে মহল বিশেষের এত উচ্ছ্বসিত হয়ে আত্মহারা হওয়ার কিছু আছে বলে আমি মনে করি না। জ্ঞানীরা বলে থাকেন “কাউকে ছোট করে নিজে বড় হওয়া যায়না”। আপনারা সবাই অবগত আছেন যে আমি নিজেই দীর্ঘ দিন যাবৎ এ জেলাতে ঘুষ-দুর্নীতির বিরুদ্ধে (মাননীয় প্রধানমন্ত্রী’র ঘুষ-দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের আলোকে) একজন আজীবন সংগ্রামী মানুষ। এ জেলার সকল ক্ষেত্রের উন্নয়নে দিবা-রাত্রি আমি একজন উন্নয়নকর্মী। একটা প্রতিষ্ঠান বা একটা সামাজিক সংস্কারের নতুনত্ব অভিধ্যান তৈরি করা কোন ক্রমেই সহজ করে ভাবার বিষয় নয়। অনেক ত্যাগ সময় অর্থ ও শ্রমের বিনিময়ে তৈরি হয় নতুনত্ব। আমি সবসময় চেষ্টা করে থাকি নিজেকে সার্বক্ষনিক ভাবে জনসেবার কাজে স্বচ্ছতার সহিত জড়িয়ে রাখতে।

এ জেলায় প্রায় ১১ (এগার) লক্ষ মানুষ বসবাস করেন। মোট ৫ (পাঁচ) টি উপজেলা  ৩টি পৌরসভা ৪২টি ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রত্যকটি জায়গায় আমার উন্নয়নের ছোঁয়া বিদ্যমান। প্রতিটি জায়গায় অসহায় মুক্তিযোদ্ধা থেকে শুরু করে সকলের পাশে থেকে কাজ করে যাচ্ছি। দলের ঊর্ধ্বে থেকে সকলকে নিয়েই আমার উন্নয়ন কর্মকান্ড পরিচালনা। যার ফলশ্রুতিতে এ জেলার প্রায় ৭০০ জন বেকার শিক্ষিত যুবকের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সক্ষম হয়েছি। ইহাতে কোন ঘুষ ও দুর্নীতির আশ্রয় নেইনি।

আমি আমার ১৪/০৫/২০২০ ইং তারিখের এই ঘটনা সংক্রান্ত বিবৃতি-৩ এ বলেছিলাম যে, “আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমানিত না হলে আমার ব্যক্তি সুনাম ক্ষুন্ন এবং এ জেলার অসহায় মানুষের উন্নয়নের আশা আকাঙ্খার ভরসা স্থল জেলা পরিষদ’র উন্নয়ন কর্মসূচি স্থবির করার বৃথা চেষ্টাকারীরা এর জন্য দায়ী থাকবে”। ৩০ লক্ষ শহীদের আত্মত্যাগে মহান মুক্তিযুদ্ধে অর্জিত আমাদের এই মাতৃভূমি। দিনের পরিবর্তনে আজকের বিশ্ব পরিক্রমায় বাংলাদেশের বহুমাত্রিক পরিবর্তন লক্ষ্যনীয়। এই পরিবর্তনের কান্ডারী আমার প্রিয় নেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা।

আমাকে সবাই বোঝেন এবং জানেন। যতদিন বেঁচে আছি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র জিরো টলারেন্স নীতিতে নিজেকে সমুন্নত রাখবো। আমি একজন জীবনযোদ্ধা। মুক্তি সংগ্রামে যুদ্ধ করেছি স্বাধীনতার জন্য আর এখন যুদ্ধ করে চলেছি অসহায় মানুষের অর্থনৈতিক ও সামাজিক মুক্তির জন্য। আমি প্রস্তুত আছি যেকোন পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য। আল্লাহ নিশ্চয়ই আমাদের সহায় হবেন।

পরিশেষে, রাজবাড়ী জেলাবাসীর সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করি। জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু। জয় হোক বাংলার মেহনতি মানুষের।

সবিনয় নিবেদক

বীর মুক্তিযোদ্ধা ফকীর আব্দুল জব্বার

চেয়ারম্যান

জেলা পরিষদ, রাজবাড়ী।

Print Friendly, PDF & Email

     একই ধরনের আরও কিছু খবর....

Top Posts & Pages

অপহরণের ১৭দিন পর কলেজছাত্রী উদ্ধার আশুলিয়া থেকে, গ্রেপ্তার ১
শিশু ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার চল্লিশোর্ধ বকুল
কালুখালীতে গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ, পুলিশ হেফাজতে স্বামী
খাদ্য নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ নিয়ে আমরা এগিয়ে চলেছি  - রাজবাড়ীতে কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক
বালিয়াকান্দিতে ভ্রাম্যমাণ আদালতে মাদক ব্যবসায়ীর কারাদন্ড