Dhaka ০৬:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ মে ২০২৪, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

সাড়ে তিনশ শ্রমিকের বেতন বকেয়া রেখে পালিয়েছে মিল মালিক

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশের সময় : ০৯:২৬:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ এপ্রিল ২০২৪
  • / ১০৪২ জন সংবাদটি পড়েছেন

সাড়ে তিনশ শ্রমিক কর্মচারীর তিন সপ্তাহের বেতন বকেয়া রেখে মিল বন্ধ করে পালিয়েছে রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার রূপপুর এলাকায় অবস্থিত কিং জুট মিলস এর মালিক পক্ষ। ঈদের আগ মুহূর্তে এমন ঘটনায় চরম হতাশ ও বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে মিলের শ্রমিক কর্মচারীরা। মিলের মালিক মোকলেছুর রহমান রাজবাড়ী সদর উপজেলা এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।

মিল সূত্র জানায়, এই মিলটিতে সাড়ে তিনশ শ্রমিক কাজ করে। শ্রমিকরা জানান, প্রতিদিন ২৯০ টাকা হারে প্রতি সপ্তাহে তাদের বেতন দেওয়া হতো। গত তিন সপ্তাহ যাবৎ তাদের বেতন দেওয়া হয়নি। ২৯০ টাকা হারে তিন সপ্তাহের মোট বেতন বকেয়া আছে ৬ হাজার ৯০ টাকা। গত বৃহস্পতিবার তাদের বকেয়া বেতন পরিশোধ করার কথা ছিল। ওইদিন জানিয়েছিল শুক্রবার দেবে। একারণে শুক্রবার বন্ধের দিনেও তারা এসেছিলেন। শুক্রবার বলেছিল সোমবার বকেয়া বেতনের সাথে বোনাসও দেবে। সোমবার মিলে গিয়ে দেখেন তালাবন্ধ। মালিকপক্ষেরও কেউ নেই।

কালুখালী উপজেলার বোয়ালিয়া গ্রামের শ্রমিক মিনারা বেগম জানান, তার স্বামী অসুস্থ। মিলে চাকরি করে তিনি সংসার চালান। ঈদের আগে বেতন না দেওয়ায় তাকে চরম কষ্টে পড়তে হলো। ছেলে মেয়েকে কিছু দিতে চেয়েছিলেন। সেটা আর পারবেন না। ঈদে ভালো মন্দ কিছুৃও রান্না করতে পারবেন না।

শ্রমিক লাবনী আক্তার ও বিলকিস বেগম জানান, মিল কর্তৃপক্ষ তাদের সাথে অন্যায় আচরণ করেছে। দুদিন পর ঈদ। এখন যদি তারা বেতন ভাতা ও ঈদ বোনাস না পান তাহলে তাদের ঈদ মাটি হয়ে যাবে। পরিবারের সদস্যদের জন্য কেনা হবেনা নতুন জামা, সেমাই চিনি কোনো কিছু।

কালুখালী থানার ওসি মো. আলমগীর হুসাইন জানান, বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। ঈদের আগে বেতন না দিয়ে মিল কর্তৃপক্ষ চরম অন্যায় করেছেন। শ্রমিকদের বিক্ষোভের কথা শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের বুঝিয়ে শান্ত করা হয়। পরিস্থিতি যাতে স্বাভাবিক থাকে এজন্য সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। মালিক মোকলেছুর রহমানকে পাওয়া যাচ্ছে না। তার ফোন বন্ধ।

কালুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহুয়া আফরোজ বলেন, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। বেতন না পেয়ে শ্রমিকরা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে। মালিকপক্ষ এটা ঠিক করেনি। কিন্তু মালিককে পাওয়া যাচ্ছে না। তার মোবাইল ফোনটিও বন্ধ। এখানে তাদের করণীয় তেমন কিছু নেই। তবে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তারা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

এব্যাপারে কিং জুট মিলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোকলেছুর রহমানের মোবাইল ফোনে একাধিবার কল দেওয়া হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়। এসএমএস পাঠিয়েও কোনো সাড়া মেলেনি।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

সাড়ে তিনশ শ্রমিকের বেতন বকেয়া রেখে পালিয়েছে মিল মালিক

প্রকাশের সময় : ০৯:২৬:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ এপ্রিল ২০২৪

সাড়ে তিনশ শ্রমিক কর্মচারীর তিন সপ্তাহের বেতন বকেয়া রেখে মিল বন্ধ করে পালিয়েছে রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার রূপপুর এলাকায় অবস্থিত কিং জুট মিলস এর মালিক পক্ষ। ঈদের আগ মুহূর্তে এমন ঘটনায় চরম হতাশ ও বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে মিলের শ্রমিক কর্মচারীরা। মিলের মালিক মোকলেছুর রহমান রাজবাড়ী সদর উপজেলা এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।

মিল সূত্র জানায়, এই মিলটিতে সাড়ে তিনশ শ্রমিক কাজ করে। শ্রমিকরা জানান, প্রতিদিন ২৯০ টাকা হারে প্রতি সপ্তাহে তাদের বেতন দেওয়া হতো। গত তিন সপ্তাহ যাবৎ তাদের বেতন দেওয়া হয়নি। ২৯০ টাকা হারে তিন সপ্তাহের মোট বেতন বকেয়া আছে ৬ হাজার ৯০ টাকা। গত বৃহস্পতিবার তাদের বকেয়া বেতন পরিশোধ করার কথা ছিল। ওইদিন জানিয়েছিল শুক্রবার দেবে। একারণে শুক্রবার বন্ধের দিনেও তারা এসেছিলেন। শুক্রবার বলেছিল সোমবার বকেয়া বেতনের সাথে বোনাসও দেবে। সোমবার মিলে গিয়ে দেখেন তালাবন্ধ। মালিকপক্ষেরও কেউ নেই।

কালুখালী উপজেলার বোয়ালিয়া গ্রামের শ্রমিক মিনারা বেগম জানান, তার স্বামী অসুস্থ। মিলে চাকরি করে তিনি সংসার চালান। ঈদের আগে বেতন না দেওয়ায় তাকে চরম কষ্টে পড়তে হলো। ছেলে মেয়েকে কিছু দিতে চেয়েছিলেন। সেটা আর পারবেন না। ঈদে ভালো মন্দ কিছুৃও রান্না করতে পারবেন না।

শ্রমিক লাবনী আক্তার ও বিলকিস বেগম জানান, মিল কর্তৃপক্ষ তাদের সাথে অন্যায় আচরণ করেছে। দুদিন পর ঈদ। এখন যদি তারা বেতন ভাতা ও ঈদ বোনাস না পান তাহলে তাদের ঈদ মাটি হয়ে যাবে। পরিবারের সদস্যদের জন্য কেনা হবেনা নতুন জামা, সেমাই চিনি কোনো কিছু।

কালুখালী থানার ওসি মো. আলমগীর হুসাইন জানান, বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। ঈদের আগে বেতন না দিয়ে মিল কর্তৃপক্ষ চরম অন্যায় করেছেন। শ্রমিকদের বিক্ষোভের কথা শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের বুঝিয়ে শান্ত করা হয়। পরিস্থিতি যাতে স্বাভাবিক থাকে এজন্য সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। মালিক মোকলেছুর রহমানকে পাওয়া যাচ্ছে না। তার ফোন বন্ধ।

কালুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহুয়া আফরোজ বলেন, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। বেতন না পেয়ে শ্রমিকরা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে। মালিকপক্ষ এটা ঠিক করেনি। কিন্তু মালিককে পাওয়া যাচ্ছে না। তার মোবাইল ফোনটিও বন্ধ। এখানে তাদের করণীয় তেমন কিছু নেই। তবে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তারা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

এব্যাপারে কিং জুট মিলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোকলেছুর রহমানের মোবাইল ফোনে একাধিবার কল দেওয়া হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়। এসএমএস পাঠিয়েও কোনো সাড়া মেলেনি।